
ফাতেহ ডেস্ক: দেশে সৌর যন্ত্রাংশ আমদানি নিয়ন্ত্রণ করা হবে। এজন্য সৌর প্যানেল, ইনভার্টার, চার্জ কন্ট্রোলার ও ব্যাটারিকে ‘নিয়ন্ত্রিত পণ্যের তালিকায়’ অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড টেস্টিং ইন্সটিটিউশনের (বিএসটিআই) ইতিমধ্যে এসব যন্ত্রাংশের বাংলাদেশ মান (বিডিএস) নির্ধারণ করেছে। অন্যদিকে দেশে মানহীন সৌর যন্ত্রাংশ আমদানি প্রতিরোধে বিএসটিআইয়ের বিডিএস মান বাধ্যতামূলক করার সুপারিশ করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ। বিষয়টি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বিবেচনাধীন রয়েছে।
শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমুর নেতৃত্বে বিএসটিআই কাউন্সিল থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক পত্র পেলে আসছে নতুন আমদানিনীতি আদেশ ২০১৮-২১ এর ২৮(ক)তে এসব পণ্যের আমদানি নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে বাংলাদেশ মান (বিডিএস) সম্পর্কিত দিকনির্দেশনা অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তিন বছর মেয়াদি এই নীতি ঘোষণা করতে যাচ্ছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
এই নীতি আদেশে বিএসটিআইয়ের নির্ধারিত মানমাত্রা অন্তর্ভুক্ত করা হলে আগামীতে এসব যন্ত্রাংশ বিদেশ থেকে আমদানির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আমদানিকারককে এই মানমাত্রা বাধ্যতামূলকভাবে মেনে চলতে হবে। আসন্ন আমদানিনীতি আদেশ ২০১৮-২১ প্রণয়নের লক্ষ্যে বিদ্যমান আমদানি আদেশ সংশোধন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণসংক্রান্ত বিষয়ে অনুষ্ঠিত সভার কার্যবিবরণী থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
তবে বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন থাকায় বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় এবং বিদ্যুৎ বিভাগ ও বিএসটিআই কর্মকর্তারা এ বিষয়ে এখনই দায়িত্বশীল মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন।
তবে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বিদ্যুতের চাহিদা বিকল্পভাবে পূরণ করছে সোলার প্যানেল বা সৌরবিদ্যুৎ। ইতিমধ্যে সারা দেশে এই সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বেশ আলোচিত ও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলের অনেক বাসা-বাড়ি এমনকি শিল্প-কারখানায়ও এখন স্থাপন করা হচ্ছে সোলার প্যানেল।
ঘাটতি পূরণে সোলার প্যানেলের মাধ্যমে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডেও সরবরাহ দেয়ার সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ চলমান রয়েছে। এসব কারণে দেশে সৌর যন্ত্রাংশ আমদানির প্রবণতা ও বাণিজ্যিক বিক্রি দুটোই বেড়েছে।
তবে আমদানি বাড়লেও এসব সৌর যন্ত্রাংশের মানমাত্রা পরীক্ষা নিরীক্ষার ব্যবস্থা ছিল না। ফলে আমদানি করা যন্ত্রাংশের অনেকাংশই ছিল নিুমানের।
এ প্রসঙ্গে বিদ্যুৎ বিভাগের পরিকল্পনা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি শাখার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, আগামীতে দেশে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়বে। সেই চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুতের সরবরাহ বাড়াতে সরকার কয়লাভিত্তিক, পরমাণুভিত্তিক এবং কুইকরেন্টালভিত্তিক- নানা উপায়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা করছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি বা সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন তেমনি একটি প্রক্রিয়া।
এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে দেশেই এসব সৌর যন্ত্রাংশের মানসম্মত উৎপাদন ও আমদানি করা সৌর যন্ত্রাংশের সংযোজন দুটোই বাড়াতে হবে। এ ক্ষেত্রে এসব যন্ত্রাংশের মানদণ্ড কেমন হবে তার মানমাত্রা নির্ধারণ জরুরি। সম্প্রতি বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড টেস্টিং ইন্সটিটিউশন (বিএসটিআই) এসব সৌর যন্ত্রাংশের মানমাত্রা প্রণয়ন করলেও সেটি বাধ্যতামূলক মান পরীক্ষণে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। তাই আমরা বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের বিএসটিআই কাউন্সিলকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়ার অনুরোধ করেছি। বিএসটিআই কর্তৃক বাধ্যতামূলক বিডিএস মান পরীক্ষণের জন্য পণ্য নির্ধারণ সংক্রান্ত বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য শিল্পমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি কাউন্সিল রয়েছে।
এ কাউন্সিল পণ্য উৎপাদন ও আমদানির ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক বিডিএস মান পরীক্ষা করে থাকে। বিদ্যমান আমদানিনীতি আদেশ ২০১৫-১৮ এর ২৬ এর ২৮(ক) তালিকায় এখন বিএসটিআই নির্ধারিত বাংলাদেশ মান (বিডিএস) অনুযায়ী ৫৫টি পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে পরীক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা তদারকি করা হচ্ছে।
তবে বিভিন্ন খাতে চাহিদা বিবেচনায় রেখে নতুন আমদানিনীতি আদেশ ২০১৮-২১ এর ২৮(ক)তে ৭৯টি পণ্যের নাম অন্তর্ভুক্ত করার জন্য ইতিমধ্যে বিএসটিআই কর্তৃক প্রস্তাব করা হয়েছে। যেখানে সৌর প্যানেল, ইনভার্টার, চার্জ কন্ট্রোলার ও ব্যাটারি এবং এসব সৌর যন্ত্রাংশের নাম ও মানমাত্রাও রয়েছে।
