ভারতীয় কূটনীতিকের সঙ্গে গোপন বৈঠকে বাংলাদেশি দুই কর্মকর্তা, ষড়যন্ত্রের আভাষ!

ভারতীয় কূটনীতিকের সঙ্গে গোপন বৈঠকে বাংলাদেশি দুই কর্মকর্তা, ষড়যন্ত্রের আভাষ!

ফাতেহ ডেস্ক :

নাগরিকত্ব (সংশোধন) আইন (সিএএ) এবং জাতীয় নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি) নিয়ে বিতর্কের জেরে যখন বাংলাদেশের কয়েকজন মন্ত্রী দিল্লি সফর বাতিল করেছেন, তখন ভারতীয় কূটনীতিকের সঙ্গে গোপন বেঠক করলেন আইন মন্ত্রণালয়ের দুই কর্মকর্তা। গতকাল রোববার রাতে প্যান-প্যাসিফিক হোটেল সোনারগাঁওয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও ড্রাফটিং বিভাগের সচিব নরেন দাস এবং একই বিভাগের যুগ্ম-সচিব কাজী আরিফুজ্জামান বৈঠকে অংশ নেন। ভারতের পক্ষে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি হাই-কমিশনার বিশ্বদীপ দে। নৈশভোজের আড়ালে তারা এই বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠকে দেশের অভ্যন্তরীণ স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ নানা বিষয় প্রসঙ্গ পায়। তবে এ বৈঠক সম্পর্কে আইন মন্ত্রণালয় তথা সরকার অবহিত নন বলে জানা গেছে।

বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাইলে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক গণমাধ্যমের কাছে বিস্ময় প্রকাশ করেন। পাল্টা প্রশ্ন করেন- কিসের মিটিং? এমন কোনো মিটিংয়ের কথা আমার জানা নেই। বিষয়টি আমি দেখছি।

ভারত সম্পর্কে বাংলাদেশ সরকারের এই অবস্থানের বর্তমান পর্যায়ে ভারতীয় কূটনীতিকদের সঙ্গে আইন মন্ত্রণালয়ের একটি শাখার শীর্ষ কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত গোপন বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং রহস্যজনক মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সূত্র থেকে জানা যায়, পূর্ব নির্ধারিত সময় অনুযায়ী সন্ধ্যা ৭টা ১৮ মিনিটে হোটেল সোনারগাঁওয়ের লবিতে আসেন নরেন দাস। তিনি ৮ মিনিট ফোনে কথা বলেন। এর মাঝে দুই পুলিশ সদস্য (একজনের নাম তোফাজ্জল) একটি কালো রঙের ব্রিফকেস নরেন দাসের হাতে তুলে দেন। এর কিছুক্ষণ পরই কাজী আরিফুজ্জামান হাজির হন। ৭টা ৩৫ মিনিটে উপস্থিত হন কাজী আরিফুজ্জামান। সঙ্গে ফুলের তোড়া। ৭টা ৪০ এর দিকে তারা ডিনারের টেবিলে বসেন। আলাপচারিতার একপর্যায়ে নরেন দাস ব্রিফকেসটি ডেপুটি হাই-কমিশনার বিশ্বদীপ দে’র কাছে হস্তান্তর করেন। এ ব্রিফকেসেই সরকারের অনেকগুরুত্বপূর্ণ নথি রয়েছে বলে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, নরেন দাসের বিরুদ্ধে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সম্পর্ক থাকার অভিযোগ পুরনো। একই দফতরের অতিরিক্ত সচিব থাকাকালে নরেন দাসের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। তবুও গোয়েন্দা সংস্থার পছন্দে তাকে ড্রাফটিং উইংয়ের সচিব করা হয় বলে গুঞ্জন রয়েছে। গত ৩১ অক্টোবর সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ শহিদুল হকের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের মেয়াদ শেষ হয়। গত ৩ নভেম্বর তার স্থলাভিষিক্ত হন নরেন দাস।

আগের সংবাদডিজিটাল ফতোয়া ও ধর্মীয় ক্ষমতা কাঠামোর রূপান্তর
পরবর্তি সংবাদযশোরে গরুচোর সন্দেহে গণপিটুনি, নিহত ৩