
আবু তাহের মিনহাজ
১.
আনাস বিন মালিক রা. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মাগরিবের নামাজের পূর্বেই কয়েকটি তাজা খেজুর দিয়ে ইফতার করতেন, যদি তাজা খেজুর না থাকতো তবে খোরমা দিয়ে, যদি তাও না থাকতো তাহলে কয়েক ঢোক পানি দিয়ে (ইফতার করতেন)। (আবু দাউদ ২৩৫৬, তিরমিজি ৬৯৬)
এ হাদিস থেকে বুঝা যায়, সূর্যাস্তের পর মাগরিবের নামাজের আগেই ইফতার করা সুন্নত। ইফতার সেরে নামাজ পড়া। তবে ইফতার করতে গিয়ে যেন মাগরিবের জামাত ছুটে না যায় সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখা। দ্বিতীয়ত, খেজুর দিয়ে ইফতার করা সুন্নত। সম্ভব হলে পাকা (তাজা) খেজুর, নতুবা শুকনা খেজুর (খোরমা), তাও না হলে পানি দ্বারা ইফতার করা। যেসব এলাকায় খেজুর পাওয়া যায় না সেখানে কোনো তাজা ফল বা মিষ্টিজাতীয় কোনো কিছু দিয়ে ইফতার করা উত্তম।
২.
সালমান বিন আমির রা. থেকে বর্ণিত, রাসুল সা. বলেন, তোমাদের কেউ যখন ইফতার করে সে যেনো খেজুর দিয়ে ইফতার করে। কেননা এতে বরকত ও কল্যাণ রয়েছে। যদি সে খেজুর না পায় তাহলে যেনো পানি দিয়ে ইফতার করে। কেননা পানি হলো পবিত্র। (তিরমিজি ৬৫৮, ইবনে মাজাহ ১৬৯৯)
আল্লামা মুফতি তাকি উসমানী হাফি. বলেন, এ হাদিস দ্বারা রাসুল সা.-এর উদ্দেশ্য হলো, ইফতার হালাল এবং পবিত্র খাদ্য দ্বারা হওয়া জরুরী। চায় তা খেজুর হোক বা পানি কিংবা অন্য কোনো জিনিস। (দরসে তিরমিজি ২/৫৩৮)
খেজুর দিয়ে ইফতার করার মাঝে বরকত ও কল্যাণ রয়েছে। স্বাস্থ্যগত উপকারিতা বিবেচনায়ও অত্যন্ত সূক্ষ্ম তাৎপর্যপূর্ণ। চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, খেজুর ছোট্ট একটি ফল হলেও রোজাদারের সারাদিনের ক্লান্তি দূর করতে একটি খেজুরই যথেষ্ট। খেজুরে রয়েছে প্রচুর শক্তি, শর্করা ভিটামিন ও মিনারেল। দীর্ঘ সময় খালি পেট থাকার কারণে দেহে যে গ্লুকুজের অভাব দেখা দেয় খেজুর সেই ঘাটতি পূরণ করে। ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম রাহি. বলেন, দীর্ঘ সময় পাকস্থলী খালি থাকার কারণে হজমপ্রক্রিয়া বন্ধ থাকে। এরপর যখন মিষ্টিজাতীয় ও তাজা কোনো খাদ্য সেখানে যায় তখন খুব সহজেই পরবর্তী খাবার হজম হয়। যা স্বাস্থ্যের জন্য খুব উপকারী। তাছাড়া পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ খেজুরের বহুবিদ উপকারিতা রয়েছে। যা স্বতন্ত্র আলোচনার বিষয়।
৩.
আনাস বিন মালিক রা. এর হাদিস বর্ণনার পর ইমাম আবু ঈসা তিরমিজি রাহি. বলেন, রাসুল সা. শীতের সময় শুকনো খেজুর দ্বারা গ্রীষ্মের মৌসুমে পানি দ্বারা ইফতার করতেন। (তিরমিজি ৬৯৬)
গ্রীষ্মের মৌসুমে তাপের কারণে পানির চাহিদা বেশি থাকে। তাছাড়া প্রথমেই পানি দ্বারা ইফতার করলে শরীরে শীতল ভাব আসে। আর শীতের সময় খেজুরের উষ্মতা উপকারী। এজন্যই রাসুল সা. এ আমল করতেন।
লেখক : তরুণ আলেম, হবিগঞ্জ
