
ফিচার ডেস্ক
মোগল সম্রাট আকবর যতটা প্রতাপের সঙ্গে শাসন করে গেছেন ভারতবর্ষ, দ্বীন-ই এলাহি প্রবর্তন করে নতুন এক ফিতনা ছড়িয়ে দেওয়ার কারণে তারচেয়ে বেশি ধিকৃত হয়ে আছেন ভারতবর্ষের মুসলমানদের কাছে। তারপরও পৃথিবীর ইতিহাসে সম্রাট আকবর এক ঐতিহাসিক নাম। সম্রাট আকবরের রাজধানী ছিল ফতেপুর সিকরি। দিল্লির আগ্রায় অবস্থিত তাজমহল থেকে মাত্র ৩৬ কিলোমিটার দূরেই ঐতিহাসিক ফতেপুর সিকরি। মোগল সাম্রাজ্যের হাজারো স্মৃতি বহন করে এই ফতেপুর সিকরি।
আজ থেকে ৪৫০ বছর আগে ১৫৬৯ খ্রিষ্টাব্দে বাদশাহ আকবরের রাজধানী ছিল ফতেপুর সিকরি। ফতেপুর সিকরিজুড়ে রয়েছে বহু স্মৃতিচিহ্ন, সমাধি সৌধ, দুর্গ, মসজিদ, স্নানাগার, অট্টালিকা এবং পাথর আর পাথর।

ফতেপুর সিকরির অট্টালিকা, দালান ও মসজিদে এখনও ইতিহাসের দাগ লেগে আছে। এখানকার দুর্গগুলো বেলে পাথর দিয়ে তৈরি। রয়েছে রক্তবর্ণের বিশাল প্রাসাদ। এ প্রাসাদের মূল গেটের উচ্চতা প্রায় ৫৪ ফুট। এ তোরণকে এশিয়ার সবচেয়ে উঁচু তোরণ হিসেবে গণ্য করা হয়। এর চারপাশের জায়গা ও স্থাপনাগুলো দেখার মতো।
আশ্চর্যের বিষয় হলো, বাদশাহ আকবরের রাজধানী ফতেপুর সিকরিতে এখন আর থাকার কোনো ব্যবস্থা নেই। তাই তো দর্শনার্থীদের সকাল সকাল সেখানে যেতে হয়। আবার সন্ধ্যার আগেই ফিরে আসতে হয় আগ্রায়।
ফতেপুর সিকরিতেই বাদশাহ আকবর দ্বীন-ই-ইলাহি প্রবর্তন করেন। গড়ে তোলেন মসজিদের আদলে গড়ে তোলেন ‘দ্বীন-ই-ইলাহি’র ইবাদতখানা। ফতেপুর সিকরির এ ইবাদতখানার সামনে আজও বাদশাহ আকবরের বিভিন্ন কীর্তি অবিকৃত অবস্থায় কালের সাক্ষী হয়ে আছে।

ফতেপুর সিকরিতে রয়েছে একটি মাজার। এটিকে সেলিম চিশতির মাজার হিসেবে সবাই চেনে। মূল্যবান শ্বেতপাথরে নির্মিত এ মাজার। সারা বিশ্ব থেকে আগত অনেক দর্শনার্থীই ফতেপুর সিকরি দেখতে আসে।
ফতেপুর সিকরিতে রয়েছে সুন্দর সুন্দর স্থাপত্যশৈলিতে নির্মিত মসজিদ। মসজিদগুলো আজও বাদশাহী আমলের ঐতিহ্যের জানান দেয়। মসজিদের দরজাগুলো দেখার মতো সুন্দর।
কথিত আছে, এ মসজিদেই নামাজ পড়তে আসতেন সম্রাট আকবর। মোগল সাম্রাজ্যের ইতিহাসমৃদ্ধ মসজিদ, স্নানাগার, স্মৃতিসৌধ, বিশাল অট্টালিকা, ইবাদতখানা ও সেলিম চিশতির মাজার এখনও বিশ্বের পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু।
