সামীম আফজাল : পদত্যাগ নিয়ে ‘টানাটানি’?

বিশেষ প্রতিবেদক

দুর্নীতির অভিযোগে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক (ডিজি) সামীম মোহাম্মদ আফজালকে নিয়ে তুমুল অস্থিরতা বিরাজ করছে রাষ্ট্রায়ত্ত এই প্রতিষ্ঠানে। সেই সঙ্গে ধুম্রজাল তৈরি হয়েছে তাঁর পদত্যাগ নিয়ে। দুর্নীতির কারণে ধর্মমন্ত্রণালয় থেকে তাঁর ওপর পদত্যাগের চাপ থাকলেও পদত্যাগ করতে চাইছেন না তিনি। গতকাল রোববার সসম্মানে পদত্যাগের কথা থাকলেও পদত্যাগ করেননি, অফিসেও আসেননি, ছুটে গিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করতে।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর কী সিদ্ধান্ত হলো, এখনও কিছু জানা যায়নি। তবে তাঁর অব্যাহত অনিয়ম এবং দুর্নীতির কারণে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীর বড় একটি অংশ চাইছেন না, তিনি ডিজি হিসেবে বহাল থাকুন।

সামীম আফজাল : ফাইল ছবি 

অবসরপ্রাপ্ত জেলা জজ সামীম আফজাল ২০০৯ সালে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক পদে নিয়োগ পান। তাঁর বিরুদ্ধে ওআইসি মহাসচিবের ঢাকায় সফর, ছাপাখানা ও নিয়োগ নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগ তদন্ত করে প্রতিবেদন চেয়ে গত ৭ মে ধর্ম মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গত সোমবার মহাপরিচালককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। তাঁর সঙ্গে চুক্তি কেন বাতিল করা হবে না জানতে চাওয়া হয়েছে নোটিশে। তবে এসব বিষয়ে সামীম আফজাল এ পর্যন্ত কোনো বক্তব্য দেননি গণমাধ্যমে।

সূত্র জানিয়েছে, কয়েক মাস ধরেই টানাপড়েন চলছে মন্ত্রণালয় ও ফাউন্ডেশনের মধ্যে। গত জানুয়ারিতে শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ার পর তাঁর সঙ্গেও টানাপড়েন চলছে মহাপরিচালকের। মন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ার আগে ইফার গভর্নরের দায়িত্ব পালন করেন শেখ আবদুল্লাহ।

গত অক্টোবরে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের পিলার অপসারণ করে দোকানের আয়তন বাড়িয়ে নেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা সোহরাব গাজী। তিনি আওয়ামী লীগ বায়তুল মোকাররম ইউনিটের সাবেক সভাপতি। এ ঘটনার তদন্ত করে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সুপারিশ করেছিল ইফার পরিচালক (মসজিদ ও মার্কেট) মুহাম্মদ মহীউদ্দিন মজুমদারের নেতৃত্বে একটি কমিটি। সোহরাব গাজীর স্ত্রীর দোকান বরাদ্দপত্র বাতিলেরও সুপারিশ করে কমিটি।

ইফা সূত্রের খবর, ফাউন্ডেশনের বৈঠকে পিলার অপসারণকারীর পক্ষে অবস্থান নেন সামীম আফজাল। ইফার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণের অভিযোগে গত ৩০ মে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় মহীউদ্দিন মজুমদারকে। তবে পরবর্তীকালে ধর্ম মন্ত্রণালয় সাময়িক বরখাস্তের আদেশ বাতিল করে এবং সামীম আফজালকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়। আগামী ডিসেম্বরে ডিজির মেয়াদ শেষ হবে।

ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ গণমাধ্যমকে বলেছেন, মহাপরিচালক কথা দিয়েছিলেন তিনি পদত্যাগ করবেন। ফাউন্ডেশনের সবাই তাঁর কর্মকাণ্ডে বিরক্ত। ফাউন্ডেশনের স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মতো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রধানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আসা খুবই দুঃখজনক। আর্থিক অনিয়ম, নিয়োগ দুর্নীতিসহ এমন কোনো অভিযোগ নেই, যা তাঁর বিরুদ্ধে নেই। সামীম আফজাল গুরুতর অসুস্থ। যে-কোনো সময় ভালোমন্দ কিছু একটা হয়ে যেতে পারে। কিন্তু তিনি পদ ছাড়তে রাজি নন।

ধর্ম প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, গতকাল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছেন সামীম আফজাল। প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রীকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নানা বিষয় নিয়ে ব্যস্ত থাকতে হয়। ইসলামিক ফাউন্ডেশনে কী চলছে তা হয়তো তাঁকে জানানো হয় না। এর সুযোগ নিচ্ছেন কেউ কেউ।’

গত শনিবার ফাইল সরাতে গিয়ে কর্মকর্তাদের বাধার মুখে পড়ার পর ইসলামিক ফাউন্ডেশনের গভর্নর মিসবাহুর রহমান চৌধুরীর মধ্যস্থতায় উদ্ধার পেয়েছিলেন সামীম আফজাল। মিস্টার মিসবাহ গণমাধ্যমকে জানান, তাঁকে সামীম আফজাল বলেছিলেন তিনি পদত্যাগ করবেন। তিনি যদি কথা না রাখেন, তাহলে কারও কিছু করার নেই। তবে মিসবাহ সাহেব এখনও আশা করছেন, সামীম আফজাল সম্মানজনকভাবে বিদায় নেবেন এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনে চলমান অস্থিরতার অবসান হবে।

ইফা সূত্র জানিয়েছে, সামীম আফজালকে ২০০৯ সালে মহাপরিচালক পদে নিয়োগের পর সংস্থাটিতে তাঁর একক কর্তৃত্ব চলছে। তিনি দুই ভাতিজা ও এক ভাগ্নেকে প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা পদে চাকরি দিয়েছেন। ভাতিজাকে চাকরি দিতে মুক্তিযোদ্ধার কোটায় উত্তীর্ণ প্রার্থীকে বাদ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এছাড়া রাজাকারপুত্রকে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরি দেওয়ার অভিযোগেও অভিযুক্ত তিনি। রয়েছে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগও।

আগের সংবাদমিয়ানমারে ত্রাণ সহায়তা প্রত্যাহারের হুমকি জাতিসংঘের
পরবর্তি সংবাদমুমতাজ মহল : যাঁর প্রেমের অমর সৃষ্টি তাজমহল