ফাতেহ ডেস্ক :
‘হাই-টেক সিটি’ বলে পরিচিত কর্নাটকের রাজধানী ব্যাঙ্গালোর ছাড়ছেন হাজার হাজার দরিদ্র বাঙালি মুসলিম।যে গারবেজ ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করে পুরুষরা ভাত জোটাতেন, রাতারাতি সেই আয়ের রাস্তা তাদের বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। আর যে গরিব বাঙালি নারীরা শহরের বিভিন্ন হাইরাইজ সোসাইটি বা বহুতল আবাসনে রান্নাবান্না বা পরিচারিকার কাজ করতেন, তারাও চাকরি খোয়াচ্ছেন।
শহরের বিভিন্ন রেসিডেন্ট ওয়েলফেয়ার সোসাইটি তাদের সদস্যদের সোজাসুজি নোটিশ দিয়ে হুকুম দিয়েছে–ঘরের কাজে কোনও বাঙালি মুসলিমকে লাগানো চলবে না।
মহাদেবপুরা অঞ্চলের এমএলএ ও কট্টর বিজেপি নেতা অরবিন্দ লিম্বাভালির ব্যাঙ্গালোরের অভিজাত সমধুরা সোহম সোসাইটিতে থাকেন কলকাতার মেয়ে অর্পিতা বসু। তিনি ও তার স্বামী দুজনেই মাল্টিন্যাশনাল ফার্মে তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ হিসেবে কর্মরত। বাড়িতে তাদের ছেলেমেয়ের দেখাশুনো, রান্নাবান্না, ঘরদোর পরিষ্কার করার কাজ সবই এতদিন করতেন দুজন বাঙালি মুসলিম নারী। কিন্তু সোসাইটির হুকুমে রাতারাতি তাদেরও কাজ ছাড়িয়ে দিতে হয়েছে।
অর্পিতা গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘আমাদের বলা হয়েছে বাংলাদেশি কী ভারতীয়, সেসব দেখার কোনও দরকার নেই–বাঙালি মুসলিম হলেই ছাঁটাই করতে হবে।
এই সবের পেছনেই আছে কথিত ‘অবৈধ বাংলাদেশি’দের বিরুদ্ধে ব্যাঙ্গালোর পুলিশ আর কর্নাটক সরকারের কড়া অভিযান, যার জেরে এই অসহায় মানুষগুলো দলে দলে শহর ছাড়ছেন। অনেককেই জেলে ভরা হয়েছে, অনেকে তার আগেই ভয়ে ঘরবাড়ি ফেলে পালাচ্ছেন।
উল্লেখ্য, অবৈধ বিদেশিদের চিহ্নিত করতে আসামের ধাঁচে কর্নাটকেও এনআরসি (জাতীয় নাগরিকপঞ্জি) তৈরির কাজ অচিরেই শুরু হবে বলে কর্নাটকের বিজেপি সরকার আগেই ঘোষণা করেছে, তার আগেই ব্যাঙ্গালোর জুড়ে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। শহরের খুব কাছে অবৈধ বিদেশিদের আটক রাখতে একটি ডিটেনশন সেন্টার তৈরির কাজও শেষ, এখন যে কোনও দিন উদ্বোধনের অপেক্ষা!
সম্প্রতি কর্নাটকে এনআরসি-জিগির শুরু হওয়ারও বেশ আগে থেকেই কথিত বাংলাদেশিদের বিরুদ্ধে ছুটকো ছুটকা অভিযান চলছে। বিজেপি নেতা অরবিন্দ লিম্বাভালি অনেক জায়গায় পুলিশের সঙ্গে গিয়ে কথিত বাংলাদেশিদের বস্তি ভেঙে দেওয়াসহ উচ্ছেদ অভিযানে নিজে দাঁড়িয়ে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
