
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ব্রিটেনের ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টির ৬৭ শতাংশ সদস্যের সমর্থন পেয়ে দলের নেতা নির্বাচিত হয়েছেন বরিস জনসন। বরিস জনসনের শিকড় তুরস্কে। তার প্র-পিতামহ অর্থাৎ তার দাদার বাবা আলী কামাল ছিলেন উসমানীয় খেলাফতের দায়িত্ব পালন করা সুলতান ৬ষ্ঠ মাহমুদের আমলে উজিরে আজম ফরিদ পাশার মন্ত্রীসভার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বিংশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে আলী কেমাল প্রথমে একজন সাংবাদিক ছিলেন। পরে রাজনীতিতে যোগ দেন। তুরস্কের অটোম্যান মন্ত্রিসভায় খুব কম সময়ের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হয়েছিলেন তিনি।
বাবার সূত্রে তার বংশের ইতিহাস জানতে, স্বজনদের সাথে দেখা করতে বরিস জনসন একবার তুরস্কে গিয়ে বেশ কিছুদিন ছিলেন। তার মুসলিম হেরিটেজের কথা মাঝেমধ্যেই প্রকাশ্যে বলেন বরিস জনসন। । জনসনের মাতা শার্লট ফচেট একজন চিত্রশিল্পী ছিলেন। তিনি ১৯৬৩ সালে স্ট্যানলিকে বিয়ে করেন এবং তার সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। পরের বছর ১৯৬৪ সালের ১৯ জুন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক শহরের ম্যানহাটনে জন্ম হয় বরিস জনসনের। সেই সূত্রে বরিস জনসনের ব্রিটেন ও আমেরিকা উভয় নাগরিকত্ব লাভ করেন। তার পিতা স্ট্যানলি জনসন সে সময়ে কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি শাস্ত্রে অধ্যয়নরত ছিলেন।
জনসন তার উচ্চাকাঙ্ক্ষা, সোনালী চুল, ফুলেলে কথোপকথন ও নীতিগত প্রক্রিয়ায় দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য পরিচিত। এছাড়াও বিশ্বে একজন প্রভাবশালী ও স্পষ্ট ইসলামি বিদ্বেষী হিসেবে একাধিকবার শিরোনাম হয়েছেন তিনি। ইসলাম সমন্ধে তার খোলামেলা অবস্থান বিভিন্ন সময়ের লেখালেখি থেকেই আন্দাজ করা যায়। গতবছরেও বোরকা পরা নারীকে ‘লেটারবক্স’, ‘ব্যাংক ডাকাত’ বলে বিদ্রূপ করেছেন তিনি।
লন্ডনের মেয়র আর পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা কট্টোর ইসলামোফোবিক বরিস জনসন তার ‘দ্য ড্রিম অব রোম’ বইয়ে সোজাসাপটা তিনি দাবি করেন, ’ইসলাম-ই মুসলিম দুনিয়ার পিছিয়ে পড়ার একমাত্র কারণ।’
‘And then came the Muslims’ প্রবন্ধে তিনি মুসলিম বিশ্বে মধ্যবিত্ত শ্রেণির উত্থান না হওয়া, মুক্তবাজার অর্থনীতির বিস্তার না ঘটা এবং গণতন্ত্রের বিকাশ না হওয়ার জন্যও ইসলামের উপর কামান দেগেছেন্ আরও বিভিন্ন লেখায় মুসলিম শাসনামলকে অনগ্রসরতা এবং রোমান – বাইজেন্টানাইন শাসনকে দুনিয়ার জন্য সর্বোচ্চ কল্যাণ ও উন্নতির ভিত্তি হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন। ফিলিস্তিন থেকে কাশ্মীর সর্বত্র মুসলিম দুনিয়া প্রসঙ্গে যে সমস্যা, সেটার জন্যও প্রকান্তরে ইসলামকেই দায়ী করেছেন।
চার্চিল একবার সবচে’ শক্তিশালী পশ্চাৎপদ, অধঃপতনশীল বস্তু হিসেবে ইসলামকে সাব্যস্ত করেছিলেন। বরিস জনসন এই উদ্ধৃতিকে নকল করে ‘এই সত্যকে সততার সাথে’ মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
আরজু আহমেদ তার পোস্টে এসব বিষয় লক্ষ্য করেই লিখেছেন, জর্জ ডব্লিউ বুশের সঙ্গে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারের জুটির পর সম্ভবত আরেকটা ট্রাম্প-জনসন দানবীয় ইসলামোফোবিক জুটি দুনিয়া দেখতে চলেছে।
উল্লেখ্য, অক্সফোর্ড থেকে স্নাতক সম্পন্ন করে ১৯৮৭ সালে টাইম পত্রিকায় সাংবাদিক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন বরিস। কিন্তু, মাত্র এক বছরের মাথায়ই রাজা এডওয়ার্ড-২ এবং তার সমকামী প্রেমিকা নিয়ে মিথ্যা মন্তব্য করার দায় চাকরি হারান। ২০১৩ সালে বিবিসি টেলিভিশনের এক অনুষ্ঠানে এই স্মৃতি মনে করে বলেছিলেন, ‘এটা বিব্রতকর ছিল–আমার ভেতর এক গভীর লজ্জা ও পরিতাপ অনুভূত হয় এই ঘটনা মনে করলে’।
২০০৪ সালে ব্রিটিশ সাংসদ হবার পরেও একবার মিথ্যাবাদী হিসেবে ফের আলোচিত হন বরিস। তৎকালীন কনজারভেটিভ দলের নেতা মিকায়েল হাওয়ার্ড বিবাহ বহির্ভূত একটা সম্পর্ক নিয়ে মিথ্যা বলার দায়ে শিল্প মন্ত্রণালয়ের ছায়ামন্ত্রী ও কনজারভেটিভ দলের সহ-সভাপতির পদ থেকে বরিসকে বহিস্কার করেছিলেন।
আরএইচ/
