‘যমুনা টিভি ক্ষমা না চাইলে কঠোর কর্মসূচি দিবে সর্বদলীয় ইসলামি নেতৃবৃন্দ’

‘যমুনা টিভি ক্ষমা না চাইলে কঠোর কর্মসূচি দিবে সর্বদলীয় ইসলামি নেতৃবৃন্দ’

ফাতেহ ডেস্ক :

শাইখুল হাদীস আল্লামা আজিজুল হকের মতো প্রয়াত একজন শ্রেষ্ঠ আলেম ও জাতীয় নেতাকে জঙ্গিনেতা আখ্যায়িত করে যমুনা টিভির প্রতিবেদন প্রচার চরম বিভ্রান্তিমূলক ও ধৃষ্টতার শামিল বলে মন্তব্য করেছেন দেশের শীর্ষ আলেমগণ। রাজধাধীনর পুরানা পল্টনস্থ বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বুধবার (৪ ডিসেম্বর) সকাল ১১টায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই মন্তব্য করেন তাঁরা।

সংবাদ সম্মেলনে দেশের ইসলামি নেতৃবৃন্দের পক্ষে আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমীর লিখিত বক্তব্য পাঠ করা হয়।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, রাষ্ট্রীয় কিংবা আন্তর্জাতিকভাবে আজ অবধি আল্লামা আজিজুল হক রহ. কিংবা তার দলের বিরুদ্ধে জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার ন্যূনতম কোনো অভিযোগ ওঠেনি। আল্লামা আজিজুল হকের বিরুদ্ধে যমুনা টিভির এই মনগড়া অপপ্রচার দেশবাসীর মনে তীব্র ক্ষোভ, ঘৃণা, নিন্দা ও প্রতিবাদের জন্ম দিয়েছে। দেশের সর্বস্তরের উলামায়ে কেরাম ও ধর্মপ্রাণ মুসলমান এই কর্মকাণ্ডকে ইসলাম ও জাতীয় স্বার্থের বিরুদ্ধে আঘাত বলে মনে করছে। এটা দেশে বিদ্যমান গণমাধ্যম আইন ও সম্প্রচার নীতিমালাসহ প্রচলিত ফৌজদারি আইন এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের আলোকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, সর্বজন শ্রদ্ধেয় শায়খুল হাদীসকে জঙ্গিনেতা আখ্যা দিয়ে মিথ্যা বিভ্রান্তিকর প্রতিবেদন প্রচারের জন্য যমুনা টিভিকে অবশ্যই নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে। প্রতিবেদক, নিউজরুম এডিটর, সম্পাদক ও নির্বাহী সম্পাদকসহ এই মিথ্যা প্রতিবেদনের প্রচার ও সম্পাদনায় সম্পৃক্ত দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

যমুনা টিভির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, সরকারের প্রতি আমাদের আহ্বান থাকবে- অনতিবিলম্বে যমুনা টিভির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণ করুন। যারা এই মিথ্যাচারের সাথে জড়িত তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসুন। অন্যথায় এ দেশে তৌহিদি জনতা এর সুমচিত জবাব দেবে। শাইখুল হাদীস আল্লামা আজিজুল হক রহ. আমাদের সকলের মুরুব্বি। তার বণার্ঢ্য কর্মজীবনের ওপর এই আঘাত বরদাশত করা হবে না। যমুনা টিভি যদি তাদের কৃতকর্মের জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা না চায়, সরকার যদি তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহন না করে, তাহলে সর্বদলীয় ইসলামি নেতৃবৃন্দের পক্ষ থেকে যমুনা টিভির বিরুদ্ধে কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে ইনশাআল্লাহ।

সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা নূর হোসাইন কাসেমী, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমির মাওলানা আতাউল্লাহ হাফেজ্জী, ইসলামি ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আব্দুল লতিফ নেজামী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা ইসমাঈল নূরপুরী, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সহসভাপতি মাওলানা আব্দুর রব ইউসুফি, ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়ার সহ-সভাপতি মাওলানা নূরুল ইসলাম, মাওলানা আব্দুল হালিম (পীর সাহেব মধুপুর), বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক, ইসলামি ঐক্য আন্দোলনের চেয়ারম্যান, ড. ঈসা শাহেদী, খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা শফিকুদ্দীন, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, মুসলিম লীগের মহাসচিব আবুল খায়ের, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সহ-সভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব, ইসলামি ঐক্যজোটের সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা সাখাওয়াত রাজি, নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মাওলানা মুসা বিন ইজহার, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মুহিউদ্দীন ইকরাম।

আগের সংবাদবিএসএফের গুলিতে নিহত আরও এক বাংলাদেশি যুবক
পরবর্তি সংবাদইশা ছাত্র আন্দোলনের নতুন কমিটি ঘোষণা