মাদরাসায় ক্লাস চলাকালে কিশোর ছাত্রকে আটক করে নিয়ে গেল পুলিশ

ফাতেহ ডেস্ক

মাদরাসায় তখন রীতিমতো ক্লাস চলছিল। এমন সময় সাদা পোষাকে দশম শ্রেণির ক্লাসে ঢুকে এক কিশোর ছাত্রকে হাতকড়া পরিয়ে গ্রেপ্তার করে নিয়ে গেছে পুলিশ। আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার গাজনা ইউনিয়নের আশাপুর দাখিল মাদরাসায় এ ঘটনা ঘটে। গ্রেপ্তারকৃত ছাত্রের নাম মেহেদি হাসান (১৭)। সে আশাপুর দাখিল মাদরাসার দশম শ্রেণির ছাত্র।

একই উপজেলার কোরকদি ইউনিয়নের জনৈক আমিরুল মোল্লার সন্তান মেহেদি হাসান একজন হাফেজ এবং মসজিদের ইমাম। এভাবে সহপাঠীদের সামনে তাকে হাতকড়া পরিয়ে আটকের ঘটনায় মাদরাসার শিক্ষকসহ অন্যান্য শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সাধারণ মানুষের মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মধুখালী থানার এএসআই সাহেব আলী বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তার শ্রেণিকক্ষ থেকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। এসময় তার সাথে থানার দালাল হিসেবে পরিচিত এক ইনফর্মার (তথ্য আদানপ্রদানকারী) ছিলো।

মধুখালী থানার ওসি মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, গাজনা ইউনিয়নের লাউজনা গ্রামের জনৈক বিল্লাল বিশ্বাসের দায়ের করা একটি মামলায় তদন্তকারী কর্মকর্তা মেহেদি হাসানকে আটক করেছেন। ওসি জানান, গত ৩০ এপ্রিল বিল্লাল বিশ্বাসের মেয়ে অন্তরা খাতুনের (১৪) ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয় তার পিতার বাড়ি থেকে। আর এ ঘটনার একমাস সতের দিন পর ১৭ জুন মধুখালী থানায় বিল্লাল বিশ্বাস এ মামলাটি দায়ের করেন। মামলা নং-১৯।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মৃত্যুর মাত্র সপ্তাহখানেক আগে বিয়ে হয়েছিলো ১৪ বছরের কিশোরী অন্তরার। তার বর বিত্তশালী ছিলো তবে অন্তরার সাথে বয়সের বেশ ব্যবধান ছিলো। কিশোরী অন্তরা বিয়ের সপ্তাহখানেক পর বাপের বাড়ি এসে আর ফিরে যেতে চায়নি। তাকে শ্বশুরালয়ে যেতে পরিবার থেকে চাপ দেয়া হয়। তখন সে হবু বরকে অপছন্দের বিষয়টি তাদের গ্রামের মসজিদের ইমাম মেহেদি হাসানকে মোবাইলে জানায়। যাতে মা-বাবা তার সমস্যাটি বুঝতে পারে। এরমাঝেই ঘরের আড়ার সাথে ঝুলন্ত অন্তরার লাশ উদ্ধার হয়। অন্তরার মৃত্যুর পর মেহেদি হাসান গ্রামবাসীকে মোবাইলে তার সাথে অন্তরার এসব কথাবার্তার বিষয়টি অবগত করেন।

জানা যায়, অন্তরার দাফনের পরেরদিন পাশের বিশাল চতরার বিলের ফাঁকা মাঠে নিয়ে ইমাম মেহেদি হাসানকে আটক করে নিয়ে বেদম মারপিটের পর গলায় রশি ঝুঁলিয়ে ফেলে আসা হয়। কোনমতে সেখান থেকে প্রাণে বেঁচে আসা মেহেদিকে প্রথমে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা করিয়ে সুস্থ্য করে তোলা হয়। চিকিৎসা শেষে গ্রামে ফিরে এলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গ্রাম্য মাতুব্বরেরা বিষয়টি সালিশ মীমাংসা করে দেন। এরপর বৃহস্পতিবার ওই মামলায় তাকে আটক করা হলো।

আগের সংবাদলালমনিরহাটে বাল্যবিয়ের ‘অভিযোগে’ কনের বাবাসহ তিনজন কারাগারে!
পরবর্তি সংবাদ‘ভারতের ৬০-৭০ কিলোমিটার ভেতরে চীনা সেনাবাহিনী অবস্থান করছে’