
ফাতেহ ডেস্ক:
আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামিআতিল কওমিয়া বাংলাদেশ শিক্ষবোর্ডের অধীনে ১৪৪১ হিজরী/২০২০ ঈসাব্দের দাওরায়ে হাদীসের ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু স্থগিত করে দেয়া হয়েছে পরীক্ষা চলাকালীন প্রশ্নফাঁসের বিষয়ে ফেসবুকে বিভ্রান্তিকর পোস্টকারী নুরুল হুদার ফলাফল। সদ্য প্রকাশিত ফলাফলের তালিকা থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
নুরুল হুদা জামিয়া শারইয়্যাহ মালিবাগ মাদরাসার ছাত্র এবং মালিবাগ সেন্টারে আল-হাইআতুল উলয়ার অধীনে দাওরায়ে হাদীস পরীক্ষা দিয়েছে। পরীক্ষায় তার রোল নং ১০৮৮১, নিবন্ধন নং ৮১৯১।
উল্লেখ্য, ২৫ সেপ্টেম্বর রাত ৯ টায় https://www.facebook.com/muhammednurulhuda688 আইডি থেকে ফেসবুকে ‘আল-হাইআতুল উলয়ার দায়িত্বশীলদের পক্ষ থেকে দাওরায়ে হাদীস (তাকমীল) পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের পোস্টমর্টেম’ শিরোনামে একটি বিভ্রান্তিকর ও উস্কানিমূলক পোস্ট দেয়া হয়। নুরুল হুদা তার ফেসবুক পোস্টে লিখেন, ‘বিভিন্ন মহল থেকে প্রশ্নফাঁসের খবর শুনছি। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে ছাত্রদের সাথে ছেলেখেলা চলছে। হাইয়াতুল উলইয়ার দায়িত্বশীলদের চেয়ারে বসিয়ে রাখা হয়েছে সিন্ডিকেট চক্রের সদস্যদের। ফলে নিজ নিজ মাদরাসার জন্য আগাম প্রশ্ন জানিয়ে দেয়া হচ্ছে।’
২৬ সেপ্টেম্বর আল-হাইআতুল উলয়ার মনিটরিং সেলের সভার সিদ্ধান্তক্রমে উক্ত আইডিধারীর বিরুদ্ধে মতিঝিল থানায় জিডি করা হয় এবং এসবি (স্পেশাল ব্রাঞ্চ) ও সাইবার ক্রাইম ইউনিটে জিডির কপিসহ রিপোর্ট করা হয়।

পরীক্ষা শেষ হওয়ার কিছু পূর্বে আল-হাইআতুল উলয়ার মনিটরিং সেলের সদস্যসহ হাইআতুল উলয়ার কর্মকর্তাগণ জামিয়া শারইয়্যাহ মালিবাগে উপস্থিত হন এবং প্রধান নেগরান ও জামিয়া শারইয়্যাহ মালিবাগের মুহতামিম সাহেবের সহযোগিতায় মাদরাসার দফতরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়। নূরুল হুদা স্বীকারুক্তিমূলক জবানবন্দীতে ক্ষমা চেয়ে বলেন, আমি যা করেছি শাস্তিযোগ্য অপরাধ, আমি যা লিখেছি সবই ধারণাপ্রসুত। আমি শয়তানের প্ররোচণায় করেছি। বাস্তবতার সঙ্গে এর কোনো মিল নেই। হাইয়াতুল উলইয়ার দায়িত্বশীলদের কাছে অনুরোধ করছি এবারের মত তারা যেনো আমাকে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখে।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, মনিটরিং সেলের আহ্বায়ক মুফতি রুহুল আমিন, মুফতি এনামুল হক, মুফতি মোহাম্মদ আলী, মালিবাগ মাদরাসার মুহতামিম মুফতি বোরহানুদ্দিন, মাদরাসার মুহাদ্দিস মাওলানা নাসিম আরাফাত প্রমুখ।
