ভয়ংকর হয়ে উঠছে খ্রিষ্টান মিশনারিরা

রাগিব রব্বানি

বাংলাদেশে খ্রিষ্টান মিশনারিদের তৎপরতা ক্রমশ আশংকাজনক ও ভয়ংকর হয়ে উঠছে। পার্বত্য অঞ্চলসহ দেশের দারিদ্রপীড়িত উত্তরাঞ্চলে মিশনারি কর্যক্রম পরিচালনায় খ্রিষ্টান এনজিওগুলো বেপরোয়া আচরণ করছে স্থানীয় মুসলিম দাঈদের সঙ্গে। একই সঙ্গে তারা হয়ে উঠেছে অদৃশ্য শক্তির অধিকারী।

দারিদ্রপীড়িত জেলা কুঁড়িগ্রামে ব্যাপকভাবে চলছে খ্রিষ্টান মিশনারিদের কার্যক্রম। ধর্মীয় শিক্ষার আলো থেকে দূরে থাকা স্থানীয় মুসলমানদের নানা কৌশলে খ্রিষ্টান বানানো হচ্ছে। খ্রিষ্টান ধর্মে দীক্ষিত হয়ে যাওয়া এসব মুসলমানের অনেকে বুঝতেই পারছেন না যে তারা খ্রিষ্টান হয়ে গিয়েছেন।

স্থানীয় বেশ কয়েকজন দাঈ’র সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, খ্রিষ্টান মিশনারিরা স্থানীয় লোকদের মধ্যে কুরআন-হাদিসের বিভ্রান্তিকর ব্যাখ্যা সম্বলিত বিভিন্ন বই-পুস্তক বিতরণ করে। এবং এর মাধ্যমে মহানবি হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের ওপর হজরত ইসা আলায়হিস সালামের শ্রেষ্ঠত্ব দেখিয়ে তাঁর অনুসরণের দাওত দেওয়া হয়। বলা হয়, বর্তমান যে ইসলাম, সেটার তুলনায় ‘ঈসায়ি ইসলাম’ শ্রেষ্ঠ। কারণ ঈসা আলায়হিস সালাম জীবিত নবি আর মহানবি হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম ‘মৃত’। তাই সকলের উচিত ঈসা নবির অনুসরণ করা।

এরকম নানা খোঁড়া যুক্তি এবং অর্থ ও জীবনমানের উন্নতির প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মুসলমানদেরকে খ্রিষ্টান ধর্মে দীক্ষিত করা হয়। তবে খ্রিষ্টান হয়ে যাওয়া এসব লোককে বুঝতে দেওয়া হয় না যে তারা খ্রিষ্টান হয়ে গেছে। তাদেরকে বলা হয়, ভ্রান্ত ইসলাম থেকে সঠিক ইসলাম তথা ‘ঈসায়ি ইসলামের’ দিকে ফেরত আনা হয়েছে। তাই তারা এখন থেকে ‘ঈসায়ি মুসলিম’।

কুঁড়িগ্রামে খ্রিস্টান এসব মিশনারির মুকাবেলায় সাধারণ মানুষদের মধ্যে ইসলামের সঠিক বাণী পৌঁছে দিতে কাজ করা কয়েকজন স্থানীয় দাঈ’র সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলার চেষ্টা করা হয়েছিল ফাতেহ টোয়েন্টি ফোর থেকে। তাঁদের একজন উপরোক্ত তথ্যগুলো নিজের নাম গোপন করার শর্তে প্রদান করলেও অন্যান্য দাঈরা কথা বলতেই অপারগতা জানিয়েছেন। তাদের কথাবার্তায় ছিল ভয় এবং আতঙ্কের ছাপ।

স্থানীয় দাঈদের এমন আতঙ্কগ্রস্ততা এবং এ বিষয়ে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশের কারণ জানতে চেয়ে কথা হয়েছিল এই অঙ্গনের সঙ্গে সম্পৃক্ত রাজধানীর কয়েকজন দাঈর সঙ্গে। তারা ফাতেহ টোয়েন্টি ফোরকে জানান, খ্রিষ্টান মিশনারিদের মুকাবেলায় বাংলাদেশে যারাই কাজ করছেন প্রত্যেকেই একটা চাপ ও হুমকির ভেতর দিয়ে যাচ্ছেন। কঠোর নজরদারির ভেতর রাখা হয়েছে তাদেরকে। এমনকি প্রত্যেকের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনও নজরদারির আওতায় রয়েছে। বিশেষ করে স্থানীয় দাঈদের ওপর এই নজরদারিটা বেশি। তাদের সঙ্গে কারা যোগাযোগ করছে, কীভাবে করছে, এসব কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।

এই নজরদারিটা কোথা থেকে করা হচ্ছে, বা খ্রিষ্টান মিশনারিদের খুঁটির জোর কোথায় জানতে চাইলে মুঠোফোনে এরচেয়ে বেশি কিছু বলতে পারবেন না বলে জানান এসব দাঈ।

আরও পড়ুন : খ্রিষ্টান মিশনারিদের তৎপরতায় ঝুঁকিতে মসজিদ-মাদরাসা-ধর্মীয় সম্প্রদায়

আগের সংবাদগণগ্রেপ্তার : কাশ্মীরিদের অনেক পরিবার জানে না তাদের সন্তান কোথায় আছে
পরবর্তি সংবাদখুলনায় ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে স্কুল-শিক্ষক গ্রেপ্তার