
|| তাসনিফ আবীদ ||
নানা আলোচনা-পর্যালোচনার পর বেফাকে যুক্ত হয়েছে ‘কাফিয়া’ জামাত। সিদ্ধান্তটি পুরোপুরি চুড়ান্ত বলে ফাতেহকে জানিয়েছে বোর্ডটির মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক। তার তথ্য মতে, ‘১৪৪৬ হিজরি সনে অনুষ্ঠিতব্য বেফাকের ৪৮তম কেন্দ্রীয় পরীক্ষায় যুক্ত হবে সানাবিয়্যাহ-২ (কাফিয়া) জামাতের সমাপনী পরীক্ষা।
এদিকে দেশের মাদানী নেসাবের মাদরাসাগুলোর বড় একটি অংশ বেফাকের কেন্দ্রীয় পরীক্ষায় অংশ নিয়ে থাকে। বেফাকের সঙ্গে সমন্বয় করার জন্য তারা নানাভাবে সিলেবাসকে সাজিয়েছে ইতোপূর্বে। কিন্তু সানাবিয়্যাহ-২ (কাফিয়া) যুক্ত হওয়ার পর অনেকটা বিপাকেই পড়তে দেখা গেছে মাদানী নেসাবের মাদরাসাগুলোকে।
ঢাকার উত্তরায় দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে মাদানী নেসাবের মাদরাসা ‘মাদরাসাতুল হিজমাহ আলইসলামিয়া’ পরিচালনা করেন মাওলানা মুহাম্মদ আবু সালেহ রাহমানী। এই মাদরাসা থেকে প্রতি বছরই ছাত্ররা বেফাকের পরীক্ষায় অংশ নিয়ে থাকে। রেজাল্টও করে ঈর্ষণীয়। সর্বশেষ প্রকাশিত বেফাকের রেজাল্টে এই মাদরাসায় বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী স্টার মার্ক পেয়েছে। এছাড়া মুমতাজ পেয়েছে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া অধিকাংশ শিক্ষার্থী।
‘৪৮তম কেন্দ্রীয় পরীক্ষায় যুক্ত হওয়া সানাবিয়্যাহ-২ (কাফিয়া) পরীক্ষার ক্ষেত্রে নানা কী পদক্ষেপ নেবেন? যেহেতু এই বিভাগটি মাদানী নেসাবে নেই’ এমন প্রশ্নের উত্তরে মাওলানা মুহাম্মদ আবু সালেহ রাহমানী বলেন, আমরা ইতোমধ্যে বিষয়টি নিয়ে মহাসচিব সাহেবের সঙ্গে কথা বলেছি। আমরা চেষ্টা করছি বিষয়টি নিয়ে বেফাকের সঙ্গে মাদানী নেসাবের মাদরাসাগুলোর একটি সমন্বয় করার জন্য। জাতীয় এই শিক্ষাবোর্ডের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে তো কিছু করা যাবে না। যা করার আলোচনার ভিত্তিতেই করতে হবে।
‘আমরা আশাবাদী বিষয়টির একটি সুন্দর সমাধান হবে’ –যুক্ত করেন মাওলানা মুহাম্মদ আবু সালেহ রাহমানী
দক্ষিণবঙ্গের অন্যতম বৃহৎ দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আলজামিয়াতুল ইসলামিয়া ইসলামপুর মাদরাসায় দরসে নেযামি এবং মাদানী নেসাব উভয় নেসাবেই ছাত্রদের লেখাপড়া করানো হয়ে থাকে। ভিন্ন দু’টি নেসাবের জন্য রয়েছে আলাদা আলাদা ভবন ও শিক্ষাক্রম। এই মাদরাসাটিও বেফাকের অন্তর্ভূক্ত।
প্রতিষ্ঠানটির নাযেমে তালিমাত মুফতি শুআইব ইবরাহিমের কাছে জানতে চেয়েছিলাম বেফাকের এই নতুন সিদ্ধান্ত তাদেরকে ঝুকি বাড়াবে কীনা? তিনি বলেন, বেফাকে সানাবিয়্যাহ-২ (কাফিয়া) যুক্ত হলেও মহিলা মাদরাসায় কিন্তু এই পরীক্ষা যুক্ত হয়নি। অর্থাৎ বেফাক মহিলা মাদরাসাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করার জন্য একটি বিশেষ উদ্যোগ নিয়ে নিজেদের পক্ষ থেকেই। আমরা আশা করবো মাদানী নেসাবের মাদরাসাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করার জন্যও বেফাক এমন কোনো উদ্যোগ নেবে।
উদ্যোগটা কেমন হতে পারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রথমত মাদানী নেসাবের জন্য এমন একটি পরীক্ষা চালু হতে পারে যেটা বেফাকের সানাবিয়্যাহ-২ (কাফিয়া) এর সমমান হবে। পরীক্ষার সিলেবাস থাকবে মাদানী নেসাব থেকেই। দ্বিতীয়ত মহিলা মাদরাসার মতো এই পরীক্ষা মাদানী নেসাবে যুক্ত না হতে পারে।
‘তবে বিষয়টি কেমন হবে তা নিয়ে বেফাককেই ভাবতে হবে। কেননা নতুন এই সিদ্ধান্তের কারণে বেফাকের সঙ্গে যুক্ত মাদানী নেসাবের মাদরাসাগুলো অনেকটা ঝুকি ও চিন্তায় আছে।’ –মত দেন তিনি
মাদানী নেসাবের মাদরাসাগুলো একসঙ্গে হয়ে কোনো বোর্ড গঠন করে নিজেদের মতো করে কেন্দ্রীয় পরীক্ষার আয়োজন করতে পারে কী না জানতে চেয়েছিলাম ‘মাদরাসাতুল হিজমাহ আলইসলামিয়া’র পরিচালক মাওলানা মুহাম্মদ আবু সালেহ রাহমানীর কাছে। তিনি বলেন, আমাদের দেশে যে পরিমান কওমি শিক্ষাবোর্ড আছে তা এমনিতেই অতিরিক্ত হয়ে গিয়েছে। মাদানী নেসাব নিয়ে আরো একটি নতুন বোর্ড তৈরি হওয়ার প্রয়োজন আছে বলে মনে হয় না। বেফাক যেহেতু দেশের অন্যতম বৃহৎ শিক্ষাবোর্ড। এর সঙ্গে সমন্বয় করে চলাই আমি ভালো মনে করি।
‘তাছাড়া মাদানী নেসাব একটি অপূর্ণাঙ্গ শিক্ষাক্রম। এটি এখনো চূড়ান্ত হয় নি। আমরা জেনেছি আদিব হুজুর হাফিজাহুল্লাহ এখানে আরো বর্ষ যুক্ত করবেন। সিলেবাসটাকে আরো সমৃদ্ধ করবেন। এখন একটি অপূর্ণাঙ্গ সিলেবাস দিয়ে কীভাবে বোর্ড হওয়া যায়?’ –মত দেন মাওলানা রাহমানী
তিনি বলেন, মাদানী নেসাবের বোর্ড নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। এই নেসাবের মুরব্বিরা এখনো জীবিত আছেন। তারা যদি প্রয়োজন মনে করেন বোর্ড হওয়ার সেটার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তারাই নেবেন।
