যে কারণে ইরাক ভাঙতে চায় ইসরাইল

ফাতেহ ডেস্ক: ইরাকে কুর্দি সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের দাবি এবং সংগ্রামের স্বাধীন কুর্দিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় পৃথিবীর একমাত্র সমর্থনকারী দেশ ইসরাইল।

সম্প্রতি কুর্দিস্তানে অনুষ্ঠিত গণভোটে ইসরাইলের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে কুর্দিদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেয়া হয়েছে।

ইসরাইলের এই অবস্থানের নেপথ্যে রয়েছে সুদূরপ্রসারী ভূ-রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ।

চল্লিশ ও পঞ্চাশের দশকে ইসরাইল রাষ্ট্রের গোড়াপত্তনের সময় অনেক কুর্দি ইহুদি সেখানে গিয়ে বসতি গড়লেও তারা কুর্দিস্তানের আত্মীয়স্বজনদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন।

সেই থেকেই কুর্দিদের সাথে তেল আবিবের সম্পর্কের সূত্রপাত। পরে যা আনুষ্ঠানিকতার পর্যায়ে পৌঁছে গেছে।

মধ্যপ্রাচ্যের আরব রাষ্ট্রগুলোর সাথে শত্রুতার কারণে ইসরাইল সব সময়ই চাইতো ওই অঞ্চলে কোনো অ-আরব মিত্র। এ জন্য তারা বেছে নেয় বিভিন্ন দেশে বিভক্ত হয়ে পড়া কুর্দি জাতিগোষ্ঠীকে।

এ অঞ্চলে জাতিগত বিভক্তি উসকে দিতে শুরু করে ইসরাইল। বন্ধু খুঁজতে এ কৌশল নিয়েছিলেন ইসরাইলের প্রথম প্রধানমন্ত্রী ডেভিড বেন গুরিয়ান।

সেই সূত্রেই কুর্দিস্তানের আঞ্চলিক সরকারের বর্তমান প্রেসিডেন্ট মাসুদ বারজানির পিতা মুস্তফা বারজানির সাথে সম্পর্ক ছিল তেল আবিবের।

১৯৬৮ ও ৭৩ সালে দুই দফায় ইসরাইল সফরও করেছেন মুস্তফা। বর্তমান সময়েও ইসরাইলি লিকুদ পার্টির সরকার সেই একই নীতিতে চলছে।

আরব বিশ্বে ভাঙন ধরাতে পারলে তাতে লাভবান হবে ইসরাইল। আর কুর্দিস্তান স্বাধীন হলে সেটি যে ইসরাইলের মিত্র হবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

একই সাথে এই ভূখণ্ডটি হবে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী ও তাদের গোয়েন্দাদের নিরাপদ বিচরণক্ষেত্র।

মধ্যপ্রাচ্যে কুর্দিস্তানের অবস্থান খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অঞ্চলটির চার দিকে চারটি গুরুত্বপূর্ণ মুসলিম দেশ- ইরাক, সিরিয়া, তুরস্ক ও ইরান।

এখানে আধিপত্য বিস্তার করতে পারলে এই দেশগুলোর মোকাবেলায় অনেকটা এগিয়ে যাবে ইসরাইল। কাজেই আরববিশ্বে জাতিগত বিভক্তি ও নিজেদের মিত্র পাওয়ার এমন সুযোগ তারা ছাড়তে চাইছে না।

এছাড়া অঞ্চলটির ব্যাপক অর্থনৈতিক গুরুত্বও রয়েছে। কুর্দিস্তানের রয়েছে অঢেল তেলসম্পদ।

উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে তেল না পেলেও ইসরাইলের আমদানিকৃত তেলসম্পদের ৭৭ শতাংশই কুর্দি অঞ্চল থেকে আসে।

দেশটি স্বাধীন হলে ইসরাইলের জন্য তা নিরাপদ বাণিজ্যকেন্দ্র হবে।

এদিকে ঘনিষ্ঠ মিত্র আমেরিকা কুর্দিদের গণভোটের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। এ কারণেই কুর্দিরা স্বাধীনতা পেতে ইসরাইলের সাহায্য চাইতে পারে।

কুর্দিস্তানের প্রতি ইসরাইলের সমর্থন যে কুর্দিদের প্রতিবেশী দেশগুলোর অগোচরে হচ্ছে তা নয়।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে মাসুদ বারজানিকে নেতানিয়াহুর পুতুল হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।

তুরস্ক বলেছে, ইসরাইলি গোয়েন্দারা কুর্দিদের স্বাধীনতার বিষয়ে সহযোগিতা করছে।

কামাল আতাতুর্কের সময় থেকে তুরস্কের সাথে ইসরাইলের কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক থাকলেও এই ইস্যুতে এরদোগানের সরকার ছেড়ে কথা বলবে না তা স্পষ্ট।

আগের সংবাদতারেক রহমান কেন পদত্যাগ করবেন? প্রশ্ন মওদুদের
পরবর্তি সংবাদসৌদি দূতাবাসে তল্লাসির অনুমতি পেল তুরস্ক