‘জাতীয় শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষায় কোনো কোনো কওমি মাদরাসার অংশগ্রহণ ইতিবাচক’ -আ ফ ম খালেদ

হামমাদ রাগিব

গতকাল ২০১৮ সালের প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি এবং জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। জাতীয় শিক্ষাবোর্ড ও সরকারি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত এ পরীক্ষায় প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে অংশগ্রহণ করে কওমি মাদরাসার অনেক শিক্ষার্থী।

তাদের এ অংশগ্রহণ নিয়ে ফাতেহ টোয়েন্টি ফোরের সাথে কথা বলেছিলেন বিশিষ্ট লেখক ও ইসলামি চিন্তাবিদ, চট্টগ্রামের ওমসান গনি কলেজের অধ্যাপক মাওলানা আ ফ ম খালেদ হোসাইন।জেনারেল শিক্ষাধারার পরীক্ষায় কওমি মাদরাসার শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণকে তিনি ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছেন।

তিনি বলেন, ‘কওমি শিক্ষার্থীদের এ অংশগ্রহণ খুবই ইতিবাচক। এতে তারা দেশের অন্যান্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে নিজের মেধা যাচাই করে নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। এবং নিজেদের পড়াশোনার আগ্রহ অনেক গুণে বাড়াতে পারছে।’

অনেক ক্ষেত্রে, মেধাবী ছাত্রদের অনেকে ওই দিকে একটু ভালো করলে ওই ধারায় নিয়মিত হয়ে যায়, যার কারণে কিছুদিন পর কওমি মাদরাসার পড়াশোনায় তাকে ইস্তফা দিতে হয় অথবা এখানে সে নামকাওয়াস্তে পড়াশোনা চালিয়ে যায়, অভিজ্ঞ মহল থেকে এ ধরণের আপত্তি বেশ আগে থেকেই তোলা হচ্ছে।

এ আপত্তির জবাবে আ ফ ম খালেদ বলেন, ‘এ ব্যাপারটা ঠিক পরীক্ষার কারণে যে ঘটে, এ রকম নয়। কারণ, এর উল্টো চিত্রও কিন্তু আছে। আপনি দেখবেন, অনেকে মেট্রিক পরীক্ষা দেওয়ার পর কওমি মাদরাসায় আসছে। উদাহরণত আমাদের পটিয়া মাদরাসার মুফতি হজরত মাহমুদ হাসান সাহেবের কথা বলতে পারি। তিনি মেট্রিক পাশ করার পর কওমি মাদরাসায় দাওরায়ে হাদিস সম্পন্ন করেছেন।’

কিন্তু এ উদাহরণের তুলনায় এর বিপরীত উদাহরণ অনেক বেশি, এ কথার জবাবে আ ফ ম খালেদ বলেন, ‘এ বাস্তবতা অবশ্যই অনস্বীকার্য। কিন্তু দেখুন, প্রত্যেক মা-বাবাই চান, নিজেদের সন্তান উচ্চ শিক্ষিত হোক। ধর্মপ্রাণ যারা, তাদের চাহিদা থাকে, নিজের সন্তান ধর্মীয় শিক্ষা লাভের পাশাপাশি কিছু ডিগ্রি অর্জন করুক।’

শুধু ডিগ্রি অর্জনের জন্যই কি তবে জেনারেল লাইনের পড়াশোনা? আ ফ ম খালেদ বলেন, ‘না, না, শুধু ডিগ্রির জন্য পড়াশোনা—আমি এভাবে বলতে চাই না। ওদিকের সিলেবাস খুবই উপযোগী এবং মানসম্মত…’

সেক্ষেত্রে, ওই রকম মানসম্মত একটা সিলেবাস কওমি শিক্ষাধারায় করা যায় কি না, এর জবাবে আ ফ ম খালেদ বলেন, ‘মাদরাসার শিক্ষাটা হচ্ছে বিশেষায়িত শিক্ষা। এখানে যদি আপনি স্কুল-কলেজের সিলেবাস ঢোকাতে চান, তবে সে বিশেষায়ন আর থাকবে না। কুরআন-হাদিসের শিক্ষাটা একদিকে যেমন ব্যাহত হবে, অপরদিকে ছাত্ররা এক সঙ্গে এত বোঝা টানতে পারবে না। তবে হ্যাঁ, মাদরাসার দশম শ্রেণি পর্যন্ত একটা বিশেষ ব্যবস্থায় জেনারেল নলেজের সঙ্গে সমন্বয় করে আমাদের সিলেবাসের পুনর্বিন্যাস প্রয়োজন। কাতার, ওমান, আরব আমিরাতসহ মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এমনটা আছে। বেফাক তো বর্তমানে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত জেনারেল শিক্ষার ব্যবস্থা রেখেছে, এটাকে যদি দশম শ্রেণি পর্যন্ত করে আরেকটু আধুনিক সিলেবাস তৈরি করে, এবং এ সিলেবাসের ওপর বোর্ড কর্তৃক বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় বাধ্যবাধকতা জারি করে অধীনস্থ মাদরাসাগুলোতে এর পঠন-পাঠনকে আবশ্যিক করতে পারে তবে বোধহয় এ সমস্যা খানিকটা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।’

এখন তো প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগে অনেক কওমি মাদরাসা তাদের ছাত্রদেরকে ওই ধারায় পরীক্ষা দেওয়াচ্ছে, এ টিকে কীভাবে মূল্যায়ন করা যায়? এ প্রশ্নের উত্তরে আ ফ ম খালেদ বলেন, ‘উল্লেখযোগ্য কোনো মাদরাসা এমনটা করছে না। নিম্ন মাধ্যমিক ও প্রাইমারি লেভেলের প্রাইভেট কিছু মাদরাসা এ ব্যবস্থা রেখেছে। এবং তাদের এ উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবেই আমি নিতে চাই। কারণ, অনেক অভিভাবক আছেন, যারা তাদের সন্তানদের জেনারেল ধারায় পড়াবেন, কিন্তু পাশাপাশি ধর্মীয় শিক্ষাটা প্রয়োজন মাফিক শেখাতে চান—তারা এই সমস্ত প্রতিষ্ঠানে প্রাথমিক পর্যায়ে তাদের সন্তানদের দেন। যাতে জেনারেল ধারাটাও ঠিক থাকে এবং প্রাথমিক ধর্মীয় শিক্ষাটাও হাসিল হয়ে যায়। ক্লাস ফাইভ বা এইট পর্যন্ত পড়ার পর এই সমস্ত শিক্ষার্থীকে আবার স্কুলে নিয়ে যাওয়া হয়। এতে হয় কী, এসব শিক্ষার্থী দীনের একটা চেতনা নিয়ে নিজের ভবিষ্যত গড়তে পারে। আবার অনেক ক্ষেত্রে কোনো কোনো অভিভাবক সন্তানকে স্থায়ীভাবেই মাদরাসায়ই রেখে দেন। স্কুলে আর নেন না। সুতরাং প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগে যে মাদরাসাগুলো জেনারেল ধারায় তাদের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা দেওয়াচ্ছে, ব্যাপারটাকে আমাদের স্বাগত জানানো উচিত।’

আগের সংবাদপ্রার্থীশূন্য আসনে যাদের সমর্থন দিবে বলে ভাবছে বিএনপি
পরবর্তি সংবাদনির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হবে : ইসি