
ফাতেহ ডেস্ক:
কাগজে কলমে তুরস্কের শতকরা ৯৯ ভাগ মানুষ মুসলমান। আর বিপ পুরোপুরি তুর্কি প্রকৌশলীদের মাধ্যমে তৈরি একটি অ্যাপ। সে হিসেবে মুসলমানদের অ্যাপ বলাই যায়। কিন্তু যদি ইসলামী মূল্যবোধ, বা ধর্মীয় রীতিনীতি অনুসারীদের বুঝানো হয়, তাহলে এই বিপের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোম্পানি এবং ব্যক্তিবর্গ সে হিসেবে কতটুকু ইসলামিক তা বলা কঠিন।
এ বিষয়ে বাংলাদেশের বংশোদ্ভূত তুর্কি সাংবাদিক সরোয়ার আলম বলেন, তুর্কসেল তুরস্কের একটি ইন কর্পোরেটেড কোম্পানি। তুরস্কের সবচেয়ে বড় মোবাইল সেবাদানকারী কোম্পানি। তুরস্ক ছাড়ও আরও ৮টি দেশে মোবাইল সেবাদান করে। ১৯৯৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কোম্পানিটির মালিক মেহমেত এমিন কারামেহমেত। তুরস্কের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধনী ব্যাক্তি। তুরস্কের হুররিয়াত পত্রিকার ২০০৪ সালে প্রকাশিত এক খবর অনুযায়ী এই কারামেহমেত আমেরিকার ইহুদি লবি সংগঠন দি জিউশ ইন্সিটিউট ফর ন্যাশনাল সেক্যুরিটি অফ আমেরিকা (JINSA) নামে একটি সংস্থার সাথে ঘনিষ্ঠ ভাবে কাজ করে। এমনকি তার সাথে জার্মান ভিত্তিক প্রভাবশালী ইহুদি পরিবার রথচাইল্ড ফ্যামিলির ঘনিষ্ঠতা এবং একত্রে ব্যবসার ইতিহাস আছে।
আনাদলু এজেন্সির এই চিফ রিপোর্টার বলেন, তুর্কসেলের আরেক প্রতিষ্ঠাতা মুরাত ভারগি এখন ফ্রান্সে বসবাস করছেন। তাদের হয় তো এখন এই ইহুদি গ্রুপগুলোর সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক নেই। যদিও তা অসম্ভব। কারণ বর্তমান এই বিশ্বায়নের যুগে আপনি সকলের সঙ্গে ব্যবসা করতে বাধ্য। আর তুরস্ক এমন এক ভৌগোলিক অবস্থানে আছে যেখানে ইহুদি, খ্রিস্টানদের সঙ্গে ব্যবসা ছাড়া আপনি রাতারাতি বড় হতে পারবেন না।
তিনি বলেন, বর্তমানে তুরস্কের সরকার কোম্পানিটির শতকরা ২৬.২ ভাগ সম্পত্তির মালিক। কারামেহমেতের কোম্পানি চুকুরোভা হোল্ডিং ১৩.৮১ শতাংশের মালিক। রাশিয়ার প্রাইভেট কোম্পানি আলফা গ্রুপের মালিকানায় আছে ১৩.২২ শতাংশ। আর বাকি ৪৮.৯৫ শতাংশ শেয়ার আছে তুরস্কের পুঁজিবাজারে। অর্থাৎ জনগণের মালিকানায়।
আনাদলু এজেন্সির চিফ রিপোর্টার সরোয়ার আলমের মতে, যে কোনো কিছু ব্যবহারের আগে যেন মুসলিম, খ্রিস্টান বা ইহুদি ট্যাগ লাগানো না হয়। মুক্তবাণিজ্যের এই বিশ্বে ব্যবসার ক্ষেত্রে লাভকে প্রাধান্য দেওয়া হয়, ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গিকে নয়।
সূত্র: যুগান্তর
