বিএসএফের আপত্তিতে বন্ধ আখাউড়া ইমিগ্রেশন ভবন নির্মাণের কাজ

বিএসএফের আপত্তিতে বন্ধ আখাউড়া ইমিগ্রেশন ভবন নির্মাণের কাজ

ফাতেহ ডেস্ক :

ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন চেকপেস্টের নতুন ইমিগ্রেশন ভবনের নকশা নিয়ে আপত্তি তুলেছে। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মাধ্যমে নিজেদের আপত্তির কথা জানিয়ে নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখতে বলেছে বিএসএফ।

বিষয়টি সুরাহার জন্য পূর্বের নকশায় পরিবর্তন এনেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তবে বিষয়টি নিয়ে এখনও বিএসএফ কোনো সিদ্ধান্ত না দেয়ায় ইমিগ্রেশন ভবনের নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। এ নিয়ে দুই দফায় বিএসএফের আপত্তির কারণে কাজ বন্ধ হলো।

জানা গেছে, প্রতিদিন আখাউড়া আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে এক থেকে দেড় হাজার যাত্রী ভারত-বাংলাদেশে যাতায়াত করেন। এই যাত্রী সংখ্যার বিপরীতে বর্তমান ইমিগ্রেশন ভবনটি একেবারেই ছোট এবং জরাজীর্ণ। বারবার সংস্কার করে কোনো রকমে টিকে আছে ভবনটি। টানা বৃষ্টি হলে হাঁটুপানি জমে ইমিগ্রেশন ভবনের সামনে। তখন যাত্রীদের দুর্ভোগের অন্ত থাকে না। এছাড়াও বর্তমান ভবনটিতে যাত্রীদের জন্য নেই পর্যাপ্ত টয়লেট ও বিশুদ্ধ খাবার পানির ব্যবস্থা। এর ফলে যাত্রীদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল প্রয়োজনীয় সকল সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত একটি আধুনিক ইমিগ্রেশন ভবন নির্মাণ।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নতুন ইমিগ্রেশন ভবনের নির্মাণ কাজের জন্য ২০১৬ সালে দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। নির্মাণ কাজটি দেয়া হয় মেসার্স বিজনেস সিন্ডিকেট ইন্টারন্যাশনাল নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে। ছয়তলা বিশিষ্ট ভবনের দুইতলা পর্যন্ত করতে ৬ কোটি ২৫ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্মাণ সামগ্রী এনে জড়ো করার পর ২০১৭ সালের মার্চ মাসে বিজিবির মাধ্যমে বিএসএফ নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখার জন্য বলে। প্রায় তিন বছর বন্ধ থাকার পর জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার তত্ত্বাবধানে গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসের শেষ দিকে পুনরায় নির্মাণ কাজ শুরু করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি। পাইলিংয়ের কাজ চলার মধ্যেই নকশা নিয়ে আপত্তি তুলে আবারও নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখতে বলেছে বিএসএফ।

বিজিবির মাধ্যমে বিএসএফ জানিয়েছে, ভূমি থেকে ৩৫ ফুটের বেশি উচ্চতার ভবন করা যাবে না। এর ফলে গত ডিসেম্বর মাসের শেষ দিকে কাজ বন্ধ রাখতে বাধ্য হয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। দফায় দফায় কাজ বন্ধ রাখার কারণে চরম বিপাকে পড়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি। ইতোমধ্যে এই কাজের পেছনে দেড় কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির এক কর্মকর্তা।

আগের সংবাদবাগদাদে মার্কিন দূতাবাসের কাছে তিন দফা রকেট হামলা
পরবর্তি সংবাদমাদরাসা প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনা : নেই কোনো নীতিমালা