
রাকিবুল হাসান
ভারত ও পাকিস্তানের নতুন দুটি জাতির সীমানা আঁকানোর জন্য গঠিত কমিটির সভাপতির দায়িত্ব দেয়া হয় ব্রিটিশ আইনজীবী এবং ল লর্ড সিরিল জন রেডক্লিফকে। বর্ডার ড্রয়িং নির্দেশনায় বলা হয়—ভারতে যতবেশি হিন্দু এবং শিখ রাখা যায়, আর পাকিস্তানে যতবেশি মুসলমান রাখা যায়।
১৪ আগস্ট স্বাধীনতা পায় পাকিস্তান, ১৫ আগস্ট ভারত। ১৭ আগস্ট ঘোষিত হয় ভারত ও পাকিস্তানের সীমানা।শুরু হয় মানুষের এপার ওপার। ভারত ভাগের এই স্পর্শকাতর সময়ে প্রাণহানির আনুমানিক হার দশ মিলিয়ন। একমাত্র পাঞ্জাবেই প্রাণহানির ধারনা করা হয় ৫ থেকে ৮ লাখ।
৭২ বছর আগের ফ্লাশব্যাকে তাকালে চোখে পড়ে ছোপ ছোপ রক্ত। জেলির মত রক্ত মিশে যাওয়া উৎকট গন্ধযুক্ত মাটি থেকে উত্থিত হাহাকার। বেদনার বাষ্প বুকটাকে করে তুলে ভারী, ভীষণ ভারী।

নয়াদিল্লিতে দেশভাগের পরিকল্পনা প্রকাশের সম্মেলন। (বাম থেকে ডানে) ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু, মাউন্টব্যাটেনের উপদেষ্টা লর্ড ইসমাই, ভারতের ভাইসরয় লর্ড লুই মাউন্টব্যাটেন এবং অল ইন্ডিয়া মুসলিম লীগের প্রেসিডেন্ট মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ।

১৬ আগস্ট, ১৯৪৭; লাহোর গেটে জওহারলাল নেহরুর ভারতীয় তেরেঙা উত্তোলন দেখতে উপস্থিত হয়েছিলো হাজার হাজার মানুষ। কারণ ভারতের নতুন মন্ত্রিসভা ১৫আগস্ট শপথ নিয়েছে।

মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান প্রজাতন্ত্রের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথ গ্রহণ করেছিলেন।

৭ আগস্ট, ১৯৪৭; নতুন পাকিস্তান সরকারের কর্মচারীদের বহন করে নিয়ে যাওয়া ৩০টি বিশেষ ট্রেনের একটি। পুরাতন দিল্লি স্টেশনে দাঁড়িয়ে, করাচির উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে। তাদের সম্মানে মুসলিম লীগ ন্যাশনাল গার্ড অনার্ড দিচ্ছে।

১৯৪৭ সালের সেপ্টেম্বর; পাকিস্তানে যেতে নিরাপদ পরিবহনের জন্য জড়ো হয় মুসলিমরা।

একজন মুসলিম লীগ ন্যাশনাল গার্ড দিল্লির পুরোনো স্টেশনে, পাকিস্তানের উদ্দেশ্যে ট্রেনটি ছেড়ে যাওয়ার আগে, শরণার্থী পরিবারের জলের পাত্র পূর্ণ করে দিচ্ছে।

১৯৪৭ সালে শরণার্থীদের নিয়ে সীমান্তবর্তী শহর অমৃতসর থেকে পাকিস্তানের উদ্দেশ্যে ট্রেনটি ছেড়ে যায়। যদিও ট্রেনগুলো গোপনীয় পথে সশস্ত্র রক্ষীদের সাথে যাত্রা করেছিলো, তবুও তাদের ওপর আক্রমণ করা হয়েছিলো।

মুসলিম শরণার্থীরা দিল্লির পুরোনো কেল্লায় প্রবেশ করছে। সহিংসতা থেকে নিরাপদ থাকার জন্য।

নয়াদিল্লির পুরোনো কেল্লার দেয়ালে বসে আছে একটি কিশোর। দেশভাগের উত্তাল সময়ে ষোল শতকের এই দুর্গটি অন্যতম বৃহত্তম শরণার্থী শিবিরে পরিণত হয়েছিলো।

১৯৪৭ এর অক্টোবর ; হিন্দুদের আক্রমণের ভয়ে বাড়ি ছেড়ে পালানো কিছু মুসলিম। পাকিস্তানগামী কাফেলার জন্য দিল্লির পুরাতন কেল্লায় অপেক্ষা করছে।

সীমানা পেরুনো মানুষের ঢল

দিল্লির বৃহত্তম শরণার্থী শিবির—কিংসওয়ে ক্যাম্প। প্রায় তিন লাখ শরণার্থী ছিলো এখানে। যাদের কারও কারও স্বজন সীমান্তের ওপারে। এখন যেখানে গুরু তেগ বাহাদুর বা জিটিবি নগর, সেখানেই ছিলো ক্যাম্পটি।

১৯৪৭ এর শিখ রিফিউজি

মুসলমানদের পানির জন্য সারি

সাম্প্রদায়িক সহিংসতা বন্ধের আর্জি জানাতে হিন্দু-মুসলিমদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখছেন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু। মহাত্মা গান্ধীও এতে যোগ দিয়েছিলেন।

ভারতীয় সরকার কর্তৃক স্থাপিত ২০০ শরণার্থী শিবের একটির ভেতরের অংশ। ইউএনএইচসিআর-এর অনুমান অনুযায়ী এই দেশভাগ প্রায় ১৫ মিলিয়ন লোককে বাস্তুচ্যুত করেছে।
পাকিস্তানের উদ্দেশ্যে দিল্লি থেকে ছেড়ে যাওয়া প্রায় ছয় হাজার মুসলমান বহনকারী একটি স্পেশাল ট্রেনের ড্রাইভার। আগস্ট, ১৯৪৭।

দিল্লির দাঙ্গায় রাস্তায় পড়ে থাকা লাশ। সরিয়ে দেবার জন্য ট্রাকে তুলে দেয়া হচ্ছে।
আগস্ট, ১৯৪৭; ভারত ভাগের পর গণ অভিবাসন চলাকালীন অনাহারে মারা যাওয়া শিশুকে কবর দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে পরিবারের লোকেরা।

রেলপথের পাশে পড়ে আছে পরিত্যক্ত লাশ। ভয়ংকর।

রেলস্টেশনে একজন মহিলার মমতদেহ পরিণত হয়েছে কুকুরের খাবারে।

সীমান্তবর্তী এক জলাশয়ে মৃতদেহ খাচ্ছে শকুনের দল।

অনেক গেস্ট হাউজ দু’দেশের মধ্যে যাতায়াতকারী শরণার্থীদের আশ্রয়ে পরিণত হয়েছিলো।

জন্মু কাশ্মীরে অবতরণ করেছে ভারতীয় বিমান ‘ভিপি ১৭’। শরণার্থীদের বহন করার জন্য।

. বৃদ্ধ পুরুষ ও অসুস্থদের এভাবেই পরিবারের পুরুষরা সীমান্ত পেরিয়ে নিয়ে গিয়েছিলো।

এভাবেই দেশ বিভাগের সময় অভিবাসীরা পাকিস্তানে পাড়ি জমান।
