
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ফায়ার সার্ভিস, সেনাবাহিনীর তৎপরতায় আমাজন বনাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া আগুন কিছুটা কমানো গেলেও ভারি বৃষ্টিপাতের আগ পর্যন্ত আগুন পুরোপুরি নিভবে না বলে জানিয়েছেন ব্রাজিলের প্রকৃতি বিশেষজ্ঞরা। বৃষ্টি-ই এখন ভরসা।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে মঙ্গলবার বলা হয়েছে, বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, আমাজনের আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি সেনা সদস্যদের নামানো, যুদ্ধবিমান দিয়ে পানি ছিটানোর কার্যক্রম স্বল্পমাত্রায় উপযোগী হবে। ব্রাজিল সরকারের এই কার্যক্রমে অল্প আগুন নেভানো ও আগুন ছড়িয়ে পড়া কিছুটা ঠেকানো গেলেও সার্বিকভাবে ততটা কার্যকর হবে না। এক্ষেত্রে বৃষ্টিই ‘একমাত্র ভরসা’ বলে উল্লেখ করেছেন তারা।
কিন্তু আবহাওয়া পূর্বাভাস বলছে, আগামী সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহের আগে ভারি বৃষ্টিপাতের তেমন সম্ভাবনা নেই।
ব্রাজিলের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইনপের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে রেকর্ডসংখ্যক আগুন জ্বলছে, যার অধিকাংশই আমাজন বনাঞ্চল এলাকায়। আমাজনের দুর্দশার জন্য পরিবেশবাদীরা ব্রাজিল সরকারকেই দুষছে।
এদিকে আমাজনের বলিভিয়া ও প্যারাগুয়ে অঞ্চলেও আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। আমাজনের অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে ব্রাজিল সরকার কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না- বিশ্বব্যাপী এমন সমালোচনার মুখে ফ্রান্স ও আয়ারল্যান্ড দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলোর সঙ্গে একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি অনুমোদন না করার হুমকিও দিয়েছে। ব্রাজিল ছাড়াও ওই চুক্তিতে আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ে ও প্যারাগুয়ে আছে।
উল্লেখ্য, বিশ্বের সবচেয়ে বড় চিরহরিৎ বনাঞ্চল আমাজন বিপুল পরিমাণ কার্বন সঞ্চিত রেখে বৈশ্বিক উষ্ণতার গতি খানিকটা শ্লথ রেখেছে।
৩০ লাখেরও বেশি প্রজাতি ও উদ্ভিদের পাশাপাশি ১০ লাখ আদিবাসী মানুষের এ আবাসস্থলটি ‘পৃথিবীর ফুসফুস’ নামেও পরিচিত। পৃথিবীতে মোট অক্সিজেনের প্রায় ২০ শতাংশই সরবরাহ করে আমাজন। প্রতি বছরই দাবানলের ঘটনা ঘটে ব্রাজিলে। তবে এবারের মাত্রা উল্লেখযোগ্য রকমের বেশি, কয়েকদিন ধরে দাউ দাউ করে জ্বলছে এই অরণ্য।
