স্বতন্ত্র ইসলামি দলের প্রার্থীকে ভোট দেওয়া কি অর্থহীন?

রাগিব রব্বানি

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বড় দুই রাজনৈতিক জোট—মহাজোট ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বাইরেও কয়েকটি ইসলামি দল স্বতন্ত্রভাবে অংশগ্রহণ করছে। এর মধ্যে ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ প্রায় সবক’টি আসনে দলীয় প্রতীক হাতপাখা মার্কায় প্রার্থী দিয়েছে।

বড় দুই জোটের বাইরে থাকা স্বতন্ত্র এ ইসলামি দলগুলোর কোনো প্রার্থীরই জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা খুব একটা নেই। সাধারণ ভোটারদের অনেকেই তাই প্রশ্ন করছেন, জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা যেখানে নেই, সেখানে আমার ভোটটা শুধু শুধু নষ্ট করব কেন?

এ প্রশ্নকে সামনে রেখে কথা বলেছিলাম ইসলামি আন্দোলনের নির্বাচন বিষয়ক মুখপাত্র মাওলানা ইমতিয়াজ আলমের সঙ্গে। তিনি ফাতেহ টোয়েন্টি ফোরকে বলেন, ‘নির্বাচন সুষ্ঠু হলে আমরা বিশ্বাস করি প্রতিটা আসনেই আমাদের জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই, জয়ী হতে পারবে না বলে ইসলামের পক্ষের প্রার্থীকে ভোট দেবেন না, এ প্রশ্ন অবান্তর। তারপরও যারা এ প্রশ্ন করছেন, তাদের ক্ষেত্রে আমাদের উত্তর হলো, ভোট একটি আমানত। এই আমানতটা যাতে ধর্মপ্রাণ মানুষ সঠিক জায়গায় রাখতে পারেন, সেজন্যই আমরা প্রতিটা আসনে প্রার্থী দিয়েছি।

রাজধানীর শায়খ জাকারিয়া ইসলামিক রিসার্চ সেন্টারের মহাপরিচালক, বিশিষ্ট আলেম মুফতি মিযানুর রহমান সাঈদের কাছে জানতে চেয়েছিলাম, স্বতন্ত্র ইসলামি দলগুলো যেহেতু জয়ী হবার খুব একটা সম্ভাবনা নেই, তো তাদের প্রার্থীদের ভোট দেওয়া কি অর্থহীন নয়?

উত্তরে তিনি বলেন, ‘জয়-পরাজয়ের কোনো কথা নেই, শরিয়াহর বিধান হলো, আমি যাকে ভোট দিচ্ছি, তার দ্বারা ইসলামের কতটা ফায়দা হবে, বা তার দ্বারা ইসলাম কতটা সুরক্ষিত থাকবে, সেটা দেখা। এবং সেটা দেখে ভোটের জন্য নিজের পছন্দ ঠিক করা। এক জায়গায় কয়েকজন প্রার্থী আছেন, দেখতে হবে এখানে কে সবচেয়ে বেশি ইসলাম-বান্ধব। যে সবচেয়ে বেশি ইসলাম-বান্ধব হবে আপনার বিবেচনায়, তাকেই আপনি ভোট দেবেন। কিন্তু যদি কোনো প্রার্থীই এখানে ইসলাম-বান্ধব না হন, তবে দেখতে হবে এদের মধ্যে কে নির্বাচিত হলে ইসলামের কোনো ক্ষতি হবে না। আপনার বিবেচনায় যাকে মনে হবে, ইসলামের ক্ষতি করবে না, তাকেই আপনি ভোট দেবেন। আর যদি প্রার্থীদের মধ্যে সকলেই এমন হন যে, এরা প্রত্যেকেই ইসলামের জন্য ক্ষতিকর, তবে তখন আপনি ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকতে পারেন। এই হলো শরয়ি দৃষ্টিকোণ। এখানে কে জয়ী হবে আর কে পরাজিত, তা দেখে ভোট দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’

কিন্তু অনেক আসনে তো ইসলামপন্থী একাধিক প্রার্থী রয়েছেন, ধর্মপ্রাণরা এ ক্ষেত্রে কাকে বাছাই করবেন? এ প্রশ্নের জবাবে মুফতি সাঈদ বলেন, ‘সেটা তো আগেই বলেছি, প্রত্যেকের ব্যক্তিগত বিবেচনায় যাকে মনে হবে ইসলামের জন্য বেশি কল্যাণকামী, তাকেই তিনি ভোট দেবেন।’

আগের সংবাদভোটদানের সময় যেসব বিষয় বিবেচনায় রাখবেন
পরবর্তি সংবাদভোটকেন্দ্রে মোবাইল ব্যবহার করা যাবে না : ইসি সচিব