
ৎআন্তর্জাতিক ডেস্ক
ভারতের নয়াদিল্লির প্রেস ক্লাব অব ইন্ডিয়ায় গত মঙ্গলবার আসামের জাতীয় নাগরিকপঞ্জি নিয়ে দু’টি বিপরীতমুখী সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘ইউনাইটেড এগেনস্ট হেট’ নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এনআরসি প্রক্রিয়ার আড়ালে থাকা অমানবিক দিক উন্মোচন করে দেশটির জনগণের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
‘ইউনাইটেড এগেনস্ট হেট’-এর সংবাদ সম্মেলনে এনআরসির অমানবিক দিকের কয়েকটি উদাহরণ তুলে ধরা হয়েছে। এ সময় এনআরসির চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হওয়ার পর আসাম সফর করে তৈরি করা ‘ডেমোক্রেসি আন্ডার ডিটেনশন : হররস অব এনআরসি ফ্রম আসাম’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।
সুপ্রিম কোর্টের প্রবীণ আইনজীবী সঞ্জয় হোগড়ে, মানবাধিকার কর্মী রবিন নায়ার ও সাংবাদিক প্রশান্ত ট্যান্ডন তাদের সাম্প্রতিক আসাম সফরের অভিজ্ঞতা সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন। তারা বলেন, আমরা সবাই জানি আমেরিকার পর বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহৎ ডিটেনশন ক্যাম্প নির্মাণ করা হচ্ছে আসামের গোয়ালপাড়ায়। সবচেয়ে আশ্চযর্জনক ঘটনা হচ্ছে, নির্মাণ কাজে নিযুক্ত কয়েকশ শ্রমিক সম্ভবত নিজেরাই জানে না যে, তারা যে ডিটেনশন ক্যাম্প নির্মাণ করছে, ভবিষ্যতে সেটাই হবে তাদের ঠিকানা।
ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং টিমের অন্যতম সদস্য নবীন খান বলেন, নির্মাণ কাজে জড়িত অধিকাংশ শ্রমিকের নাম এনআরসির চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। ভয়ের কারণে তারা সেটা মুখ ফুটে ঠিকাদারকে বলতেও পারছে না। কারণ মুখ খুললে যদি কাজ থেকে ছাঁটাই করা হয়। ডিটেনশন ক্যাম্প যারা নির্মাণ করছেন ভবিষ্যতে তারাই যদি সেই ক্যাম্পের বাসিন্দা হন, তাহলে এর থেকে পরিতাপের বিষয় আর কী হতে পারে?
এনআরসি ছুট লোকেরা যে বিদেশি ট্রাইব্যুনালে নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য আপিল করবেন সেই ট্রাইব্যুনালের সদস্যদের নিরপেক্ষতা ও কর্মপন্থা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে সংগঠনটি। ‘ইউনাইটেড এগেনস্ট হেট’-এর আশঙ্কা মাত্র ৮০ হাজার রুপি বেতন এবং একটি গাড়ির জন্য ট্রাইব্যুনালের সদস্যরা যত বেশি সংখ্যায় সম্ভব আবেদনকারীদের বিদেশি বলে রায় দেবে।
