আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
ভারতের অযোধ্যার বাবরি মসজিদের জায়গা নিয়ে মামলার রায়ের পুনর্বিবেচনার (রিভিউ পিটিশন) আবেদন জানিয়ে করা ১৮টি মামলাই গতকাল খারিজ করে দিয়েছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। এরই মধ্য দিয়ে ভারতীয় মুসলিমদের মনে বাবরি মসজিদ ফিরে পাওয়ার শেষ আশাটুকুও নিভে গেল। ১৮টি মামলার মধ্যে একটি করেছিল জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ।
পিটিশন খারিজের পর বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের প্রেসিডেন্ট মাওলানা আরশাদ মাদানি বলেন, আমরা আফসোসের সঙ্গে জানাচ্ছি, আমাদের পিটিশন খারিজ করে দিয়েছে আদালত। আমরা জানি, সব পিটিশনই খারিজ হয় না। কোনো কোনো পিটিশন খারিজ হয়ে যায়। যেহেতু এ মামলাটির শুরু শেষ আদালত ভিন্নভাবে দেখছে, তাই আমাদের পিটিশন খারিজ করে দিয়েছে।
তিনি বলেন, তারা এটাও মানে যে, মসজিদের জায়গায় মন্দির তৈরি করা হয়েছে, কারণ আমাদের শক্তিশালী দলিল প্রমাণ আছে। আদালত এটাও মেনে নিয়েছে, মসজিদে মূর্তি রেখেছে সে দোষী, যে মসজিদ ভেঙ্গেছে তারাও দোষী, এরপরও আদলত একটি মতাদর্শকে সম্মান জানাতে এ ফায়সালা দিয়েছে। সারা দুনিয়া এ রায়ের ব্যাপারে বলছে , এ রায় আইনের উপর দাঁড়িয়ে দেয়া হয়নি বরং এ রায় দেশের একটি জাতিগত আদর্শকে শক্তিশালী করতে দেয়া হয়েছে।
আরশাদ মাদানি বলেন, আমরা এতকিছুর পরও আইনের উপর আশাবাদী, এ বিষয়টি তারা দ্বিতীয়বার চিন্তা করবে। পিটিশন খারিজ করা দু:খজনক, তারপরও আমাদের দেশ আমাদের আদালত, আমাদের সুপ্রিমকোর্ট, আমরা আশা করি বিষয়টি আবারো ভেবে দেখবে উচ্চ আদালত।
প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার (১২ ডিসেম্বর) প্রধান বিচারপতি শরদ অরবিন্দ বোবদের নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের এক বেঞ্চের চেম্বারে বাবরি মসজিদ ইস্যুতে আদালতে উত্থাপিত সব আবেদন খারিজ করা হয়। ভারতের সর্বোচ্চ আদালতের ওই রায় পুনর্বিবেচনার জন্য সুপ্রিম কোর্টে আবেদন পড়ে ১৮টি।
আবেদনকারীদের মধ্যে মূল মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে ৯টি আবেদন পড়ে। আর ৯টি আবেদন করে ৪০ মানবাধিকারকর্মীর তৃতীয়পক্ষ। মামলার মূল দুই পক্ষ হলো অল ইন্ডিয়া মুসলিমস পারসোনাল ল বোর্ড (এআইএমপিএলবি) ও নির্মোহি আখড়া।
উল্লেখ্য, গত ৯ নভেম্বর অযোধ্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশে বলা হয়, বিতর্কিত ২.৭৭ একর জমিতে গড়ে উঠবে রাম মন্দির। আর এর পরিবর্তে অযোধ্যার যেকোনও স্থানে মসজিদের জন্য বরাদ্দ করা হবে ৫ একর জমি।
