প্রথম আলোয় বাঙালি নারী বিদ্বেষ, সমালোচিত হচ্ছেন অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদ

ফাতেহ ডেস্ক

সৌন্দর্যের কি নির্দিষ্ট কোন কাঠামো আছে? সৌন্দর্যের সঙ্গে কি আছে যৌনাবেদনের কোন সম্পর্ক? প্রথম আলোয় প্রকাশিত ‘শাড়ি’ নিবন্ধে এমনি এক সম্পর্ক দেখাতে চেয়েছেন অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদ। বাঙালি নারী সুন্দর নয়, কিন্তু শাড়ি পরলে যে যৌন আবেদন তৈরি হয়, এর মধ্যে তিনি সৌন্দর্য খুঁজে পেয়েছেন।

শাড়ি তার কাছে সবচেয়ে যৌনাবেদনপূর্ণ পোশাক। তিনি লিখেছেন, ‘শাড়ি পৃথিবীর সবচেয়ে যৌনাবেদনপূর্ণ অথচ শালীন পোশাক। শুধু শালীন নয়, রুচিসম্পন্ন, সুস্মিত ও কারুকার্যময় পোশাক। নারী শরীরকে যতটুকু অনাবৃত রাখলে তা সবচেয়ে রহস্যচকিত হয়ে ওঠে, পোশাক হিসেবে শাড়ি তারই উপমা।’ শুধু এতটুকুই নয়, তার চোখে আরেকটু খোলামেলা এই যৌনাবেদন, ‘আধুনিক শাড়ি পরায় নারীর উঁচু-নিচু ঢেউগুলো এমন অনবদ্যভাবে ফুটে ওঠে, যা নারীকে করে তোলে একই সঙ্গে রমণীয় ও অপরূপ। শাড়ি তার রূপের শরীরে বইয়ে দেয় এক অলৌকিক বিদ্যুৎ হিল্লোল।’

একজন অধ্যাপকের কলমে এমন রগরগে ভাষা পড়ে উঠতে অনভ্যস্ত পাঠক। বাঙালি নারীদের সৌন্দর্যের খুঁত ধরেছেন তিনি। বলেছেন, ‘বাঙালি সৌন্দর্যের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা: আমার ধারণা ‘উচ্চতা’। সবচেয়ে কম যে উচ্চতা থাকলে মানুষকে সহজে সুন্দর মনে হয়—যেমন পুরুষের ৫ ফুট ৯ ইঞ্চি ও মেয়েদের ৫ ফুট ৫ বা ৬ ইঞ্চি—আমাদের গড় উচ্চতা তার চেয়ে অন্তত ২–৩ ইঞ্চি কম। দৈহিক সৌন্দর্য ছেলেদের বড় ব্যাপার নয় বলে এ নিয়েও তারা কোনোমতে পার পেয়ে যায়। কিন্তু আটকে যায় মেয়েরা। আমার ধারণা, একটা মেয়ের উচ্চতা অন্তত ৫ ফুট ৪–এর কম হলে তার শরীরে নারীজনিত গীতিময় ভঙ্গি পুরোপুরি ফুটে ওঠে না। এরপর তাদের দৈর্ঘ্য ৫ ফুট ৫, ৬ বা কিছু পরিমাণে ৭ ইঞ্চি পর্যন্ত উঠলে তা ক্রমাগত অলীকতর হয়ে উঠতে থাকে।’

দেহের উচ্চতা দিয়ে নারীর সৌন্দর্য মেপেছেন তিনি। ‘উচ্চতা’ কম হওয়াকেই বলেছেন বাঙালি সৌন্দর্যের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা। এবং এই দুর্বলতা কাটাতে সবচে বড় মেকাপ হলো তার ভাষায় পৃথিবীর সবচেয়ে যৌনাবেদনপূর্ণ শাড়ি।

নিবন্ধের শেষে আরও রগরগে ভাষা, ‘শাড়ি একটা রহস্যময় পোশাক। নারী দেহকে কতটা প্রদর্শন করলে আর কতটা অপ্রকাশিত রাখলে তা শারীরিক মোহ বজায় রেখেও দর্শকের চোখে অনিন্দ্য হয়ে উঠবে, তা পোশাকটি যেন সহজাতভাবেই জানে। শাড়ি ছাড়া এমন জাদুকরি রহস্য আর পরস্পরবিরোধী মাধুরী আছে কোন পোশাকে? শরীর নিয়ে এমন শিল্পিত খেলা আর কে খেলতে পারে? সালোয়ার-কামিজ, টাইট জিনস, মিনি স্কার্ট কি এর সমকক্ষ?’

দেশে যখন বাড়ছে ধর্ষণ, বলা হচ্ছে পোষাক এর জন্য দায়ী না, তখন এই পোষাক দিয়েই কুৎসিত ভাষায় বাঙালি নারীকে যৌনাবেদনপূর্ণ করে তুললেন তিনি। একজন অধ্যাপকের কলমে এমন রগরগে ভাষা পড়ে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন অনেক পাঠক। উত্তপ্ত হয়ে উঠছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। বাঙালি নারীর সাধারণ সৌন্দর্যের দিকে না তাকিয়ে যৌনাবেদনপূর্ণ সৌন্দর্যের দিকে তাকিয়েছেন তিনি। বদলে দিয়েছেন সৌন্দর্যের আমূল সংজ্ঞা।

আশফাক হোসাইন লিখেছেন, ‘আমার বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে।’ আরেকজন লিখেছেন , ‘ এটা যৌন সুড়সুড়িমূলক লেখা।’

আরএইচ/

আগের সংবাদআগামীতে মানুষের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে মানুষের স্বল্পতা : জ্যাক মা ও ইলন মাস্ক
পরবর্তি সংবাদআসাম এনআরসি : উৎকণ্ঠার অবসান নাকি সূত্রপাত?