
ফাতেহ ডেস্ক
মুজিববর্ষ উপলক্ষে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরের বিরোধিতা না করে স্বাগত জানানো উচিত বলে মন্তব্য করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, যারা নরেন্দ্র মোদির আসা প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছেন, তারা ঠিক করছেন না। তাদের স্বাগত জানানো উচিত।
সোমবার সচিবালয়ে ওবায়দুল কাদেরের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে যান ভারতের পররাষ্ট্র সচিব হর্ষবর্ধন শ্রিংলা। সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন ওবায়দুল কাদের।
তিনি বলেন, মুজিববর্ষের অনুষ্ঠানে নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশে এলে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরো শক্তিশালী হবে। তার এই সফরে ১৮ মার্চ প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক থেকে দুই দেশের বিরোধপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
নরেন্দ্র মোদির সফর নিয়ে ভারতের কোনো পরামর্শ আছে কিনা জানতে চাইলে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, তা নিয়ে তারা কিছু বলেনি। তারা মনে করেন এ সফর ভালো হবে। বাংলাদেশের জনগণ ৭১ এর বন্ধনকে স্মরণ করে ভালোভাবে নেবে।
ভারতে যে রাজনৈতিক সহিংসতা চলছে এটা নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের রাজনৈতিক অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি ইতিমধ্যেই বলেছি, আমাদের প্রতিবেশীর ঘরে আগুন লাগলে পাশের ঘরে তার আঁচ অবশ্যই যায়।
কাদের বলেন, একথা তো আমি আরও আগেই বলেছি। আমাদের এখানে উদ্বেগ ছিল এবং এ নিয়ে প্রতিক্রিয়া ছিল। কিন্তু আমরা একটা বিষয়ে আনন্দিত ওখানে বিষয়টাকে একেবারে কমিউনালি দেখননি মানুষ। সেখানে মুসলমানরা যখন বিপদে পড়েছে আরেক হিন্দু মুসলমানদের রক্ষা করতে এগিয়ে এসেছে। জুমার নামাজের দিন হিন্দুরা পাহারা দিয়েছে ও মসজিদ পর্যন্ত রক্ষা করার জন্য এগিয়ে এসেছে। এটা কিন্তু পিপল টু পিপল কন্ট্রাক্টের ভালো দিক।
ভারতের বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইন নিয়ে চলমান সহিংসতা নিয়ে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব হর্ষবর্ধন শ্রিংলা বলেন, দিল্লির সাম্প্রতিক সহিংসতা পূর্বপরিকল্পিত। এটির তদন্ত চলছে। বর্তমান সরকার ভারতের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জন্য সহানুভূতিশীল।
শ্রিংলা বলেন, সাম্প্রতিক পরিস্থিতি দিয়ে ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক বিচার করলে চলবে না। সামাজিক মাধ্যমে কিছু বিদ্বেষ ছড়ানো হয়েছে। সরকার শক্ত হাতে তা নিয়ন্ত্রণ করছে। আশা করি এই পরিস্থিতি দু’দেশের সস্পর্কে প্রভাব ফেলবে না।
-এ
