ভালো খারাপ সকলকে নিয়েই ঐক্য করতে হবে : ঐক্যফ্রন্ট নিয়ে মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক

ওমর ফারুক

বিএনপি, যুক্তফ্রন্ট এবং জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার মধ্যে চলমান বৃহত্তর ঐক্য সংলাপ আনুষ্ঠানিক রুপ পেয়েছে। গত শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট’ নামে জোটের যাত্রা শুরু হয়। তবে, শুরুতেই কিছুটা হোঁচট খেয়েছে এই জোট। জোটের অন্যতম প্রধান উদ্যোক্তা এবং বিকল্পধারার সভাপতি বি চৌধুরির অনুপস্থিতিতেই জোটগঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়। পরে ওইদিনই বিকল্পধারা আলাদা সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা দেয়, স্বাধীনতাবিরোধীদের সাথে সম্পর্ক রেখে কোনরকম ঐক্য নয়। বিএনপিকে এককভাবে ক্ষমতায় বসানোর ইচ্ছা তাদের নেই। পরে, মান্না-মাহি বি চৌধুরীর ফাঁস হওয়া ফোনালাপে মাহি বি চৌধুরী এই জোটকে ‘রাষ্ট্রবিরোধী চক্রান্ত’ বলেও আখ্যায়িত করেন।

নতুন এই জোট নিয়ে ইসলামি অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই এই জোটকে সাধুবাদ জানালেও, ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন এই জোট ইসলাম ও ইসলামি রাজনীতির জন্য কতটা কল্যাণকর হবে, এ নিয়েও অনেকেরই মনে সন্দেহ সংশয় তৈরি হয়েছে।

এ ব্যাপারে বিএনপি নেতৃত্বাধীন বিশদলীয় জোটের অন্যতম প্রধান শরীক জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সহ-সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক বলেছেন, ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ভবিষ্যত স্পষ্ট নয়। তবে আওয়ামী লীগ সরকার দেশ ও ধর্মের যা ঘটিয়েছে তার অবসান তো দেশের অনেক মানুষই চাচ্ছে। সরকার বিরোধী ঐক্য ভালো খারাপ সব মানুষ নিয়েই করতে হবে।’

রোববার জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নিয়ে মতামত জানতে চাওয়া হলে ফাতেহ২৪ এর সঙ্গে ফোনালাপে তিনি এসব কথা বলেন।

মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক বলেন, যদি সরকারের পতন ঘটানোর ইচ্ছে হয় তাহলে খারাপ মানুষ, ভালো মানুষ যাচাই বাছাই করে তো গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সরকার সরানো যাবে না। আমাদের ভবিষ্যত নয়, বর্তমানটা নিয়েই ভাবতে হবে। হয়তো সরকারের পতন ঘটানো না হয় এ সরকারকেই সহ্য করে থাকা। দুটির যে কোনো একটি বাছাই করতে হবে। যদি সরকারের পতন ঘটানোর ইচ্ছে হয় তাহলে সর্বদলীয় ঐক্যের প্রয়োজন। যে দলের মাধ্যমে দুই পার্সেন্ট ও তিন পার্সেন্টও লাভ হয় তাকেই নিতে হবে ঐক্যে।

ড. কামালে হোসেনের নেতৃত্বে ইসলামপন্থীদের জাতীয় ঐক্যে অংশগ্রহণ ইসলামের জন্য কল্যাণকর হবে কিনা, এ বিষয়ে তিনি বলেন, আমি মনে করি ড. কামাল হোসেন ও মাহমুদুর রহমান মান্নারা সরকারে গেলে ততোটুকু শক্তির অধিকারী হবেন না যতোটুকু শক্তির অধিকারী আওয়ামী লীগ। দেশ এখন দুই মেরুতে অবস্থান করছে। মাঝখানে কোনো রাস্তা নেই। আর মাঝখানের রাস্তা অবলম্বন করা কোনো এক পক্ষের দালালি ছাড়া কিছু নয়। দেশ যেহেতেু দুই মেরুকরণে অতএব আপনাকে দেখতে হবে কোন মেরুতে গেলে দেশ জাতি ও ধর্মের জন্য কল্যাণকর হবে।

