
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
সম্প্রতি মার্কিন বিদেশ দফতরের ওয়েবসাইটে দেশ ও বিভিন্ন এলাকার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে ফিলিস্তিন অঞ্চলকে। তা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ জানিয়েছেন ফিলিস্তিনি নেতারা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইসরাইল-প্রীতি তাদের উদ্বেগের কারণ বলে জানিয়েছেন ওই নেতারা।
যে দিন এই অভিযোগ উঠেছে, সে দিনই আবার যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পেলেও শুধুমাত্র বন্ধুর সোশাল মিডিয়া পোস্টের জন্য একজন ফিলিস্তিনি তরুণের ভিসা বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র। সেই তরুণের নাম ইসমাইল আজওয়াই (১৭)। গত শুক্রবার বোস্টন বিমানবন্দরে হাজির হওয়ার পর তাকে কয়েক ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তার ফোন এবং ল্যাপটপ তল্লাশি করার পর মার্কিন ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা তার স্টুডেন্ট ভিসা বাতিল করেন।
বন্ধুর সোশাল মিডিয়া পোস্টের জন্য তাকে দায়ী করা যেতে পারে না, তিনি এই যুক্তি দেয়ার পরও কর্মকর্তারা সিদ্ধান্ত নেন যে তাকে যুক্তরাষ্ট্রে ‘ঢুকতে দেয়া যায় না’ ।
বিদেশ দফতরের ওয়েবসাইটে ২০০৯-২০১৭ সাল পর্যন্ত (মূলত প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার শাসনকাল) ‘ফিলিস্তিন অঞ্চল’ তালিকায় ছিল। এখন আর তা নেই। মঙ্গলবার এ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে বিদেশ দফতরের এক প্রতিনিধি বিষয়টিতে গুরুত্ব না দিয়ে বলেন, ‘ওয়েবসাইটটি আপডেট হচ্ছে। নীতিতে পরিবর্তন ঘটেনি।’ ওয়েবসাইটের নকশা বদলের পরে আবার ফিলিস্তিন অঞ্চল তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হবে কি না, তা নিয়ে কিছু বলেননি ওই প্রতিনিধি।
কিন্তু এত সহজে মেনে নিতে পারছেন না প্যালেস্তাইনের নেতারা। এর আগেও কিছু মার্কিন তথ্যপঞ্জিতে ‘অধিকৃত এলাকা’ শব্দবন্ধ সরিয়ে নেওয়া হয়। ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু পশ্চিম ভূখণ্ডের অনেকটাই দখলে নেওয়ার কথা বলেন। এ সবের আন্তঃসম্পর্ক রয়েছে বলেই মনে করছেন প্যাফিলিস্তিনি নেতারা।
ওবামার আমলে ইসরাইলে যিনি মার্কিন দূত ছিলেন, সেই ড্যান শাপিরো মার্কিন ওয়েবসাইটের এই পরিবর্তন দেখে বিস্মিত। তার টুইট, ‘ফিলিস্তিনিরা কোথাও যাবেন না। আমেরিকাকে তাঁদের কথা ভাবতে হবে।’
