
ফাতেহ ডেস্ক
সিরিয়ার মতো পুরোপুরি না হলেও, আফগানিস্তান থেকে অর্ধেক সেনা সরানোর ইঙ্গিত দিয়েছে আমেরিকা।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্য, এখানেও আর ১৪ হাজার সেনা রাখার কোনও প্রয়োজন নেই। গোড়ায় সরাসরি এ নিয়ে মুখ না খুললেও, কাল বোমা ফাটিয়েছে আফগান তালেবান।
তাদের হুমকি, আফগানিস্তান থেকে এখনই পাততাড়ি না-গোটালে, আশির দশকে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের মতোই হাল হবে আমেরিকার।
সিরিয়া থেকে সেনা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্তে ঘরে-বাইরে সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন ট্রাম্প। মতের মিল না হওয়ায় ইস্তফা ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব জিম ম্যাটিস।
ট্রাম্পের প্রশাসন তবু এক পা-ও পিছু না হটে জানিয়ে দেয়, সেনা সরানো হবে আফগানিস্তান থেকেও। এতে ভারতের উপর নিরাপত্তাজনিত চাপ বাড়বে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। মার্কিন সেনা কমলে জঙ্গিরা শুধু আফগানিস্তানে নয়, পাকিস্তান, এমনকি কাশ্মীরেও নতুন করে হানা দেওয়ার সুযোগ খুঁজবে বলে মনে করছে নয়াদিল্লি। ভারতকে তাই নিজের যুদ্ধ নিজে লড়ার জন্য তৈরি থাকার পরামর্শও দিচ্ছেন অনেকে।
প্রায় এক দশক আফগানিস্তানকে নিজেদের দখলে রাখার পরে, ১৯৮৯-এ সেনা প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়েছিল তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন। গৃহযুদ্ধে টালমাটাল সেই সময়েই তালিবান-সব বেশ কয়েকটি দলের উত্থান হয় আফগানিস্তানে।
তারপর আড়েবহরে বাড়তেই থাকে তালিবান। গোড়ায় আমেরিকা বিশেষ নাক গলায়নি। কিন্তু ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর পেন্টাগন এবং ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে ভয়াবহ হামলার পরেই আল কায়দার মাথা ওসামা বিন লাদেনের খোঁজে আফগানিস্তানের সঙ্গে সরকারি স্তরে কথাবার্তা শুরু করে ওয়াশিংটন।
কাবুলের তৎকালীন তালেবান সরকার কিন্তু তাতে সাড়া দেয়নি। এবং এর জেরেই আফগানিস্তানে সেনা পাঠায় আমেরিকা। হোয়াইট হাউস সূত্রের খবর, ১৪ হাজার থেকে কমিয়ে এখন সেখানে ৭ হাজারের বেশি সেনা রাখতে চাইছেন না প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
