স্বাধীনতা সংগ্রামকে যেভাবে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে কাশ্মীরি তরুণরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

একবিংশ শতাব্দীর শুরুর দশকে কাশ্মীরে চলতে থাকা সহিংসতা এবং উত্তেজনা ১৯৮০ বা ১৯৯০-এর দশকের তুলনায় কিছুটা কম থাকলেও একেবারে স্তিমিত হয়ে যায়নি।

২০১৩ সালে ভারতের সংসদে বোমা হামলার দায়ে কাশ্মিরের এক স্বাধীনতাকামী নেতা আফজাল গুরু’র ফাঁসি কার্যকর হওয়ার পর থেকে কাশ্মীরের স্বাধীনতাকামী সংগঠনগুলো সক্রিয় হতে শুরু করে, ৯০-এর দশকে বা একবিংশ শতাব্দীর প্রথম দশকে যেসব স্বাধীনতা আন্দোলনের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রিত হতো মূলত পাকিস্তান ভিত্তিক লস্কর ই-তাইয়েবা বা জইশ ই-মুহম্মদের দ্বারা।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩ সালে যেখানে ২৮জন কাশ্মীরি বেসামরিক নাগরিক স্বাধীনতাকামী সংগঠনের সাথে যোগ দিয়েছিল, ২০১৪ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৬০ জনে এবং ২০১৫’তে সেই সংখ্যা হয় ৬৬।

স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠীগুলো ও ভারতীয় নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে সংঘাত চরম আকার ধারণ করে ২০১৬ সালে স্বাধীনতাকামী অকুতোভয় বুরহান ওয়ানীর শাহাদতের পর।

আরও পড়ুন : কাশ্মীরের রবিনহুড বুরহান ওয়ানী

২২ বছর বয়সী বুরহান ওয়ানি’র ব্যাপক জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা ছিল কাশ্মীরের মানুষের মধ্যে। ভারতীয় সেনাবাহিনীর গুলিতে তার মৃত্যুর পর থেকে সেখানকার স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী এবং নিরাপত্তা রক্ষীদের মধ্যে সংঘাত তুঙ্গে ওঠে।

শুধু ২০১৮ সালেই সেনা সদস্য, বেসামরিক নাগরিক ও সন্দেহভাজন স্বাধীনতাকামী মোট পাঁচশো’র বেশি মানুষ মারা যায় কাশ্মীরের বিভিন্ন অঞ্চলে।

এই স্বাধীনতাকামীদের জানাজা অনুষ্ঠান তরুণদের সশস্ত্র সংগ্রামে উদ্বুদ্ধ করতে বড় ভূমিকা রাখে বলে মনে করা হয়। ২০১৬ সালে লস্কর ই-তৈয়বার কমান্ডার আবু কাসিমের জানাজা অনুষ্ঠানে ৩০ হাজারের বেশি মানুষ জমায়েত হয়েছিল। হিজবুল মুজাহিদিনের নেতা বুরহান ওয়ানির জানাজা মানুষের উপস্থিতি ছিল তার চেয়েও বেশি।

প্রতিটি জানাজায়ই নিহতকে ‘নায়কোচিত’ সম্মানের সাথে বিদায় জানানো হয়। মৃতের কপালে চুমু খেয়ে কাশ্মীর স্বাধীন করার প্রতিজ্ঞা করে কাশ্মীরি কিশোর-তরুণরা। সমাধিস্থ করার সময় বন্দুকের গুলি চালিয়ে যোদ্ধার সম্মান জানানো হয় নিহত ব্যক্তিকে।

কিশোর-তরুণদের মধ্যে অনেকেই নিয়মিত ভিত্তিতে এসব জানাজা অনুষ্ঠানে যোগ দেন। কাশ্মীরি কিশোরদের অনেকেই এরকম জানাজা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে উদ্বুদ্ধ হন উগ্রবাদে জড়ানোর।

আর ৯০-এর দশকের স্বাধীনতাকামীদের তুলনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে কাশ্মীরের বর্তমান স্বাধীনতাকামীদের গ্রহণযোগ্যতাও অনেক বেশি, রীতিমতো নায়কের মর্যাদা পায় তারা। কারণ বর্তমানের স্বাধীনতাকামীরা সাধারণ মানুষের ক্ষতি করে না। তারা স্থানীয় ঝামেলায় জড়ায় না, স্থানীয় সরকারের কার্যক্রমেও বাধা দেয় না বা মুক্তিপণ আদায়ের জন্য অপহরণের মত কাজও করে না।

সূত্র: বিবিসি

আগের সংবাদকাশ্মীর সঙ্কট নিয়ে কি সামরিক সংঘাতের দিকে এগোচ্ছে পাক-ভারত?
পরবর্তি সংবাদযুক্তরাজ্যে সরকারি সফর শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা