
ফাতেহ ডেস্ক
‘সালাম আবাদ’ নামের একটি হজ এজেন্সির দলনেতা হজযাত্রীদের কাছ থেকে হজের সমুদয় টাকা নিয়ে এখন তিনি নিজেই লাপাত্তা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সালাম আবাদ হজ এজেন্সীর (লাইসেন্স নং ১৪৪৭) মফিজ উদ্দিন নামের ঐ দলনেতা (হজ এজেন্সীর ভাষায় গ্রুপ লিডার) তার গ্রুপের ৭ জন হজযাত্রীকে ঢাকায় নিয়ে আসেন। পরে তাদেরকে হজ ক্যাম্পে ফেলে তিনি গোপনে চলে যান মক্কায়। বর্তমানে তিনি সেখানেই অবস্থান করছেন।
রোববার তার বিরুদ্ধে হজ অফিসে লিখিত অভিযোগ দায়েরের পর তিনি বলছেন ভিন্ন কথা।
মফিজ উদ্দিন নামের ঐ দলনেতা দাবি করেছেন, ৭ জন হজযাত্রীর মধ্যে চার জন হজযাত্রীর টাকা তিনি তার এজেন্সীর (সালাম আবাদ) নির্দেশ মতো বাবুস সালাম নামের আরেকটি হজ এজেন্সীর কাছে জমা দিয়েছেন। কাজেই এই চারজনের দায়িত্ব এখন ঐ ‘বাবুস সালাম’ এজেন্সীর। আর বাকি তিন জনের বিষয়ে তিনি জানান, এই তিন জনের শুধু প্রাক নিবন্ধনের টাকা জমা নিয়েছি। তারা ২০১৯ সালে নয়, তবে ২০২০ সালে হজে যেতে পারবেন।
এদিকে ‘বাবুস সালাম’ নামের ঐ এজেন্সীর (লাইসেন্স নং ১৪২১) সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, আমরা চার জন হজযাত্রীর শুধু বিমান ভাড়ার টাকা পেয়েছি। বাড়ি ভাড়া ও খাওয়ার টাকা পরিশোধ না করা হলে আমরা চার জনের ভিসা করতে পারবো না। আর একথা আমরা আগেই ঐ গ্রুপ লিডার মফিজ উদ্দিনকে জানিয়ে দিয়েছি।
রোববার দুপুরে আশকোনা হজ অফিসে গিয়ে অভিযুক্ত সালাম আবাদ হজ এজেন্সীর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন প্রতারিত ৭ জন হজযাত্রীদের একজন মোঃ মোজাফফর রহমান। তার হজ ট্র্যাকিং নং- এনআইসি ৮সি৮বি৩এফ১৭, প্রি-রেজিষ্ট্রেশন নং- এনজি৫৫৭২৮২, পাসপোর্ট নং- বিওয়াই ০৯২৫২৭৫।
লিখিত অভিযোগে তিনি জানান, হজের প্রি-রেজিষ্ট্রেশনসহ আমি চুক্তি অনুযায়ী হজের সমুদয় টাকা যার পরিমাণ তিন লাখ ৪৫ হাজার টাকা পরিশোধ করেছি। এবং টাকা পরিশোধেরে সব ব্যাংক রশিদও আমার কাছে সংরক্ষিত আছে। আবেদনে এবছরই যাতে সুষ্ঠুভাবে হজ পালন করতে পারেন তার সুযোগ চেয়েও হজ অফিসের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
ঢাকার হজ অফিসের পরিচালক মোঃ সাইফুল ইসলাম জানান, আমরা মোজাফফর নামের একজন হজযাত্রীর কাছ থেকে একটি অভিযোগপত্র পেয়েছি। অভিযোগপত্রটি তাৎক্ষণিকভাবে আমরা আমাদের সংশ্লিষ্ট শাখায় জমা দিয়েছি। হজের আগে হয়তো এটির সুরাহা হবে না, তবে হজের পরে তদন্ত সাপেক্ষে দায়ী হজ এজেন্সীর বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে।
