
রাকিবুল হাসান
রথযাত্রা উপলক্ষে চট্টগ্রামের একটি স্কুলে ছাত্রছাত্রীদের মাঝে ‘কৃষ্ণ প্রসাদ’ বিতরণ করেছে ইসকন নামের একটি আন্তর্জাতিক হিন্দু সংগঠনের বাংলাদেশী সদস্যরা। তারপর সেই ‘কৃষ্ণ প্রসাদ’ খাবার সময় তাদের দিয়ে ‘হরে কৃষ্ণ, হরে রাম’ ইত্যাদি স্লোগান দিইয়েছে।
ইসকনের ভেরিফাইড ফেসবুক পেইজে ভিডিওটি প্রকাশ করা হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, শিশুরা গেরুয়া পোষাক পরিহিত লোকদের দেয়া খাবার খেতে এবং ‘হরে হরে হরে, কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ, হরে হরে হরে, রাম রাম রাম হরে হরে’ স্লোগানের সময় চরম বিব্রত এবং অনীহা বোধ করছিলো।
পেইজের বক্তব্য অনুযায়ী, ১০টি স্কুলে এভাবে ‘কৃষ্ণ প্রসাদ’ বিতরণ করা হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের মধ্যে কোমলমতি মুসলিম শিশু থাকাটা বিচিত্র নয় । ইসকন কর্তৃক কোমলমতি মুসলিম শিশুদের ‘ কৃষ্ণ ‘ নাম জপতে এবং পূজার প্রসাদ খেতে প্ররোচিত করা একটা জঘন্যতম অপরাধ বলে মনে করছেন অনেকেই। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ছে অসন্তোষ।
উল্লেখ্য, ৫০ বছর আগে, ১৯৬৬ সালে সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করেন ‘অভয়চরণারবিন্দ ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ’। ভারতে কোন হিন্দু শিক্ষালয়ে তিনি লেখাপড়া করেননি, লেখাপড়া করেছেন খ্রিস্টানদের চার্চে। তাই স্বামী প্রভুপাদ নতুন ধরনের হিন্দু সংগঠন চালু করতেই প্রথমেই তাতে বাধা দিয়েছিলো মূল ধারার সনাতন হিন্দুরা। কিন্তু সেই সময় তার পাশে এসে দাড়ায় জে. স্টিলসন জুডা, হারভে কক্স, ল্যারি শিন ও টমাস হপকিন্স-এর মত চিহ্নিত ইহুদী-খ্রিস্টান এজেন্টরা।
আবু রুশদের লেখা—‘বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক প্রধানদের কথা- বাংলাদেশে ‘র’ বইয়ে লেখা আছে, ‘ইসকন নামে একটি সংগঠন বাংলাদেশে কাজ করছে। এর সদর দফতর নদীয়া জেলার পাশে মায়াপুরে। মূলত এটা ইহুদীদের একটি সংগঠন বলে জানা গেছে। এই সংগঠনের প্রধান কাজ হচ্ছে বাংলাদেশে উস্কানিমূলক ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করা, যার উদ্দেশ্য হচ্ছে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টি।”. (বই- বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক প্রধানদের কথা- বাংলাদেশে ‘র’ পৃষ্ঠা:১৭১)।
বাংলাদেশে তাদের উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ড নেহাত কম নয়।
যেমন স্বামীবাগের মন্দিরটি আগে সনাতনদের ছিলো, পরে ইসকনরা কেড়ে আগেরদের ভাগিয়ে দেয়। এছাড়া পঞ্চগড়েও সনাতনদের পিটিয়ে এলাকাছাড়া করে ইসকনরা। ঠাকুরগাও-এ সনাতন হিন্দুকে হত্যা করে মন্দির দখল করে ইসকন। এছাড়া অতিসম্প্রতি সিলেটের জগন্নাথপুরে সনাতনদের রথযাত্রায় হামলা চালিয়েছে ইসকন নেতা মিণ্টু ধর।
কিছুদিন আগে ঢাকাস্থ স্বামীবাগে মসজিদের তারাবীর নামাজ বন্ধ করে দিয়েছিলো ইসকন। নামজের সময় ইসকনের গান-বাজনা বন্ধ রাখতে বলায় তারা পুলিশ ডেকে এনে তারাবীর উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। পরে বিষয়টি নিয়ে সংঘর্ষ হয়।
