
ফাতেহ ডেস্ক
রাজনৈতিক সংকটের পর শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী পদে পুনর্বহাল হলেন রনিল বিক্রমাসিংহে।
স্থানীয় সময় রোববার বেলা ১১টার দিকে তাকে শপথ পড়ান দেশটির প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনা। এরমধ্য দিয়ে দেশটিতে দুই মাস ধরে চলা রাজনৈতিক সংকটের অবসান হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
রনিল বিক্রমাসিংহেকে সরিয়ে সাবেক রাজনৈতিক মিত্র মাহিন্দা রাজাপাকসেকে গত ২৬ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব দেন শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনা। প্রেসিডেন্টের এ সিদ্ধান্তকে অসাংবিধানিক আখ্যা দিয়ে, পদ ছাড়তে অস্বীকৃতি জানান বিক্রমাসিংহে। এরপরই সাংবিধানিক শূন্যতার মুখে পড়ে শ্রীলঙ্কা।
প্রেসিডেন্ট সিরিসেনার দাবি, ক্রমবর্ধমান দুর্নীতি ও নীতি প্রণয়ন নিয়ে বিরোধের জেরে প্রধানমন্ত্রী বিক্রমাসিংহেকে বরখাস্ত করেন তিনি। দুর্নীতি তদন্তে কমিশন গঠনের কথাও জানান তিনি। কিন্তু বিক্রমাসিংহে বরাবরই এই দাবির বিরোধিতা করে নিজেকে প্রধানমন্ত্রী বলে দাবি করে আসছেন।
এদিকে গত ৯ নভেম্বর শ্রীলঙ্কার পার্লামেন্ট ভেঙে দিয়ে ৫ জানুয়ারি আগাম সাধারণ নির্বাচনের ঘোষণা দেন সিরিসেনা। তবে ১৩ ডিসেম্বর দেশটির সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্টের ওই ঘোষণাকে অসাংবিধানিক বলে রায় দেয়। একইসঙ্গে রাজাপাকসে ও তার মন্ত্রিসভার ওপর দেয়া নিম্ন আদালতের স্থগিতাদেশের মেয়াদ বাড়ানো হয়।
পার্লামেন্টের দুই দফা আস্থা ভোটে পরাজিত হন রাজাপাকসে। পরে তাকে শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী পদে অযোগ্য ঘোষণা করে আদালত। রাজাপাকসের প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়ার একদিন পর, রোববার পঞ্চমবারের মতো প্রধানমন্ত্রীর পদে শপথ নেন বিক্রমাসিংহে।
শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহে বলেন, দুর্ভাগ্যবশত গত কয়েক সপ্তাহে, দেশের অগ্রগতি ও আমরা যে উন্নয়ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছিলাম তা স্থগিত হয়ে যায়। দেশ পেছনের দিকে চলতে শুরু করে। প্রথমেই আমরা দেশের স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনবো এবং আমাদের উন্নয়ন কর্মসূচি আবারও শুরু করবো।
বিক্রমাসিংহে আবার শপথ নেয়ার পর উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে তার দল ইউনাইটেড ন্যাশনাল পার্টি ইউএনপি। দলের মুখপাত্র জানান, ২০১৯ সালের বাজেট বিবেচনায় রেখে শিগগিরই মন্ত্রিসভা গঠন করবেন বিক্রমাসিংহে।
