৫০ বিলিয়ন ডলারের পথে বাংলাদেশ

ফাতেহ ডেস্ক:

আগামী ১৪ মাসের মধ্যে বাংলাদেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৫০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে বলে আশা করছেন অর্থমন্ত্রী আ. হ. ম. মুস্তফা কামাল। তবে এই রিজার্ভ ব্যবস্থাপনার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বুধবার (০৪ নভেম্বর) বিকালে সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এসব কথা জানান।

এ সময় তিনি জানান, সরকারের সহায়তা প্যাকেজগুলোর কারণেই করোনার মধ্যেও সমস্ত প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবেলা করেই ঘুরে দাঁড়িয়েছে দেশের অর্থনীতি।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘গত ২৮ আগস্ট বৃহস্পতিবার দিন শেষে রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩৮ দশমিক ৯০ বিলিয়ন ডলার, যা অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। প্রতি মাসে চার বিলিয়ন ডলার আমদানি ব্যয় হিসাবে এই রিজার্ভ দিয়ে সাড়ে ৯ মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব।’

রিজার্ভের অর্থ দেশের অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যবহার করা হবে কি না- জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা মনে করি, আমাদের যদি ভালো এবং সরকারের স্পন্সর প্রজেক্ট থাকে সে ধরনের প্রজেক্টে যদি অর্থায়ন করি, একদিকে আমাদের ঋণ বাড়ল না আরেক দিকে আমাদের টাকা নিজের ঘরেই রয়ে গেল এবং আমরা দেশের উন্নয়নে কাজে লাগাতে পারলাম।’

তিনি বলেন, ‘এখন নভেম্বর মাস; এরপর ডিসেম্বর, এর পরবর্তী ডিসেম্বর পর্যন্ত এ ১৪ মাসের ভেতরে বাংলাদেশের ফরেন এক্সচেঞ্জ রিজার্ভ হবে ইনশাআল্লাহ ৫০ বিলিয়ন ডলার।’

রিজার্ভ ব্যবহারে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে লোন দেয়ার কোনো পরিকল্পনা রয়েছে কি না- জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমার এখানে কোনো অবস্থান নেই, কারণ আমি টাকা নেবও না ব্যয়ও করব না। এটি পরিকল্পিতভাবে সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কমার্শিয়ালি বেনিফিট হই সেভাবে কাজে লাগানো হবে।’

এ সময় অর্থমন্ত্রী আরো জানান, ‘অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির জন্য একটি এবং ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় অনুমোদনের জন্য ৮টি প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের ৪টি, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের ২টি এবং জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের ও সড়ক পরিবহন এবং মহাসড়ক বিভাগের একটি করে প্রস্তাবনা ছিল।’

অনুমোদিত ৮টি প্রস্তাবে মোট অর্থের পরিমাণ ৫ হাজার ৬৬৪ কোটি ৬৮ লাখ ৪ হাজার ১৯৮ টাকা। মোট অর্থায়নের মধ্যে জিওবি হতে ব্যয় হবে ২২৪ কোটি ২৭ লাখ ৮৫ হাজার ১২ টাকা এবং ইসলামিক ট্রেড ফাইন্যান্স করপোরেশনের (আইটিএফসি) ঋণ ও দেশীয় ব্যাংক থেকে ঋণের পরিমাণ ৫ হাজার ৪৪০ কোটি ৪০ লাখ ১৯ হাজার ১৮৬ টাকা।

পরে অনলাইনেই সভার বিষয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব আবু সালেহ মোস্তফা কামাল। তিনি বলেন, ‘৬৩ কোটি ৭৪ লাখ ৪৩ হাজার ৫৬২ টাকায় বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো) থেকে সপ্তম লটে ৩০ হাজার মেট্রিক টন ব্যাগড গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার ক্রয়ের প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়েছে।’

অতিরিক্ত সচিব বলেন, ‘একইভাবে কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) কাতারের মুনতাজাত থেকে চতুর্থ লটে ২৫ হাজার টন ইউরিয়া সার ৫৮ কোটি ৮৮ লাখ ৯ হাজার ৬৮৭ টাকায় ক্রয়ের অনুমোদন দেয়া হয়েছে।’

আগের সংবাদ১২০ বছরের মধ্যে মার্কিন নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি ভোট
পরবর্তি সংবাদবাইডেন ২৬৪, ট্রাম্প ২১৪