ভোটদানের সময় যেসব বিষয় বিবেচনায় রাখবেন

হামমাদ রাগিব

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন একদম দোড়গোড়ায় এসে হাজির। ৩০শে ডিসেম্বর—কালকের পরের দিনই বাংলাদেশের মানুষ নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে নির্ধারণ করবেন আগামী ৫ বছর জাতীয় সংসদে কারা তাঁদের প্রতিনিধিত্ব করবেন।

ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে গিয়ে সাধারণ মুসলিম ভোটারদের জন্য ঠিক কী কী বিষয় খেয়াল করা উচিত? জানতে চেয়েছিলাম রাজধানীর শায়খ জাকারিয়া ইসলামিক রিসার্চ সেন্টারের মহাপরিচালক, বিশিষ্ট আলেম ও ফকিহ মুফতি মিযানুর রহমান সাঈদের কাছে।

উত্তরে মুফতি মিযানুর রহমান সাঈদ ফাতেহ টোয়েন্টি ফোরকে বলেন, ‘ভোট দিতে গিয়ে ভোটারকে একজন মুসলিম হিসেবে প্রথমে যে জিনিসটা জানতে হবে, সেটা হলো, ভোট যে তিনি দিচ্ছেন, এর অর্থটা কী?

‘ভোট দেওয়ার দুইটা অর্থ রয়েছে। একটা অর্থ হলো সাক্ষ্য দেওয়া। তো একজন মুসলমান হিসেবে প্রত্যেকের সাক্ষ্য তো এটাই হবে, যে, আমি যাকে ভোট দিচ্ছি, তিনি ইসলাম ও দেশের কল্যাণকামিতায় অন্যান্য প্রার্থীদের চেয়ে এগিয়ে। এবং তিনি নির্বাচিত হলে ইসলাম ও দেশের জন্য কাজ করবেন।

‘আরেকটা অর্থ হচ্ছে ‘ওয়াকালাত’। যাকে আপনি ভোট দেবেন, তিনি আপনার পক্ষ থেকে প্রতিনিধি হয়ে সংসদে কথা বলবেন। তখন তাঁর কথাই হবে আপনার কথা। তাঁর মতামত হবে আপনার মতামত। সংসদে যদি তিনি ইসলামের পক্ষে কথা বলেন, দেশের স্বার্থের জন্য কথা বলেন, এবং তাঁর এই কথার দ্বারা ইসলাম ও দেশের কল্যাণ হয়, তবে আপনি সওয়াবের অংশীদার হবেন। পক্ষান্তরে তিনি যদি ইসলামের বিরোধিতা করেন সেখানে গিয়ে এবং দেশেরও ক্ষতি করেন, তবে এর জন্য গোনাহের একটা ভাগ আপনার আমলানামায়ও লেখা হবে।

‘অতএব একজন ভোটারকে ভোট প্রয়োগের সময় এই দুইটা জিনিস খেয়াল রেখে ভোট দিতে হবে। যদি তিনি ইসলামের বিপক্ষের কাউকে, অথবা ইসলামের ক্ষতি করবে—এমন কাউকে ভোট দেন, আর সে নির্বাচিত হয়, তবে তার এই ভোটদান পাপকাজের শামিল।’

কিন্তু অনেকে তো বলেন, ভোটদান বর্জন করা উচিত, কারণ এখানে ইসলামপন্থী সম্ভাবনাময় এমন কেউ নেই, যিনি নির্বাচিত হয়ে সংসদ পর্যন্ত যেতে পারবেন! ফাতেহ টোয়েন্টি ফোরের এই কথার জবাবে মুফতি সাঈদ বলেন, ‘না, ভোট বর্জন করা উচিত—কথাটা যেভাবে বলা হয়, সেভাবে সঠিক না। ভোট কখন বর্জন করবেন, এর একটা রূপরেখা আছে। রূপরেখার সঙ্গে না মিললে ভোট বর্জন করা যাবে না।

‘দুইটা অপশন আছে। একটা হলো, ভোট দেওয়ার দ্বারা ইসলামের উপকার হবে। আরেকটা, ভোট দেওয়ার দ্বারা ইসলামের উপকার হবে না, তবে ক্ষতি থেকে বাঁচা যাবে। এই দুই অবস্থায় ভোট দিতেই হবে। দেওয়াটা জরুরি। এখানে ভোট বর্জন করার কোনো সুযোগ নেই।

‘আরেকটা অপশন আছে। ভোট দিলে ইসলামের উপকার তো হবেই না, উল্টো আরও ক্ষতি হবে। যদি এমন কোনো পরিস্থিতি দাঁড়ায়, সে ক্ষেত্রে ইসলাম অনুমতি দিয়েছে যে, ভোট বর্জন করা যাবে।

‘এখন তো মাশাআল্লাহ, ইসলামের পক্ষে প্রত্যেকটা আসনেই প্রার্থী আছেন, ভোট দেওয়ার একটা জায়গা আছে, এই পরিস্থিতিতে আমাদের জন্য ভোট বর্জনের কোনো সুযোগ নেই। ভোট দিতে হবে, এবং ভোট যে একটা সাক্ষ্যদান এবং ওয়াকালাত—এটা মাথায় রেখেই দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে আপনার ভোটের দ্বারা ইসলামপন্থী প্রার্থী পাশ করবে কি করবে না, এটা দেখার কোনো প্রয়োজন নেই।’

আগের সংবাদজনগণই আমাদের ক্ষমতায় বসাবেন : কাদের
পরবর্তি সংবাদস্বতন্ত্র ইসলামি দলের প্রার্থীকে ভোট দেওয়া কি অর্থহীন?