
ফাতেহ ডেস্ক
জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলায় এক স্কুল ছাত্রকে স্বজনদের হত্যার হুমকি ও অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে ইসলাম ধর্ম থেকে খ্রিস্টান ধর্মে ধর্মান্তরিত করার অভিযোগ উঠেছে। ধর্মান্তরিত ওই কিশোরের নাম ইয়াছিন ইসলাম আকাশ(১৪)। সে মেলান্দহ উপজেলার সাইফুল ইসলামের ছেলে। মেলান্দহের শ্যামপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণীতে অধ্যয়নরত।
এ ঘটনায় ধর্মান্তরিত ওই স্কুল ছাত্রের মা আনজুয়ারা বেগম জহিরুল ইসলাম জহির নামে একজনকে আসামী করে মামলা দায়ের করলে মঙ্গলবার পুলিশ জহিরকে আটক করে। আটক জহির ইসলামপুর উপজেরার কুলকান্দি গ্রামের বাবর আলী ছেলে। সে আশির দশকে ইসলাম ধর্ম থেকে খ্রিষ্টান ধর্মে ধর্মান্তরিত হয়।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, কিছুদিন যাবত জহিরুল ইসলাম জহির নামে এক ব্যক্তি আকাশের খোঁজখবর নিতে থাকে। একপর্যায়ে চলতি মাসের প্রথম দিকে জহির আকাশকে স্কুল থেকে ডেকে ডেফলা ব্রিজে নিয়ে যায়। সেখানে জহির আকাশকে খ্রিষ্টান ধর্ম গ্রহণের প্রস্তাব দেয়। খ্রিষ্টান ধর্ম গ্রহণ না করলে আকাশের বাবা-মা, নানাসহ আত্মীয়-স্বজনদের হত্যার হুমকি দেয়। এছাড়াও খ্রিষ্টান ধর্ম গ্রহণ করলে অর্থ-বিত্ত দেওয়ারও প্রলোভন দেয়। এতে আকাশ খ্রিষ্টান ধর্মে দীক্ষিত হতে সম্মত হয়। তাৎক্ষনিকভাবে আকাশকে জামালপুরে নিয়ে যায় জহির নামে ওই ব্যক্তি এবং এক রাত জামালপুরেই অজ্ঞাত স্থানে রেখে দেয়। এ সময় আকাশকে বাইবেল হাতে দিয়ে শপথ বাক্য পাঠ করিয়ে খ্রিষ্টান ধর্মে দীক্ষিত করে। পরে আকাশের বুকে ও হাতের কব্জিতে ক্রুশ বিদ্ধ অঙ্কিত করে। স্বজনদের হত্যার হুমকি দিয়ে এ ঘটনাটি বাইরে জানাতে নিষেধ করে। পরে আকাশকে এক লক্ষ টাকা, ‘কোন পথে’ নামক একটি বইসহ ক্রুশবিদ্ধ লকেট গলায় পরিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়।
এ ঘটনার কয়েকদিন পরেই আকাশ নিজের অনুভূতিতেই জহিরকে টাকা ও লকেট ফেরত দিয়ে খ্রিস্টান ধর্ম পালনে অস্বীকৃতি জানায়। এতে আকাশ ও তার স্বজনদের হত্যার হুমকি দেয় জহির। এরপর থেকেই আকাশ মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়ে। আকাশকে বিমর্ষ দেশে স্কুলের শিক্ষক কারণ জানতে চাইলে একপর্যায়ে শিক্ষকের কাছে ঘটনা প্রকাশ করে।
এরপর ইসলাম ধর্ম থেকে খ্রিষ্টান ধর্মে ধর্মান্তরিত হওয়ার ঘটনা প্রকাশিত হলে এলাকায় হইচই পড়ে যায়। স্থানীয় আলেম সমাজ এবং তবলীগ জামাতের লোকসহ শত শত মানুষ আকাশের বাড়িতে ভিড় জমায়। এ ঘটনায় মেলান্দহ থানা পুলিশ আকাশকে থানা হেফাজতে নিয়েছে।
মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: রেজাউল করিম খান জানান, আকাশের মা আনজুয়ারা বেগম বাদি হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে জহির উদ্দিন নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে এবং বুধবার তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।
