
ফাতেহ ডেস্ক : সম্পদের হিসাব বিবরণী দাখিল না করার মামলায় বিচারিক আদালতের দেওয়া দণ্ডের বিরুদ্ধে বিএনপির ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়ার আপিল গ্রহণ করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে জরিমানা স্থগিত করে তাকে ছয় মাসের জামিন দেওয়া হয়েছে।
বিচারপতি মো. শওকত হোসেনের একক বেঞ্চ সোমবার তার করা আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করে এ আদেশ দেন। বিএনপির এ নেতার পক্ষে গত রোববার আপিল দায়ের করেছিলেন আইনজীবী রাগিব রউফ চৌধুরী।
আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী আদালতে আপিলের পক্ষে শুনানি করেন। সঙ্গে ছিলেন ব্যারিস্টার রাগিব রউফ চৌধুরী। অপর দিকে আইনজীবী খুরশীদ আলম খান দুদকের পক্ষে শুনানি করেন।
ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া ১৯৯১-৯৬ সালের সরকারে পূর্তমন্ত্রী ছিলেন। পরে অবশ্য অনেক দিন নিষ্ক্রিয় ছিলেন তিনি। ২০০৭ সালে জরুরি অবস্থা জারির পর ফের বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে কুমিল্লার সাবেক সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম ঢাকার মিরপুরের আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।
আইনজীবী রাগিব রউফ চৌধুরী বলেন, “আদালত আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেছেন। এছাড়া জরিমানা স্থগিত করে ছয় মাসের জামিন দিয়েছেন।”
গত ২০ নভেম্বর সম্পদের হিসাব না দেওয়ায় ব্যারিস্টার রফিকুলকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেন ঢাকার ৬ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক শেখ গোলাম মাহবুব।
১৪ বছর আগের এ মামলার রায়ে বিনাশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি রফিকুলকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম করাদণ্ড দেওয়া হয়।
সাবেক মন্ত্রী রফিকুলের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত না থাকায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। পরে ওইদিন সন্ধ্যায় তাকে গ্রেফতার করা হয়। কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়ায় রফিকুল ইসলাম মিয়াকে রবিবার (২৫ নভেম্বর) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০০১ সালের ৭ই এপ্রিল তৎকালীন দুর্নীতি দমন ব্যুরো সম্পদের হিসাব বিবরণী জমা দিতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য রফিকুল ইসলাম মিয়াকে নোটিশ দিয়েছিল। কিন্তু ২০০৪ সালের ১৫ জানুয়ারি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি হিসাব না দেওয়ায় ব্যুরো কর্মকর্তা সৈয়দ লিয়াকত হোসেন রফিকুলের বিরুদ্ধে ঢাকার উত্তরা থানায় মামলা করেন।
তদন্ত শেষে ওই বছরের ৩০ নভেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দেন ওই কর্মকর্তা। আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে ২০১৭ সালের ১৪ নভেম্বর বিচার আদেশ দেন।
