ব্রিটেনের নতুন প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন, ব্রেক্সিট প্রসঙ্গে উত্তাল দেশের রাজনীতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ব্রিটেনের নতুন প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন বরিস জনসন। ব্রিটেনের ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টির ৬৭ শতাংশ সদস্যের সমর্থন পেয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বের অন্যতম ক্ষমতাধর দেশের ৭৭তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নাম লেখালেন বরিস জনসন। মঙ্গলবার ব্রিটেন সময় দুপুর ১২টায় বরিস জনসনের নাম ঘোষণা করা হয় কনজারভেটিভ দলের প্রধান হিসেবে।

নতুন প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে উত্তাল হয়ে উঠেছে ব্রিটেনের রাজনীতি। নিজ দল ও জোটের সদস্যদের কঠোর সমালোচনার মুখে পড়েছেন বরিস জনসন। নিজের অতি রক্ষণশীল রাজনীতি দল ও সরকারের অনেকেই পছন্দ করছেন না। বরিস জনসন বলছেন, দরকারে কোন চুক্তি ছাড়াই যুক্তরাজ্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বিদায় নেবে।

এ কারণেই তাকে নিয়ে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। জনসন ক্ষমতা নেয়ার আগেই তাই মন্ত্রীসভা ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন বেশ কয়েকজন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নাম ঘোষণার পর পদত্যাগ করেছেন অর্থমন্ত্রী ফিলিপ হ্যামন্ড। তিনি বলেন, জনসনের চুক্তি ছাড়া ব্রেক্সিট কার্যকরের সম্ভাব্য সিদ্ধান্ত দেশের জন্য কল্যাণকর নয়। অর্থমন্ত্রী হিসেবে আমার পদত্যাগের মাধ্যমে সে বার্তাই তাকে আরও স্পষ্টভাবে দিতে চাই আমি। বুধবার প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব ছাড়ার আগে তার কাছেই পদত্যাগপত্র জমা দেবো।

এছাড়া আরো পদত্যাগ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী এনি মিল্টন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এলেন ডানকান। একই সিদ্ধান্ত নেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বিচার বিষয়ক মন্ত্রী ডেভিড, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন বিষয়ক মন্ত্রী রোরি স্ট্রুয়াট।

উল্লেখ্য, চুক্তি বিহীন ব্রেক্সিট মানে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে কোন বাণিজ্য চুক্তি থাকবে না। তাদের মধ্যে বাণিজ্য হবে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার নিয়ম অনুযায়ী। তার অর্থ হল ইউরোপের অন্যান্য দেশে যুক্তরাজ্য কিছু বিক্রি করতে চাইলে তার উপর শুল্ক আরোপ হবে। একই বিষয় ঘটবে যখন ইউরোপের অন্যান্য দেশের পণ্য যুক্তরাজ্যে ঢুকবে। কিন্তু চুক্তি বিহীন ব্রেক্সিট মানে বন্দরে বা সীমান্তে এখন দু পক্ষই একে অপরের পণ্যে প্রবেশের আগে অনেক কড়াকড়ি হবে। তাতে কোন কিছু আমদানি রপ্তানি সময় সাপেক্ষ হয়ে পড়বে।

এছাড়াও সাধারণ মানুষের জীবনে এর নানাবিধ প্রভাব পড়বে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোতে ভিসা মুক্ত যাতায়াতের সুবিধাও হারাবে যুক্তরাজ্যের নাগরিকেরা। এখন যেমন কাজের জন্য সহজে একে অপরের দেশে যেতে পারছে ইউরোপের দেশের মানুষজন। চুক্তি বিহীন ব্রেক্সিট মানে সেটি বন্ধ হয়ে যাবে। তার মানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নানা দেশে যুক্তরাজ্যের সেসব লোকজন নানা খাতে কাজ করতেন তাদের জন্য বিষয়টি কঠিন হয়ে পড়বে। সে হোক আইনজীবী বা ব্যাংকার।

পণ্যের উপরে শুল্ক আরোপ হলে, বন্দরে সময় বেশি লাগলে বা বাণিজ্যে নানা সুবিধা বাতিল হলে বহু পণ্যের দাম বাড়বে। বিশেষ করে খাদ্য পণ্যে দাম বাড়লে তার প্রভাব অবশ্যই সাধারণ মানুষজনের গায়ে লাগবে।

আরএইচ/

আগের সংবাদপৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৫, আহত ৪
পরবর্তি সংবাদবায়তুল মুকাদ্দাস প্রাঙ্গনে ফিলিস্তিনি শিশুর হাতে লাঞ্ছিত সৌদি প্রতিনিধি