
ফাতেহ ডেস্ক
মিশরের সাবেক প্রেসিডেন্ট মুহাম্মদ মুরসি আদালতে অকস্মাৎ মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়াকে শুরু থেকেই পরিকল্পিত হত্যা বলে অভিহিত করে আসছে তাঁর পরিবার ও বিশ্লেষকরা। ধারণা করা হচ্ছে স্লো পয়জনিংয়ের মাধ্যমে ধীরে ধীরে তাঁকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।
পরিকল্পিত এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সন্দেহভাজন কারা জড়িত ছিলেন, সম্প্রতি তার একটা তালিকা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন মুরসিপুত্র আবদুল্লাহ মুরসি। সেখানে তিনি তাঁর বাবার এ হত্যাকাণ্ডে মিশরের সরকার ও বিচার বিভাগের উচ্চপদস্থ একাধিক কর্মকর্তার নাম উল্লেখ করেন। খবর আল-কুদস নেটওয়ার্কের।
ফিলিস্তিনের প্রভাবশালী এ গণমাধ্যম জানায়, ফেসবুকে করা একটি পোস্টে আব্দুল্লাহ মুরসি বলেছেন, আপনারা প্রেসিডেন্ট মুরসির হত্যাকারীদেরকে ভুলবেন না, যাদের অধিকাংশই হলেন জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ, মিসরের বিচারবিভাগ এবং সরকারের লোক। তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন, বর্তমান ও সাবেক দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ তাওফিক এবং মাজদি আব্দুল গফফার, বিচারপতি শিরিন ফাহমি,শা’বান আশ শামি,আহমদ সাবরী, অ্যাটর্নি জেনারেল নাবিল সাদেক এবং সিসির সহযোগী এবং তার গোয়েন্দা পরিচালক আব্বাস কামিল প্রমুখ।
পোস্টের শেষে আবদুল্লাহ মুরসি লেখেন, েআমরা আল্লাহর নিকট মিলিত হবো এবং তারাও একত্রিত হবে আল্লাহর নিকট।
এর আগে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম মিডলইস্ট আই এক রিপোর্ট জানিয়েছে, সিসি প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা মোহাম্মদ মুরসিকে মুসলিম ব্রাদারহুড ভেঙে দিতে পবিত্র রমজান মাস পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছিলেন। কিন্তু সিসির এমন দাবি পূরণ না করায় মুরসিকে হত্যা করা হয়েছে।
ওই রিপোর্টে বলা হয়, মুরসি ও কারাবন্দি মুসলিম ব্রাদার হুডের নেতাদের জন্য কৌশলগত নথিপত্রের রূপরেখার প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছিল। যেটি মিসরীয় বিরোধী দলের কয়েকজন ও রাষ্ট্রপতি আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির নিকটস্থ সিনিয়র কর্মকর্তাদের দ্বারা প্রস্তুতকৃত ছিল।
নথিটিতে দেখানো হয়েছে ব্রাদারহুডকে তিন বছরের মধ্যে ভেঙে ফেলা হবে। বন্দীদের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে যদি তারা এটি গ্রহণ করে তাহলে জেলে ভালো অবস্থানে রাখা হবে আর এটি প্রত্যাখ্যান করলে কঠিন শাস্তি ভোগ করতে হবে।
মিসরীয় সরকার চেয়েছিল গোপন আলোচনায় এটি সম্ভব করতে। তারা চায়নি মুরসি তাদের সহকর্মীদের সঙ্গে এটি আলোচনা করুক।
কিন্তু মুরসি তার সংগঠনের বিষয়ে আলোচনা প্রত্যাখ্যান করেছেন। বিপরীতে সামরিক অভ্যুত্থানের স্বীকৃতি না দিয়ে বর্তমান মিসরের স্বৈরাচার প্রেসিডেন্টের তীব্র সমালোচনা করেছেন।
