দেশে বাড়ছে ভূমিকম্প, ইসলাম কী বলে?

ওমর ফারুক

সাম্প্রতিক সময়গুলোতে বাংলাদেশে ভূমিকম্পের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে। গত কয়েক বছরের মধ্যে ছোট বড় অনেকগুলো ভূমিকম্প হলেও সর্বশেষ বড় ভূমিকম্পগুলো হয় ২০১৫ ও ২০১৬ সালে। ২০১৬ সালে সারাদেশে ৬.০৯ মাত্রার ভূকম্পন অনুভূত হয়। এতে কয়েকটি বিল্ডিংও হেলে পড়ে।

বহির্বিশ্বে ভূমিকম্পে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হলেও নিকট অতীতে বাংলাদেশে ভূমিকম্পের ফলে তেমন একটা ক্ষয়ক্ষতি দেখা যায়নি। তবে ঘন ঘন ভূমিকম্প হওয়া বৃদ্ধি পেয়েছে। বিষয়টি স্বাভাবিকভাবেই মানুষের জন্য আতঙ্কের। বাংলাদেশে ভূমিকম্প বাড়ার কারণ কী, ভূমিকম্পের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা হচ্ছে, ভূমিকম্প হয় মূলত মাটির নিচের শিলা আচমকা ভেঙে যাওয়ার ফলে। হঠাৎ করে এই ভাঙন মাটির তলার প্রচণ্ড শক্তির সৃষ্টি করে এবং এটা ঢেউয়ের মতো ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে মাটি কেঁপে ওঠে এবং মাটির ওপরে থাকা সবকিছু দুলতে থাকে।

এছাড়াও দুটি শিলার মধ্যে সংঘর্ষ হলে সেগুলো নিজেদের অবস্থান থেকে কিছুটা সরে যায়। তবে এটি খুব ধীরে ধীরে হয় এবং ভেঙে যাওয়া শিলাগুলো একে অপরের সাথে গায়ে গায়ে লেগে থাকে এবং একে অপরের ওপর চাপ দিতে থাকে। শিলাগুলো চাপের মধ্যে থাকায় একসময় সেগুলো ভাঙতে শুরু করে। যখন শিলাগুলো ভেঙে যায়, তখনই ভূমিকম্পের সৃষ্টি হয়। এটি ভূমিকম্পের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা হলেও আলেমরা বলেন, এটি আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে বান্দার জন্য সতর্কবাণী বা সিগনাল। সৃষ্টির শুরু থেকেই আল্লাহ তায়ালা মানুষকে এ ধরনের প্রাকৃতিক বিপর্যয় দিয়ে সতর্ক করেছেন। কুরআন ও হাদিসের আলোকে ফাতেহ২৪-এর কাছে ভূমিকম্প হওয়ার ইসলামিক কারণগুলো তুলে ধরেছেন বিশিষ্ট টিভি আলোচক ও লেখক আলী হাসান তৈয়ব।

তিনি বলেন, ভূমিকম্প হচ্ছে আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে সিগনাল ও সতর্কবার্তা। এ সম্পর্কে আল্লাহর রাসুলের একটি হাদিসে রয়েছে, আল্লাহ মুমিন বান্দাদেরকে এর মাধ্যমে পরীক্ষা করে থাকেন। তারা এ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেন। আর নাফরমানরাই এর দ্বারা আক্রান্ত হয় ও এতে পতিত হয়। কুরআনের বিভিন্ন আয়াতে আল্লাহ তায়ালা ভূমিকম্পের কথা উল্লেখ করেছেন।

‘সূরা যিলযালে রয়েছে, ‘যখন ভূমিকে কাঁপিয়ে দেওয়া হবে। এবং ভূমি তার ভেতরে যা রয়েছে, তা বের করে দেবে…। এসব আয়াতের মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা তার ক্ষমতা ও শক্তির কথা তুলে ধরেছেন। এসব মানুষের জন্য বাস্তব উদাহরণ। মানুষ আজও এ ভূমিকম্প প্রতিরোধে কোনো কিছু আবিষ্কার করতে পারেনি। এটা একমাত্র আল্লাহর হাতেই।’

