রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলা : সমর্থন বাড়াতে সরকারের কূটনৈতিক পরিকল্পনা

রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলা : সমর্থন বাড়াতে সরকারের কূটনৈতিক পরিকল্পনা

ফাতেহ ডেস্ক :

রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলায় আরও বেশি আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায়ের জন্য বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করার পরিকল্পনা করছে সরকার। এখন পর্যন্ত ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) ৫৭টি সদস্য দেশ, কানাডা ও নেদারল্যান্ডস প্রকাশ্যে এ ব্যাপারে সমর্থন দিয়েছে। এর পরিধি আরও বিস্তৃত করার জন্য সরকার কূটনৈতিক যোগাযোগ আরও বাড়াবে বলে জানিয়েছে একাধিক সূত্র।

এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বলেন, ‘গণহত্যার শুনানিতে গাম্বিয়া সুন্দরভাবে মামলাটি উপস্থাপন করেছে। আমরা আশা করছি, যে কয়েকটি বিষয়ের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ চাওয়া হয়েছে তার সবক’টি না হলেও অধিকাংশ বিষয়ে আদালত একমত হবেন। আমরা আশা করছি এক মাসের মধ্যে আদালত একটি অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেবেন এবং প্রথা অনুযায়ী তার এক থেকে দুই মাসের মধ্যে মূল মামলা শুরু হবে।’

এদিকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আন্তর্জাতিক বিচারিক আদালতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গাম্বিয়ার গণহত্যার উদ্দেশ্যে আনীত অভিযোগকে স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশ।

১০ থেকে ১২ ডিসেম্বর হেগে আদালতের শুনানিতে বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধি দল পররাষ্ট্র সচিব এম শহীদুল হকের নেতৃত্বে অংশ নেয়। হেগে অবস্থানকালে শহীদুল হক আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এছাড়া একাধিক আন্তর্জাতিক এনজিও আয়োজিত ‘রাইট টু রিপ্লাই’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে তিনি অংশগ্রহণ করেন।

উল্লেখ্য, গত ১১ নভেম্বর গাম্বিয়া গণহত্যার অভিযোগ আনে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে। যেহেতু এ ধরনের মামলা অনেক দিন ধরে চলে সেজন্য গাম্বিয়া একটি অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ চায় আদালতের কাছে। সেটির শুনানি অনুষ্ঠিত হলো ১০ থেকে ১২ ডিসেম্বর।

গাম্বিয়া কয়েকটি বিষয়ের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ চেয়েছে। সেগুলো হচ্ছে– গণহত্যা বন্ধের জন্য মিয়ানমার অবিলম্বে ব্যবস্থা নেবে; মিলিটারি, প্যারামিলিটারি ও বেসামরিক অস্ত্রধারী ব্যক্তি যাতে কোনও ধরনের গণহত্যা সংঘটিত না করে সে ব্যবস্থা নেওয়া; মিয়ানমার গণহত্যা সংক্রান্ত কোনও ধরনের প্রমাণ নষ্ট করবে না; এবং বর্তমান পরিস্থিতিকে আরও বেশি জটিল ও খারাপ করে এমন কোনও কাজ করবে না।

আগের সংবাদভারতের নাগরিকত্ব আইন পর্যবেক্ষণ করছে বাংলাদেশ : পররাষ্ট্রমন্ত্রী
পরবর্তি সংবাদসু চি’র রোহিঙ্গা গণহত্যা অস্বীকার : যেভাবে দেখছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম