
ফাতেহ ডেস্ক
নানা রকম অপকর্ম ঘটানো মিয়ানমারের সেনাদের লক্ষ্য বিশ্বের প্রথম শ্রেণির যোদ্ধা বাহিনীতে পরিণত হওয়া। আর এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে ব্যাপক অস্ত্র কেনাকাটা করে যচ্ছে তারা। রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে দেশটির ওপর ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। জাতিসংঘের সত্যানুসন্ধানী মিশন এ মাসের গোড়ার দিকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর সঙ্গে আর্থিক লেনদেন ছিন্ন করার আহ্বানও জানিয়েছে। তবে এ নিয়ে খুব একটা মাথাব্যথা নেই চীন, রাশিয়া, ভারত বা ইসরায়েলের। দেশগুলো মিয়ানমারের কাছে যে শুধু অস্ত্র বিক্রি করছে তাই নয়, বরং জাতিসংঘের নানা পদক্ষেপের বিরুদ্ধে কূটনৈতিক আশ্রয়ও দিচ্ছে।
মিয়ানমার সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে ‘পোড়া মাটি’ অভিযান চালানোর পর প্রায় সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেয়। লন্ডনভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের গতকাল বুধবার দেওয়া প্রতিবেদন অনুসারে, মিয়ানমারে রাখাইন গোষ্ঠীর বিদ্রোহীদের তৎপরতা আবারও বাড়ছে। রোহিঙ্গাদের পালিয়ে আসা এলাকাগুলোতে তাদের নির্যাতনও বাড়ছে।
তবে এ ঘটনার কোনো প্রভাব সেনাবাহিনীর ওপর পড়েনি। বন্ধু দেশগুলোর সহায়তায়ও কোনো ঘাটতি দৃশ্যমান নয়। মিয়ানমারকে অস্ত্র সরবরাহকারী দেশগুলোকে নিয়েই এই প্রতিবেদন সাজানো হয়েছে।
চীন : মিয়ানমারের ওপর থেকে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হলেও এখনো দেশটির কাছে অস্ত্র বেচে না যুক্তরাষ্ট্র। তবে সে ধরনের কোনো বালাই চীনের নেই। স্টকহোমের গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের দেওয়া তথ্য মতে, মিয়ানমারের প্রধান অস্ত্র সরবরাহকারী দেশ চীন। ২০১৩-১৭ সাল পর্যন্ত মিয়ানমার ৬৮ শতাংশ অস্ত্রই কিনেছে চীনের কাছ থেকে। এর মধ্যে সাঁজোয়া যান, ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি, রাডার ও অস্ত্র বহনে সক্ষম নয় এমন ড্রোনও রয়েছে। আড়াই কোটি ডলার মূল্যের যুদ্ধবিমানও কিনেছে তারা। সংস্থাটির মতে, অস্ত্রের নাম বলামাত্র চীন তা সরবরাহ করতে প্রস্তুত হয়ে যায়।
রাশিয়া : সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বপর্যায়ে মিয়ানমারের অন্যতম মিত্র রাশিয়া। গত মাসেই দেশটি সফর করেছেন মিয়ানমারের সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইং। রুশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী গত বছর মিয়ানমার সফর করে গেছেন। মিয়ানমার রাশিয়ার কাছ থেকে ছয়টি এসইউ-৩০ বিমান কিনেছে, যার মোট দাম ২০ কোটি ডলার। এগুলোই মিয়ানমার বিমানবাহিনীর প্রধান যুদ্ধবিমান। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর সতর্ক করে বলেছে, রাশিয়ার সঙ্গে মিয়ানমারের এই বিশেষ সম্পর্ক রোহিঙ্গা সংকটকে আরো বাড়িয়ে দিতে পারে।
ভারত : রোহিঙ্গারা ২০১৭ সালের যে সময়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে শুরু করে তখন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মিয়ানমার সফরে যান। দেশটির বেসামরিক নেতা অং সান সু চির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি। পাশাপাশি মিয়ানমারের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক জোরদারেও সম্মতি দিয়ে আসেন তিনি। মিয়ানমারের বিশেষ করে নৌবাহিনীকে নানাভাবে সহায়তা করছে ভারত। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ঘন ঘন ভারত সফর করছেন মিয়ানমারের সেনাপ্রধান।
ইসরায়েল : এশিয়ায় ইসরায়েলের অন্যতম মিত্র মিয়ানমার। দেশটিকে ইসরায়েল সামরিক সহায়তাও করেছে। অস্ত্র বিক্রির সম্পর্কও তাদের মধ্যে ছিল। তবে বিষয়টি নিয়ে ইসরায়েলের ভেতরে তীব্র প্রতিবাদ-বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর অস্ত্র বিক্রি বন্ধ করতে বাধ্য হয় সরকার। সূত্র : এএফপি।