‘আর আল্লাহ তায়ালা এ সকল আজাব ও বিপর্যয় ওই সকল এলাকায় দেন যেখানে গুনাহ, পাপাচার বেড়ে গেছে। তিনি বলেন, ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে কয়েকটি কারণে ভূমিকম্প হয়ে থাকে। যেমন, মানুষের অধিকার না দেওয়া, ইনসাফ না করা, জিনা অন্যান্য অপরাধে করা। হাদিসে রয়েছে, যখন এ কাজগুলো বেশি হবে, তখন তিনটি বিপদ নেমে আসবে।  তিনটি বিপদের মাঝে একটি হচ্ছে ভূমিধস হওয়া। আমাদের দেশেও এসব কারণগুলো সাম্প্রতিক সময়ে পরিলক্ষিত হচ্ছে।’

‘এছাড়াও আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘স্থলে ও জলে মানুষের কৃতকর্মের দরুন বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়েছে। আল্লাহ তাদেরকে তাদের কর্মের শাস্তি আস্বাদন করাতে চান, যাতে তারা ফিরে আসে।’ এতে বোঝা যাচ্ছে ভূমিকম্পের পেছনেও অদৃশ্য কিছু কারণ অবশ্যই রয়েছে, যা আমরা জানি না বা জানার চেষ্টা করি না। বিনা কারণে আল্লাহ ভূমিকম্প দেন না বা কখনো দেননি।’

আলী হাসান তৈয়ব বলেন, মানুষের মাঝে আল্লাহভীতি ও তাকওয়া তৈরি হলে ভূমিকম্প ও আসমানি বিপদ দূর হয়ে যেতে পারে। বিশ্বাসী মানুষদের উচিত এসব গুনাহ থেকে বিরত থাকা। যেমন, জিনা, চোখের জিনা, মনের জিনা ও পরকীয়া। আর যারা বিশ্বাসী নয়, তারা এ ধরনের কথা শুনে হয়্তো উপহাস করতে পারে। তাদের বোঝা উচিত, পৃথিবীতে যত বড় বড় ভূমিকম্প হয়েছে এগুলো কারণ ছাড়াই হয়নি। মানুষের এত আবিষ্কারের পরেও সর্বময় ক্ষমতা আল্লাহ তায়ালার হাতে। আল্লাহ তায়ালা মানুষের স্বাভাবিক ক্ষমতাকে মাঝেমাঝে বেকার করে দেন। এর থেকে শিক্ষা নিয়ে প্রতিটি মানুষেরই আল্লাহর পথে ফিরে আসা উচিত।

তিনি বলেন, ভূমিকম্প থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দোয়া শিক্ষা দিয়েছেন। সকাল-সন্ধ্যা কেউ এ আমল করলে আল্লাহ তায়ালা তাকে এ ধরনের বিপদ থেকে রক্ষা করবেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে হেফাজতে থাকার দোয়া ‘বিসমিল্লহিল লাজি লা ইয়দুররু মাআসমিহি শাইয়ুন ফিল আরদি ওয়ালা ফিস সামা-ই ওয়াহুয়াস সামি’য়ুল আলিম।’ রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি এই দোয়া তিনবার পড়বে, সে ভূমি ও আকাশের দুর্যোগ থেকে হেফাজতে থাকবে।

‘হাদিসে রক্তিম বর্ণের ঝড়, ভূমিকম্পন, ভূমিধস, রূপবিকৃতি, পাথরবৃষ্টি ও অন্যান্য বিপদ-বিপর্যয়ের কারণ হিসেবে ১৫টি কাজকে উল্লেখ করা হয়েছে। আমরা যদি এ সকল বিপদ-মুসিবত থেকে বাঁচতে চাই তা হলে এ কাজগুলো থেকে বিরত থাকতে হবে এবং অন্যদেরও বিরত রাখতে হবে। এটাই হবে প্রতিরোধ ও প্রতিকারের মাধ্যম।’

আগের সংবাদঅংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চায় ভারত-যুক্তরাষ্ট্র
পরবর্তি সংবাদউদ্বেগজনকহারে বাড়ছে বিয়ে বিচ্ছেদ: সমাধান যে পথে