
ফাতেহ ডেস্ক
মিশরে ক্যালিগ্রাফি শিল্পের ঐহিত্য বহু দিনের। কিন্তু প্রাতিষ্ঠানিক চর্চার অভাবে প্রায় হারিয়ে গেছে এই শিল্পকর্ম। একে বাঁচাতে এগিয়ে এসেছেন কয়েকজন শিক্ষক। সরকারকেও উদ্যোগ নেয়ার তাগিদ তাদের।
তাদের কথা অনুযায়ী খ্রিষ্টের জন্মেরও তিনশো বছর আগে চীনের শাং সাম্রাজ্যের সময় ক্যালিগ্রাফি শিল্পের যাত্রা শুরু। দশম শতকে ক্যালিগ্রাফির মাধ্যমে কোরআনের আয়াতের শৈল্পিক উপস্থাপন করেন মুসলমানরা।
এরই সাথে এই শিল্পের জন্য ব্যবহৃত বিশেষ কাগজ ও কালির বিকাশ ঘটতে থাকে। এই কাগজ তৈরি করতে কলা পাতাকে এক মাস পানিতে ডুবিয়ে রাখতে হয়। এরপর গরম পানিতে ফুটিয়ে সুবিধামত আকার দেন কারিগররা।
ক্যালিগ্রাফির কাগজ প্রস্তুতকারক হানি আলহিলালি বলেন, “সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, ওমানসহ ইউরোপিয় বিভিন্ন দেশে ক্যালিগ্রাফির এই বিশেষ কাগজ রপ্তানি করে থাকি আমরা। তবে কাগজ তৈরিতে ব্যবহৃত খড় আর কলা পাতা সব সময় সহজে পাওয়া যায় না।”
ক্যালিগ্রাফির জন্য আরেক প্রয়োজনীয় সামগ্রী হলো কালি। বিশেষ এই কালি তৈরির কাজ করছেন মোহাম্মদ হাসান আবু মুসা। আইনের ছাত্র হলেও ধ্যান জ্ঞান বানিয়েছেন ক্যালিগ্রাফিকেই।
কালি প্রস্তুতকারক মোহাম্মদ হাসান আবু মুসা বলেন, “আরবি ক্যালিগ্রাফিকে অনন্য মাত্রা দিতে বিশেষ কালি তৈরি করি আমরা। আরবি গাম আর কার্বন দিয়ে তৈরি হয় এই কালি। অতি সুক্ষ্ম লেখাকে সঠিকভাবে উপস্থাপনের জন্য যথাযথ কালি চাই।”
কিন্তু সময়ের সাথে সাথে মিশরে ক্যালিগ্রাফি শিল্পের জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়েছে। তাই এই শিল্পকে ধরে রাখার চেষ্টা চালাচ্ছে আল মেহরাব ক্যালিগ্রাফি স্কুল। এই প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন ভাষা শেখার মতো অনেকেই আগ্রহী হচ্ছে এই শিল্প চর্চায়।
