রমজান প্রতিদিন- ৩ ।। সাহরি খাওয়ার উত্তম সময়

আবু তাহের মিনহাজ

১.
রাতের শেষাংশের খাবারকে সাহুর বা সাহরি বলা হয়। রাতের শেষ অর্ধেকের সাথে সাথে কিংবা তাড়াতাড়ি করে সাহরি খাওয়া জায়েজ; কিন্তু খেলাফে সুন্নত। কেননা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রাতের একেবারে শেষাংশে ফজরের পূর্বে সাহরি খেয়েছেন বলে হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। যায়দ বিন সাবিত রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে সাহরি খেলাম। এরপর তিনি নামাজের জন্য দাঁড়ান। বর্ণনাকারী বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম, আজান ও সাহরির মাঝে কতটুকু ব্যবধান ছিলো? তিনি বললেন, পঞ্চাশ আয়াত (তেলাওয়াত করা) পরিমাণ। (বুখারী ১৯২১)

উক্ত হাদিসে বর্ণিত আজান বলতে নামাজের ইকামত উদ্দেশ্য। সহিহ বুখারীর অন্য বর্ণনায় এসেছে, সাহরি ও নামাজের মাঝে কতটুকু সময় ব্যবধান ছিলো? যায়দ বিন সাবেত রা. বললেন, পঞ্চাশ অথবা ষাট আয়াত তিলাওয়াত করা যায় পরিমাণ সময়। (বুখারী ৫৭৫)

এ হাদিস থেকে বুঝা যায়, ফজরের পূর্ব মূহুর্ত পর্যন্ত সাহরিকে বিলম্বিত করা মুস্তাহাব। রাতের শেষ অর্ধাংশ শুরু হওয়ার সাথে সাথে সাহরি খেয়ে নিলে ঘুমের কারণে ফজরের নামাজ কাজা হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাছাড়া সাহরি বিলম্বিত করার মধ্যে রোজাদারের কল্যাণ আছে। শারীরিক শক্তি ও স্বাচ্ছন্দ্য পুরো দিন বহাল থাকবে।

বিলম্ব করার মানে এই নয় যে, একেবারে ফজরের আজান পর্যন্ত। বরং সুবহে সাদিক উদয়ের সময়ের প্রতি অবশ্যই খেয়াল রাখবে। বর্তমানে সাহরি ও ইফতারের সময়সূচীর ক্যালেন্ডার খুব সহজেই পাওয়া যায়। সাহরির সময় শেষ হওয়ার আগেই পানাহার সমাপ্ত করে নিবে।

২.
রাতের শেষ তৃতীয়াংশে ইবাদতের ফজিলত সম্পর্কে কুরআন ও হাদিসে বহু বর্ণনা রয়েছে। আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত রাসুল সা. বলেন, যখন রাতের অর্ধেক অথবা দুই তৃতীয়াংশ অতিক্রম হয় তখন আল্লাহ তায়ালা দুনিয়ার আসমানে অবতরণ করে বলতে থাকেন, কোনো প্রার্থনাকারী আছে কি? যাকে দেওয়া হবে। কোন আহ্বানকারী আছে কি? যার আহ্বানে সাড়া দেওয়া হবে। কোন ক্ষমাপ্রার্থনাকারী আছে কি? যাকে ক্ষমা করা হবে। আল্লাহ তাআলা ভোর না হওয়া পর্যন্ত এরূপ বলতে থাকেন। (মুসলিম ১৬৫৯)

রাতের শেষাংশ ইবাদতের জন্য বরকতময় মুহুর্ত। মাকবুল সময়। দোয়া কবুলের নিশ্চয়তার সময়। প্রিয়তমের সাথে একান্তে আলাপচারিতা ও প্রেমবাক্য বিনিয়ের অনন্য সুযোগ। বছরের অন্য মাসগুলোতে ঘুমের কারণে শেষরাতে ইবাদতের সুযোগ হয় না। কিন্তু রমজানে সাহরি খাওয়ার জন্য রাতের শেষ প্রহরে ঘুম থেকে জাগতে হয়। সুতরাং সাহরির আগে কিছু নফল নামাজ, ইস্তেগফার, জিকির ও দোয়া করে নেওয়া অনেক উত্তম। যাতে তাহাজ্জুদের সওয়াবও অর্জন হয়ে যায়।

লেখক : তরুণ আলেম, সুনামগঞ্জ

আগের সংবাদপার্থকে ২০ দলীয় জোটে ফেরানোর আপ্রাণ চেষ্টা বিএনপির
পরবর্তি সংবাদআব্বাসী মাদানী : সদ্য প্রয়াত কিংবদন্তি ইসলামপন্থী নেতার জীবন ও চিন্তা