
ফাতেহ ডেস্ক
ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপিকে জেতানোর উদ্দেশে লোকসভা নির্বাচনের তারিখ পবিত্র রমজান মাসে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন আম-আদমি পার্টির নেতা আমানুতুল্লাহ খান। এ নিয়ে সরব হয়েছেন ভারতের অন্য মুসলিম নেতারাও।
আমানুতুল্লাহ খান বলেন, ‘এই নির্বাচনী তারিখ বিজেপির সুবিধা দেখে ঠিক করা হয়েছে। কারণ রোজা রেখে ভোটের লাইনে দাঁড়াতে পারবেন না অনেক মুসলিম। মুসলিমদের স্বার্থবিরোধী কাজের জন্য ইন্ধন যুগিয়েছে বিজেপি। মুসলিমরা ভোট দিতে না পারলে বিজেপির সুবিধা।’
নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্ত মুসলিম ভোটারদের ভাবাবেগকে আহত করেছে। রমজান মাসে সারাদিন রোজা রেখে ভোট দেওয়া বা ভোটের কাজ করা মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষদের জন্য কষ্টকর। সেটা মাথায় রাখেনি কমিশন। অবিবেচকের মতো রমজান মাসে ভোটের তারিখ নির্দিষ্ট করা হয়েছে বলে সমালোচনা করেছেন এই নেতা।
আমানুতুল্লাহ খানের মতো একই সুরে কথা বলেছেন ভারতের মাওলানা কালিদ রশিদ ফিরঙ্গি মাহলিও। তিনি বলেন নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্ত বদল করা উচিত। রমজান মাসে নির্বাচনের শেষ তিন দফার তারিখ পড়েছে। সেই তারিখ বদল করা উচিত বলে দাবি করেন তিনি।
তাঁর মতে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ ৬ই মে থেকে রোজা শুরু করবেন। তাহলে রোদে দাঁড়িয়ে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করে ভোট দেবেন কী করে। নির্বাচন কমিশনের এই বিষয়টি নিয়ে ভাবা উচিত ছিল।
পশ্চিমবঙ্গের কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্র রমজান মাসের মধ্যে ভোটের দিনগুলি বিবেচনা করার জন্য নির্বাচন কমিশনের কাছে আবেদন জানিয়েছেন। একই আবেদন জানিয়েছেন কলকাতার মেয়র ও তৃণমূল নেতা ফিরহাদ হাকিমও। তাঁর মতে পশ্চিমবঙ্গ, বিহার ও উত্তরপ্রদেশের মানুষদের জন্য সাত দফায় ভোট নিঃসন্দেহে কষ্টকর। বিশেষত মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষরা বেশি সমস্যায় পড়বেন।
রবিবার বিকেলে নয়াদিল্লির বিজ্ঞান ভবনে সাংবাদিক-বৈঠক করে নির্বাচনের দিন ঘোষণা করেন ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার সুনীল অরোরা। তিনি জানান, গোটা দেশে মোট সাত দফায় ভোট গ্রহণ হবে লোকসভা নির্বাচনে।