তুলনামূলক কোনটি বেশি কল্যাণকর হবে বলে মনে করেন, আওয়ামী লীগকে নাকি জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট, এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ব্যক্তিগতভাবে আমি জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকেই ভালো মনে করছি। কারণ, শিক্ষানীতি, নারীনীতি, স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের জলাঞ্জলি সব ক্ষমতাসীনরা দিয়ে দিয়েছে। দেশে এখন কিছুই নেই। সংখ্যালঘুদের নিয়ে রাজনীতি হচ্ছে, দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করা হচ্ছে। মুসলমানরা নিজেদের ভূখণ্ডে পরবাসী হয়ে আছে। এই অবস্থায় ভবিষ্যতের চিন্তা মাথায় রেখেই, বর্তমানকে পরিবর্তনের চেষ্টা বেশি জরুরি বলে মনে হয়। আওয়ামী লীগ যা করেছে ড. কামালরা ক্ষমতায় থাকলে এতোটা সাহস পেতো না বলেই আমি মনে করি।

ড. কামালদের তো ধর্মভিত্তিক রাজনীতি ও কথিত সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরোধী বলে মনে করা হয়, তারা ক্ষমতায় গেলে ইসলামের বিরুদ্ধে বা ইসলামি রাজনৈতিক শক্তির প্রতিকূলে কিছু করবেন না বলে বিশ্বাস করেন কিনা, এর জবাবে উবায়দুল্লাহ ফারুক বলেন, করতেও পারে। তবে তারা ততোটা ক্ষমতাবান নয় যতোটা ক্ষমতাবান বর্তমানে আওয়ামী লীগ। আর আওয়ামী লীগ যা করার তা করে ফেলেছে। ডা. কামালদের আমরা এতোটা শক্তিশালী বলে মনে করি না।

জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম জাতীয় ঐক্যেফ্রন্টের সঙ্গে যাবে কিনা? এ বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা তো বিশদলীয় জোটে আছি। সবাই এই ঐক্যের সঙ্গে থাকলে আমরাও থাকবো।

জমিয়তের সহ-সভাপতি উবায়দুল্লাহ ফারুক ‘হয় সরকারের পক্ষে থাকা, নতুবা যেকোনভাবে সরকার পতন’ নীতির কথা বললেও, ইসলামি অঙ্গনের অনেকেই ব্যাপারটিকে এত সরলভাবে দেখতে রাজি নন। অনেকেরই এ ব্যাপারে ভিন্নমত রয়েছে। ধর্মভিত্তিক রাজনীতির বিরোধী মতাদর্শের লোক হিশেবে পরিচিতি পাওয়া ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন এই জোট নিয়ে অনেকের মনেই অস্বস্তি আছে। ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট’র কর্মকাণ্ড আরো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে তারা তাদের সিদ্ধান্ত নেবেন।

উল্লেখ্য, ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট’র কর্মসূচীতে বিশদলীয় জোটের শরিক দলগুলোর সমর্থন থাকবে বলেই ধরে নেয়া হচ্ছে। সেই লক্ষ্যেই বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট আজ (সোমবার) সন্ধ্যায় বৈঠক ডেকেছে। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কার্যালয়ে এই বৈঠক হবে। জোটসূত্রে জানা গেছে, ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট’-এ বিএনপির অবস্থান এবং আগামী সংসদ নির্বাচনে বিশদলীয় জোটের শরিক দলগুলির চাওয়া-পাওয়া নিয়ে একটা ফয়সালায় আসার জন্যেই এই বৈঠক।

আগের সংবাদঐক্যফ্রন্টের দাবিকে স্বাগত জানিয়েছে ২০ দল
পরবর্তি সংবাদজিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার রায় ২৯ অক্টোবর