
আন্তর্জতিক ডেস্ক:
হায়দারাবাদের সংসদ সদস্য আসাদউদ্দিন ওয়াইসির দল ‘অল ইন্ডিয়া ইত্তেহাদুল মুসলিমিন’ (এআইএমআইএম) বিহারে ৫ আসন জিতেছে। তাদের সঙ্গে ‘বড় দলগুলো অস্পৃশ্যের মতো আচরণ করলেও’ হাড্ডাহাড্ডি নির্বাচনী লড়াইয়ে একা লড়ে বিহারে জয়লাভ করেছেন তারা। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার।
বিহার ভোটের পরে ওয়াইসি এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আমরা রাজনীতি করার সময়ে ভুল থেকে নানারকম শিক্ষা নিই। বিহারে এই ভোটের আগেও আমাদের দলের সভাপতি প্রত্যেক দলের নেতাদের সঙ্গে দেখা করেছিলেন, কিন্তু কেউ আমাদের হাত ধরতে রাজি হয়নি। বড় দলগুলি যেন আমাদের সঙ্গে অস্পৃশ্যের মতো আচরণ করেছিল। আমাদের দলের প্রদেশ সভাপতি প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ মুসলিম নেতাদের সঙ্গেও দেখা করেছিলেন। কিন্তু কোনও কাজ হয়নি।
এই সাফল্যে ওয়াইসি খুশি হয়ে বলেন, বিহারের মানুষ ভোট দিয়ে আমাদের আশীর্বাদ করেছেন, তাদের কী ভাবে ধন্যবাদ দেবো জানি না। এটা আমাদের দলের জন্য খুব ভাল দিন। এই মহামারী পরিস্থিতিতেও যে মানুষ এগিয়ে এসেছেন, সেজন্য তাদের ধন্যবাদ।
বিহারে নির্বাচনী প্রচারের সময়ে আইমিম-কে বিজেপির ‘বি টিম’ বলে কটাক্ষ করেছিল কংগ্রেস। ওয়াইসি এ প্রসঙ্গে বলেন, ওরা ওদের হতাশা লুকোচ্ছে। ওরা হেরে গেলে ওয়াইসিকে দোষ দেবে। অথচ বিহারে আমাদের জার্নি শুরু হয়েছে মাত্র পাঁচ বছর আগেই। আমার ইতিহাস মানুষ জানে না। বারো-তেরো বছর বয়স থেকে শুনছি আমাদের বাড়ির সামনে এসে আরএসএস গুন্ডারা নোংরা স্লোগান দিচ্ছে, ওয়াইসি কবরে যাও কিংবা পাকিস্তানে। ভেতর থেকে এটা আমায় আরও শক্ত করে তুলেছে, প্রতিবাদ করে জেলে গিয়ে পুলিশের মারও খেয়েছি। কোনও শিসমহল থেকে আমি রাজনীতিতে আসিনি, কেউ আমার জন্য মখমলের কার্পেটও বিছিয়ে রাখেনি। ফলে কে কী বলল আমার কিচ্ছু যায় আসে না, আর ভোট-কাটুয়া বা বি-টিম পুরনো হয়ে গেছে; অক্সফোর্ড অভিধান ঘেঁটে বরং নতুন গালাগালি খুঁজতে বলব।
উল্লেখ্য, ওয়েইসি বিহারে একা না লড়ে মায়াবতীর বিএসপি, উপেন্দ্র কুশওয়াহার আরএলএসপি-র সঙ্গে জোট গড়েছিলেন। এই জোটই বিরোধী মহাগঠবন্ধনের ভোট কাটবে বলে আঁচ করা হয়। সেটাই হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে কম আসনে প্রার্থী দিয়ে ওয়েইসিই সবচেয়ে বেশি আসন জিতেছেন।
