
আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
হিজাবের বিরুদ্ধে আাদাজল খেয়ে মাঠে নেমেছে ফ্রান্সের মিডিয়া। শুধু গত সপ্তাহে ফ্রান্সের মিডিয়ায় প্রায় ৮৫টি বিতর্ক অনুষ্ঠান হয়েছে হিজাব নিয়ে। সবচে আশ্চর্যের বিষয় হলো, ৮৫টি বিতর্ক অনুষ্ঠানের একটিতেও হিজাবধারী কোনো মুসলিম মহিলাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।
প্রতিটি টকশোতেই ফ্রান্সের রাজনীতিবিদ এবং সাংবাদিকরা হিজাবকে অভিহিত করেছে আইএসআই এবং এসএস নাজির ইউনিফর্মের সাথে। তাদের দাবি, আপনি হিজাব বাসায় পরতে পারেন, অফিসে পরতে পারেন, তবে কোনো পাবলিক প্লেসে হিজাব পরতে পারবেন না।
সম্প্রতি ফ্রান্সের একটি হলে বাচ্চাকে নিয়ে প্রবেশ করে হিজাব পরিহিত একজন মুসলিম মহিলা। সেখানে তাকে হিজাব খুলে ফেলতে জোর করা হয়। মহিলার কোলে থাকা বাচ্চাটি তখন কেঁদে উঠে।
টকশোতে অংশ নেয়া এক ‘সুশীল’ উপস্থাপককে বলেন, ‘এই হিজাব আইএসআইয়ের মহিলাদের হিজাবের মতোই। উপস্থাপক পাল্টা প্রশ্ন ছুঁড়েন, ‘বাচ্চা কোলে নেয়া এই মাকে আপনি আইএসআইয়ের সাথে তুলনা করছেন? তখন উত্তরে ‘সুশীল’ বলেন, ‘এই মহিলার হিজাব একটি প্রোপাগান্ডা। আইএসএসের মাধ্যমে এই হিজাব পুরো বিশ্বে ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে।’ উপস্থাপক তখন আরেকটি প্রশ্নের অবতারণা করেন। তিনি বলেন, ’কিন্তু আপনি এই মহিলাকে কেন টেরোরিস্টদের সাথে তুলনা করেছেন?’ উত্তরে ‘সুশীল’ বলেন, ‘আমি বলছি—এই হিজাব পরিহিত মহিলা ইসলামিকীকরণের একটি কর্মতৎপর এজেন্ট।’ এ সময় টকশোতে অংশ নেয়া অন্যদের নিউজিল্যান্ডে মুসলিম অভিবাসীদের ওপর ক্ষোভ ঝাড়তে দেখা যায়।
শুধু হিজাব নাকি বোরকাও তাদের ক্ষোভের জায়গা এমন এক প্রশ্নের জবাবে আরেক টকশোতে অংশ নেয়া এক ‘সুশীল’ বলেন, ‘হিজাবের সঙ্গে বোরকা হোক কিংবা আবায়া, এর আওতায় পড়ে।’
পশ্চিমা বিশ্বে বাতাসের সঙ্গে ছড়িয়ে পড়ছে ইসলামফোবিয়া। সেই ফোবিয়া আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে মিডিয়াগুলো। গত সপ্তাহে ফ্রান্সের মিডিয়া দেখলেই তা স্পষ্ট হয়ে যায়।
রাকিব
