ভারতে উত্তর প্রদেশের বিক্ষোভে দুদিনে নিহতের সংখ্যা ১৫

ভারতে উত্তর প্রদেশের বিক্ষোভে দুদিনে নিহতের সংখ্যা ১৫

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

মুসলিম-বিরোধী বিতর্কিত নাগরিকত্ব (সংশোধনী) আইনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে উত্তাল ভারত। গতকাল শুক্রবার উত্তরপ্রদেশে জুমার নামাজের পর ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হলে পুলিশের গুলি ও সংঘর্ষে একদিনে নিহত হন ১৩ জন। এর আগে বৃহস্পতিবার প্রদেশটিতে শুরু হওয়া বিক্ষোভের প্রথম দিনে দুজনের প্রাণহানি ঘটে।

ভারতীয় টেলিভিশন এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী উত্তরপ্রদেশ পুলিশ বলছে, শুক্রবার রাজ্যের মিরাট জেলায় চারজন, ফিরোজাবাদ ও বিনজোরে দুজন করে চারজন, এছাড়া সামভাল, কামপুর, বারাণসি ও লক্ষ্ণৌতে একজন করে নিহত হয়েছেন। এর আগে গত বৃহস্পতিবার সামভাল ও লক্ষ্ণৌতে একজন করে নিহত হয়েছেন।

গত বৃহস্পতিবার উত্তরপ্রদেশের ১৩ জেলায় বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন স্থানে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ১৩ জন নিহত ছাড়াও অনেকে আহত হয়েছেন। বিক্ষোভ দমনে পুলিশ প্রকাশ্যে গুলি ছোড়া শুরু করলে এসব হতাহতের ঘটনা ঘটে। বিক্ষোভে ২৬৩ জন পুলিশ সদস্যও আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

তবে উত্তরপ্রদেশ পুলিশের মহাপরিচালক ও পি সিং বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে পুলিশের গুলি ছোড়ার কথা অস্বীকার করে বলেছেন, ‘আমরা একটা বুলেটও চালাইনি। অপর এক জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা বলেছেন, ‘যদি গোলাগুলির ঘটনা ঘটেই থাকে তাহলে সেটা হয়েছে বিক্ষোভকারীদের মধ্যে পুলিশ তাতে জড়িত ছিল না।’

নাগরিকত্ব (সংশোধনী) আইন ধর্মীয় বিবেচনায় বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে ভারতে যাওয়া অমুসলিম অভিবাসীদের নাগরিকত্ব দেবে। সরকার বলছে, এসব অমুসলিম ওই দেশগুলোতে নির্যাতনের শিকার হয়ে ভারতে এসেছে। সমালোচকরা বলছেন, মুসলিমবিরোধী এই আইন ভারতের নিরপেক্ষ সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

ভারতীয় পার্লামেন্টে পাস হওয়ার পর গত ১১ ডিসেম্বর থেকে উত্তরপূর্ব ভারতে বিক্ষোভ শুরু হয়। প্রথমে বিক্ষোভ আসামে শুরু হলেও পরে তা উত্তরপূর্বের অন্য রাজ্যগুলোতেও শুরু হয়। পরে পশ্চিমবঙ্গ ও দিল্লিতেও ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়। গত বৃহস্পতিবার থেকে সবচেয়ে জোড়ালো বিক্ষোভ চলছে উত্তরপ্রদেশে।

বৃহস্পতিবার থেকেই নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে ব্যাপক বিক্ষোভ লক্ষ্য করা যায় উত্তরপ্রদেশে। প্রথম দিনে দুজন নিহত হন। গোটা রাজ্যে নিষেধাজ্ঞা জারি থাকলেও শুক্রবার নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ১২টি জেলার হাজার হাজার মানুষ পথে নামে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ও বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ও গুলি চালায়।

আগের সংবাদ‘হিউম্যান মিল্ক ব্যাংক ব্যবহার নাজায়েজ’: সতর্ক করলেন আলেমরা
পরবর্তি সংবাদবিক্ষোভে মারমুখী ভারতীয় পুলিশ, পেশাদার মুসলিম সাংবাদিককে দাঁড়ি ছিঁড়ে ফেলার হুমকি