
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
বিশ্বের অধিকাংশ গণমাধ্যমে মিশরের সাবেক প্রেসিডেন্ট মুহাম্মদ মুরসির মৃত্যু ও তাঁর জীবন নিয়ে ফলাও করে আলোচনা হলেও মিশরীয় সংবাদমাধ্যমগুলো তাঁর মৃত্যুর খবরটিও ভালোভাবে প্রচার করেনি। মিশরীয় সবক’টি পত্রিকায় সর্বোচ্চ ৪২ শব্দে ভেতরের পৃষ্ঠায় স্থান পেয়েছে মুরসির মৃত্যুর খবর।
আরও পড়ুন : মুহাম্মদ মুরসি : একজন মহানায়কের জীবনের খতিয়ান
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মিশর বিষয়ক গবেষক হুসেইন বৌমি জানান, দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর কড়া নিয়ন্ত্রণে থাকে সেখানকার গণমাধ্যম। কোনো একটি বিশেষ বিষয়ে কিংবা ইস্যুতে কীভাবে খবর প্রচার করতে হবে, গণমাধ্যমগুলোর ইমেইলে সে সংক্রান্ত স্ক্রিপ্ট পাঠানো হয় নিরাপত্তাসংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে। গণমাধ্যমগুলো সেই স্ক্রিপ্ট অনুসারে খবর প্রচার করতে বাধ্য থাকে।
গত সোমবার আদালতে বিচারের শুনানির ফাঁকে আকস্মিক পড়ে গিয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন ৬৭ বছর বয়সী মুরসি। কিন্তু তার মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর প্রচারে ফেরাউনের দেশ মিসরের সংবাদমাধ্যমগুলো যেন অনেকটা উদাসীন।
বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, মুরসির মৃত্যুর চেয়ে দেশটি যে চলতি বছরের আফ্রিকান কাপ অব নেশনের আয়োজন করছে, সেটিই যেনো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কাজেই পত্রিকাগুলোর প্রথমপাতাগুলোতে এই খেলার খবরই বড় করে প্রকাশ করা হয়েছে।
বরং ভেতরের পাতায় ছোট করে ছাপানো হয়েছে এই মৃত্যুর খবরকে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনগুলোতেও মুরসির কথা তেমন একটা উল্লেখ করা হয়নি। তিনি যে দেশটির প্রথম গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট, তা উল্লেখের বদলে তার পূর্ণাঙ্গ নাম উচ্চারণ করা হয়েছে।
খুবই ছোট করে, আরবি ভাষায় মাত্র ৪২টি শব্দে মুরসির মৃত্যুর খবর প্রচার করেছে মিসরীয় পত্রিকা, রেডিও ও টেলিভিশন।
সেই খবরে বলা হয়েছে, ‘গুপ্তচরবৃত্তির মামলায় বিচার চলাকালে মোহাম্মদ মুরসি মৃত্যুবরণ করেছেন। তিনি আদালতে কথা বলতে চাইলে অনুমোদন দেয়া হয়। কিন্তু আদালতের কার্যক্রম স্থগিত হওয়ার পর তিনি মূর্ছা যান এবং পরে মারা গেছেন। তার মরদেহ হাসপাতালে নেয়া হয়েছে এবং এ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চলছে।
