খাশোগজি ও খাদিজার প্রণয়কাহিনি

কাজের সূত্র ধরেই সাংবাদিক জামাল খাশোগজির সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছিল খাদিজার। কয়েক মাসের মধ্যেই সেই সম্পর্ক রূপান্তরিত হয় হৃদয়গত বন্ধনে। এবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজেদের প্রেমের সম্পর্কে কথা বলেছেন খাদিজা চেঙ্গিস। জানিয়েছেন, কী করে তারা পরস্পরের কাছাকাছি এলেন।

২ অক্টোবর ইস্তাম্বুলের সৌদি কনস্যুলেটে বিয়ের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আনতেই প্রবেশ করেছিলেন খাশোগজি। নিখোঁজ হওয়ার দিনে তার সঙ্গেই ছিলেন তুর্কি বাগদত্তা খাদিজা চেঙ্গিস। তিনি এবিসি নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানান, তাদের হৃদয়ঘটিত এই লেনাদেনা মাত্র ৬ মাসের। মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক এক সম্মেলনে খাশোগজি ছিলেন বক্তা। সেখানেই পরিচয়। খাদিজার উপস্থিতি ছিলো গবেষক হিসেবে। প্রাথমিক পরিচয়ের সেই অনুভূতির কথা জানাতে গিয়ে খাদিজা বলেন, ‘এ ধরনের একজন প্রখ্যাত সাংবাদিক ও ব্যক্তিত্বের সঙ্গে পরিচয়ের মধ্য দিয়ে আমি অবিশ্বাস্য রকমের দৃঢ় মনোবল অর্জন করেছিলাম।’

তিনি জানান, ওই সম্মেলনেই তিনি খাশোগজির সাক্ষাৎকার নিতে চেয়েছিলেন এবং সম্মতি পেয়েছিলেন। ‘প্রভাবশালী ও মহান এই সাংবাদিক আমার মতো গবেষককে সময় দিচ্ছেন ও সাক্ষাৎকার দিতে রাজি হয়েছেন দেখে সত্যিকার অর্থেই আমি সম্মানিত হয়েছিলাম এবং গর্ববোধ করেছিলাম। আমাদের আলাপচারিতা খুব অল্প সময়ের মধ্যে উষ্ণতর হতে শুরু করে, শুরু হওয়ার প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই।’

খাশোগজিকে নিয়ে বলতে গিয়ে খাদিজা এবিসি নিউজকে জানান, ‘তিনি (খাশোগজি) খুব সম্মানিত, বিনয়ী ও আন্তরিক মানুষ ছিলেন। অহংকার কিংবা কাউকে অবজ্ঞা করার অভ্যাস ছিল না। বিশাল এক হৃদয় ছিল তার।’ দুজনের সম্পর্ক পরিণয়ে রূপ নিলো কী করে, এমন জিজ্ঞাসায় খাদিজা জানান, খাশোগজিই তাকে প্রেম প্রস্তাব দেন এবং তৎক্ষণাত তিনি তাতে সাড়া দিয়েছিলেন। খাদিজা বলেন, ‘ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার অনুভূতির পাশাপাশি আমি সম্মানিত বোধ করেছিলাম। বলতে পারি, আত্মবিশ্বাসের মাত্রা অনেক বেড়ে গিয়েছিল। নিজেকে ভাগ্যবান মনে হচ্ছিলো। খুব ভালো লাগছিলো।’

খাদিজা জানান, ২ অক্টোবর জামাল খাশোগজি কনস্যুলেট ভবনে প্রবেশের পর কয়েক ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও তিনি তার ফেরার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। ভবনটি বন্ধ করে দেওয়ার পরও খাশোগজি বের না হওয়ায় চিন্তায় পড়ে যান তিনি। খাদিজা বলেন, তিনি কল্পনাও করেননি যে, খাশোগজি খুন করা হতে পারেন। খাদিজা জানান, তিনি নিখোঁজ হওয়ার ১৭ দিন পরও মনে করতেন খাশোগজি বেঁচে আছেন। সৌদি কর্তৃপক্ষ দায় স্বীকার করার পরেই এই নির্মম সত্য তিনি বিশ্বাস করেছেন।

সূত্র : এবিসি নিউজ।

আগের সংবাদভারতে ই-রিকশার রমরমা
পরবর্তি সংবাদসবচেয়ে বেশি যৌন হয়রানির শিকার যে পাঁচ দেশের শিশুরা