
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ভারতের লখনৌতে মুসলিমদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর বিরুদ্ধে কুৎসা রটনাকারী কুখ্যাত হিন্দু নেতাকে প্রকাশ্যে গুলি করে ও গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার (১৮ অক্টোবর) সকালে ভয়াবহ এই ঘটনাটি ঘটেছে রাজ্যের রাজধানী লখনৌতে। নিহত ওই চরমপন্থি হিন্দু নেতার নাম কমলেশ তিওয়ারি। তিনি হিন্দু সমাজ পার্টির সভাপতি ও হিন্দু মহাসভার সাবেক নেতা।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, শুক্রবার দুপুর পৌনে দু’টো নাগাদ লখনৌয়ের খুরশিদবাগে কমলেশের অফিসে গেরুয়া পোশাক পরা এক ব্যাক্তি আসে। অভিযোগ, ওই ব্যক্তিই তাঁকে খুন করেছে। ওই ব্যক্তির হাতে ছিল মিষ্টির বাক্স। দিওয়ালি উপলক্ষে কমলেশকে মিষ্টি উপহার দেওয়ার কথা বলেছিল ওই ব্যক্তি। কমলেশের সঙ্গে সে কয়েক মিনিট কথাও বলে। এরপরই মিষ্টির বাক্স এগিয়ে দেওয়ার অছিলায় বাক্স থেকে পিস্তল বার করে খুব কাছ থেকে কমলেশকে লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি চালায় আততায়ী।
শুধু গুলি নয়, কমলেশকে কোপানো হয় বলেও অভিযোগ। এর পরই সেখান থেকে চম্পট দেয় আততায়ী। কমলেশকে তাঁর দফতর থেকে দ্রুত লখনৌয়ের ট্রমা কেয়ার সেন্টারে নিয়ে গেলে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।ঘটনার পরেই গন্ডগোলের আশঙ্কায় বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয় গোটা এলাকায়।
এদিকে তিওয়ারি খুনে জড়িত থাকার অভিযোগে শনিবার তিন জনকে গ্রেফতার করেছে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। ধৃতেরা হল শাম্মি পাঠান, ফৌজান পাঠান এবং মৌলবী মহসিন শেখ। পুলিশ সূত্রে খবর, এ দিন সকালেই সুরাত থেকে এই তিন জনকে প্রথমে আটক করে গুজরাত পুলিশের সন্ত্রাসদমন শাখা (এটিএস)। তাদের জেরা করার পরই গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ আরও জানিয়েছে, কমলেশকে যারা গুলি করেছিল, সেই দুই শুটারকেও চিহ্নিত করা গিয়েছে। সুরাতের একটি মিষ্টির দোকানের সিসিটিভি ফুটেজে তাদের ছবিও ধরা পড়েছে। তাদের খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। সিসিটিভি ফুটে়জে দু’জন পুরুষ এবং এক জন মহিলাকে দেখা গিয়েছে। তবে সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়া ওই দুই ব্যক্তিকে এখনও খুঁজে পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর বিরুদ্ধে অসম্মানজনক মন্তব্য করে খবরের শিরোনামে আসেন তিওয়ারি। তার মন্তব্যের ফলে দেশজুড়ে মুসলিমদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়, এবং ব্যাপক প্রতিবাদ আসে একাধিক মহল থেকে। ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৫৩ ‘ক’ (ধর্মের ভিত্তিতে একাধিক গোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুতা সৃষ্টি করা এবং শান্তি বিঘ্নিত করা), এবং ২৯৫ ‘ক’ (ইচ্ছাকৃতভাবে কোনও গোষ্ঠীর ধর্মীয় বিশ্বাসে আঘাত করা বা ধর্মকে অপমান করা) ধারায় তার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়। এর পরে জাতীয় সুরক্ষা আইনের আওতায় গ্রেফতারও করা হয় তিওয়ারিকে, যদিও ২০১৬ সালে তাঁর বিরুদ্ধে জাতীয় সুরক্ষা আইন লঙ্ঘন করার অভিযোগ বাতিল করে দেয় এলাহাবাদ হাইকোর্টের লখনৌ বেঞ্চ।
প্রসঙ্গত, হিন্দু মহাসভা একটি দক্ষিণপন্থী জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক দল, যা ব্রিটিশ-শাসিত ভারতে হিন্দুদের অধিকার সুরক্ষিত রাখার উদ্দেশ্যে গঠিত হয়। সীতাপুরের বাসিন্দা তিওয়ারি মধ্য লখনৌ আসন থেকে দলের হয়ে ২০১২ সালে বিধানসভা নির্বাচনে লড়ে হেরে যান।
