
ফাতেহ ডেস্ক
ছাত্রীদের টিফিনের টাকা আত্মসাৎসহ নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে রাজশাহীর সরকারি পিএন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা তৌহিদ আরার বিরুদ্ধে।
তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগ থেকে জানা গেছে, শিক্ষার্থীদের টিফিন না দিয়েও তা রেজিস্ট্রারে লিপিবদ্ধ করেন তিনি। এভাবে টিফিনের মোটা অংকের টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এ সব অনিয়মের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দফতরে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ রয়েছে, ক্রয় কমিটির চাহিদাপত্র ছাড়াই নিজের ইচ্ছামতো কেনাকাটা করেছেন প্রধান শিক্ষিকা তৌহিদ আরা। বিলও তোলা হয়েছে। কিন্তু এ সব বিলে রয়েছে ব্যাপক অসামঞ্জস্য।
প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হল, শিক্ষার্থীদের টিফিনের টাকা আত্মসাতের। শিক্ষার্থীদের ছুটির দিনেও রেজিস্ট্রারে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে টিফিনের বিল। অভিযোগপত্রে এমন দুই দিনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগপত্র অনুসন্ধানে দেখা গেছে, একটি বিজ্ঞপ্তিতে স্বাক্ষর করে প্রধান শিক্ষক তৌহিদ আরা গত বছরের ১৫ ও ১৬ মে সৃজনশীল প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, পরিশোধন ও উত্তরপত্র মূল্যায়ন সংক্রান্ত প্রশিক্ষণের জন্য স্কুলের প্রভাতি এবং দিবাশাখার শিক্ষার্থীদের তৃতীয় পিরিয়ডের পর ছুটির ঘোষণা দিয়েছেন। কিন্তু ছুটির এ দুই দিনও শিক্ষার্থীদের টিফিন দেয়া হয়েছে বলে রেজিস্ট্রারে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্কুলটির একাধিক শিক্ষক বলেছেন, প্রধান শিক্ষিকা মাঝে মাঝেই বেতন আদায়, প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, পরিশোধন ও উত্তরপত্র মূল্যায়নের বিশেষ বিশেষ দিন সৃষ্টি করে শিক্ষার্থীদের তৃতীয় বা চতুর্থ পিরিয়ডের পর ছুটি দিয়ে দেন। এর ফলে টিফিন সরবরাহের প্রয়োজন পড়ে না।
কিন্তু এ সব দিনেও টিফিন প্রদান করা হয়েছে বলে রেজিস্ট্রারে স্বাক্ষর করতে শিক্ষকদের বাধ্য করেন। এ ছাড়া ঠিকাদারের সঙ্গে যোগসাজশ করে কমদামের খাবার দিয়ে দামি খাবারের সরবরাহ দেখিয়ে টাকা আত্মসাৎ করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ছাত্রী জানিয়েছেন, যে দিন তিন থেকে চারটি পিরিয়ডের পর স্কুল ছুটি হয়ে যায়- সেদিন টিফিন দেয়া হয় না।
প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে কেনাকাটা ও মেরামতে দুর্নীতির বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে কম্পিউটার মেরামত বাবদ দুটি বিলে ৩৫ হাজার ৩০০ টাকার দুটি বিল প্রায় একই রকমের। এক সপ্তাহের ব্যবধানে স্কুলের ১০টি করে মোট ২০টি কম্পিউটারের সার্ভিসিং হয়েছে। এ ছাড়া দুটি বিলেই কেনা দেখানো হয়েছে একটি করে দুই জিবি র্যাছম, একটি করে মাদারবোর্ড, দুটি করে পাওয়ার সাপ্লাই এবং একটি করে হার্ডডিস্ক।
চলতি বছরের ১৫ মে প্রথম বিলটি করা হয়েছে ১৪ হাজার ৭০০ টাকার। আর এর এক সপ্তাহের মাথায় ২১ মে দ্বিতীয় বিলটি করা হয়েছে ১৬ হাজার ৭০০ টাকার। দুটি বিলেই শুধু হার্ডডিস্কের দাম ছাড়া বাকি সবগুলো পণ্যের দাম সমপরিমাণ।
স্কুলটির শিক্ষকরা বলছেন, ১০টি কম্পিউটার মেরামত করার পর এক সপ্তাহের মাথায় আরও ১০টি নষ্ট হবে এবং মেরামতের ক্ষেত্রে একইরকম সামগ্রীর প্রয়োজন পড়বে, এটা অবিশ্বাস্য। তাই বিল দুটি কাল্পনিক এবং ভুয়া।
এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষিকা তৌহিদ আরা বলেন, স্কুল পরিচালনার জন্য কেনাকাটা ক্রয় কমিটির মাধ্যমে করা হয়েছে। এর সব ডকুমেন্ট আমার কাছে আছে। আর টিফিনের টাকা আত্মসাতের অভিযোগও সঠিক না। একটি মহল পরিকল্পিতভাবে আমার সুনাম নষ্ট করার চেষ্টা করছে বলে দাবি করেন তিনি।
