কওমি মাদরাসায় যেভাবে পালিত হলো বিজয় দিবস

রাগিব রব্বানি

আজ ১৬ই ডিসেম্বর। মহান বিজয় দিবস। দেশব্যাপী বিভিন্ন উদ্যোগে নানা রকমের আয়োজন-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শ্রদ্ধার সঙ্গে পালিত হয়েছে বিজয় দিবস। দেশের নানা প্রান্তে অবস্থিত কওমি মাদরাসাগুলো এ দিনে বন্ধ থাকলেও দেশের জন্য লড়াই করে শাহাদতবরণকারী বীর শহিদদের আত্মার মাগফেরাতের জন্য দোআ করা হয়। কোনো কোনো মাদরাসা আয়োজন করে বিশেষ অনুষ্ঠানের। থাকে স্বাধীনতা বিষয়ক আলোচনা, দেশাত্ববোধক সঙ্গীত এবং সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা।

ফরিদপুরের তালিমুল কুরআন মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা হাবিবুর রহমানের সঙ্গে কথা হয় ফাতেহ২৪-এর বিশেষ প্রতিবেদকের। তিনি জানান, তাঁর মাদরাসা থেকে বিজয় দিবস উপলক্ষে অাজ ছাত্রদের নিয়ে বিশেষ র‍্যালি বের হয়েছিল। র‍্যালি শেষে মাদরাসার হলরুমে কুরআন তেলাওয়াত, হাদিস পাঠ এবং দেশাত্ববোধক সঙ্গীতের এক বিশেষ অনুষ্ঠান হয়। ছাত্ররা আনন্দ ও উৎসাহ নিয়ে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে। অনুষ্ঠান শেষে বিজয় দিবস নিয়ে বিশেষ আলোচনাও করেন স্থানীয় শিক্ষাবিদ ও সমাজসেবকরা। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী ছাত্রদেরকে পুরস্কৃত করেন অতিথিরা।

মাওলানা হাবিবুর রহমান মনে করেন, প্রতিটা মাদরাসায় এভাবে ধর্মীয় ভাবধারায় অনুষ্ঠান করে ছাত্রদেরকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক চেতনায় উজ্জীবিত করা উচিত। এতে তাদের ভেতর দেশপ্রেমের মানসিকতা আরও সুন্দরভাবে তৈরি হবে।

বগুড়ার কলোনি ফারুকিয়া ইসলামিয়া মাদরাসায় আজকের বিজয় দিবস পালিত হয়েছে ব্যতিক্রমী উদ্যোগে। মাদরাসার পরিচালনা কমিটির সভাপতি মাওলানা সালাহুদ্দীন মাসউদ ফাতেহ২৪-কে জানান, ‘বিজয় দিবসের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন পূর্বক আজ আমাদের ফারুকিয়া ইসলামিয়া মাদরাসা, কলোনী, বগুড়ায় ক্লাস বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে মুক্তিযুদ্ধে শহিদদের রুহের মাগফেরাতের উদ্দেশ্যে আমরা কোরআন খতম এবং দোয়ার আয়োজনের পাশাপাশি মাদরাসার ছাত্রদের জন্য বিশেষ খাবারের ইনতেজাম করেছি।’

‘যারা স্বাধীন দেশের জন্য নিজের জীবনটা কোরবানি করে দিয়েছে, তারা আজ আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে নেকির জন্য। নাচগান আর খেলাধুলার আয়োজনের মাধ্যমে শহিদদের সামান্যতম উপকার হবে না। তাদেরকে প্রকৃতপক্ষেই ভালবেসে থাকলে তাদের জন্য নেক আমল করে সওয়াব রেসানি করতে হবে। এ জন্যই আমরা খেলাধুলার আয়োজন না করে দোয়া ও খতমের আয়োজন করেছি।’

রাজধানীর দনিয়াস্থ পলাশপুর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব, মাদরাসা-শিক্ষক মাওলানা ইবরাহিম খলীলের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, বিজয় দিবসে তাঁর ভাবনা কী? উত্তরে তিনি ফাতেহ২৪-কে বলেন, ‘বিজয় দিবসকে শুধু একটি তারিখের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে এটার শিক্ষাকে বিস্তৃত করতে হবে। বাংলার লাখো শহিদ যেই পরাধীনতার শেকল ভাঙার জন্য জীবন দিয়েছেন, সেই পরাধীনতাকে দূর করে সকল মানুষের স্বাধীনতা, নিরাপত্তা ও সুস্থ-স্বাভাবিক জীবন নিশ্চিত করার প্রত্যয় নিতে হবে। এবং তা বাস্তবায়নে চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধে শাহাদতবরণকারী সকল শহিদের আত্মার মাগফেরাতের জন্য ধর্মীয় পন্থা অবলম্বন করতে হবে। বিধর্মীয় পদ্ধতিতে তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের দ্বারা তাদের ক্ষতি করা হয় এই আওয়াজও সবার কাছে পৌঁছে দিতে হবে।’

আগের সংবাদসিরিয়ার একটি মসজিদ গুড়িয়ে দিল মার্কিন-জোট
পরবর্তি সংবাদ‘স্বাধীনতার সূচনা ‘ইনশাআল্লাহ’র মাধ্যমে, সমাপ্তি ‘আল্লাহর রহমত’-এ’